Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

খালেদা জিয়ার দিল্লি সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পশ্চিমা কূটনীতিকরা

বশীর আহমেদ
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিরোধী দলের নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ সফর নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা থাকলেও কূটনৈতিক মহলে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা এই সফরে খুবই খুশি। তারা বলছেন, বিএনপি ভারতের ব্যাপারে যে নতুন অবস্থান নিয়েছে তা ইতিবাচক। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সব দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার যে নীতি দিল্লি নিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। সব মিলিয়ে এই সফর দু’দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বেগম খালেদা জিয়ার এই সফরের বিষয় নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পশ্চিমা কূটনীতিকদের বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে বলে তারা জানান। বেগম খালেদা জিয়ার দিল্লি সফর সম্পর্কে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তা আমার দেশ-কে বলেন, এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র খুবই খুশি। সফরের পরপরই ভারতীয় হাইকমিশনার পংকজ সরণ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনার সঙ্গে বৈঠক করে সফরের ফলাফল সম্পর্কে তাকে অবহিত করেছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত রীতিমত অভিভূত। ভারতের ব্যাপারে বিএনপি যে নতুন অবস্থান নিয়েছে তা এই অঞ্চল, তথা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য ইতিবাচক। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এ অঞ্চলে একটি সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল যদি ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করে, তা খুবই ইতিবাচক হবে। কর্মকর্তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশের স্বার্থেই এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোকে বৃহত্ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ভারতের উচিত বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন বেগম খালেদা জিয়ার দিল্লি সফরকে স্থিতিশীল দক্ষিণ এশিয়া গঠনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে মন্তব্য করে আমার দেশ-কে বলেন, এই সফরটিকে আমি খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক্ষেত্রে এই সফর সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্রিটিশ হাইকমিশনের একজন শীর্ষ কূটনীতিক এ সফর সম্পর্কে আমার দেশ-কে বলেন, দুই পক্ষই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক বছর আগে এই সফরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ভারতের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
বাংলাদেশের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি ভারতের বিশেষ দুর্বলতা আছে বলে যে প্রচারণা রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ভারত। ভারতের এই মনোভাবকে আমরা স্বাগত জানাই। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া ভারত বিরোধিতার পরিবর্তে নতুন সম্পর্ক গড়ার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তা খুবই ইতিবাচক। আমরা মনে করি দু’পক্ষই লাভবান হয়েছে এ সফরের মাধ্যমে।
বেগম খালেদা জিয়ার দিল্লি সফর সম্পর্কে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের এক মুখপাত্র আমার দেশ-কে বলেন, জার্মানি বাংলাদেশ বা ভারতকে নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করে না। আমরা দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে ভাবি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কটা সুদৃঢ় হওয়া দরকার। বেগম খালেদা জিয়া দিল্লিতে গিয়ে যেসব কথাবার্তা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি এবং তার দল কট্টর ভারতবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। এটা বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে যাবে বলে আমরা মনে করি।