Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পৃথক কমিটি ঘোষণা : সরকার সমর্থক আইনজীবী দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আওয়ামী সমর্থক আইনজীবী সংগঠনগুলোর মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের বিবদমান দুটি গ্রুপ পৃথক সমাবেশ করেছে। পরিষদের বর্তমান আহ্বায়ক ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামকে পাশ কাটিয়ে বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদারকে নতুন আহ্বায়ক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে একটি গ্রুপ। এদিকে ব্যারিস্টার আমীরের সভাপতিত্বে পৃথক এক সভা থেকে নতুন কমিটি করার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনকে আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সুপ্রিমকের্টের পৃথক স্থানে সভা দুটি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে কার্যত ভেঙে গেল সরকার সমর্থক আইনজীবীদের এ মোর্চা।
আবদুল বাসেত মজুমদারের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে সভা করে। আমীর-উল ইসলাম সমর্থক গ্রুপ সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির শহীদ শফিউর রহমান অডিটরিয়ামে সভা করে।
বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাসেত মজুমদারের সমাবেশে ছিলেন সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ব্যারিস্টার আমীরের সমাবেশে ছিলেন সাহারা খাতুন। বাসেত মজুমদারকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি করা দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন সাহারা ও আমীর। এ প্রসঙ্গে সাহারা বলেছেন, সিনিয়র আইনজীবীদের বৈঠকে সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতায় বাসেত মজুমদার ও লায়েকুজ্জামান মোল্লার সম্মতি ছিল। অপরদিকে নতুন কমিটির আহ্বায়ক বাসেত মজুমদার বলেছেন, শিগগিরই সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। আজকের এ সভা আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীদের আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের দুর্বৃত্তায়ন থেকে রক্ষা পাবেন আইনজীবীরা। উভয় কমিটির নেতারা এ ভাঙনের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছেন।
আবদুল বাসেত মজুমদার গ্রুপের সভা : বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ‘সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রতিনিধি সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। আবদুল বাসেত মজুমদারের সভাপতিত্বে সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এ সভা সকালে উদ্বোধন করে সাজেদা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের অপতত্পরতা রুখতে প্রগতিশীল সব সংগঠন ও শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রগতিশীল শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তারা পরাস্ত হবে। সভার শুরু থেকেই সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের বর্তমান কমিটির তীব্র সমালোচনা করা হয়। একইসঙ্গে বর্তমান কমিটির নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক শ.ম. রেজাউল করিমের পরিচালনায় দিনব্যাপী এ সভায় আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, এমএ কুদ্দুস, শেখ আখতারুল ইসলামসহ বিভিন্ন জেলার নেতারা বক্তব্য দেন। এরপর বিকালে বাসেত মজুমদারকে আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বাসেত মজুমদার বলেন, সমন্বয় পরিষদ বন্দী হয়ে পড়েছে। এ পরিষদকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বার কাউন্সিলের নির্বাচনে সরকার সমর্থক আইনজীবীদের পরাজয়ের জন্য বিরোধীপক্ষকে দায়ী করে বলেন, প্রথম প্যানেল না রেখে তিনবার প্যানেল পরিবর্তনের কারণে এ পরাজয়। আমরা আবার আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আবার সুপ্রিমকোর্টে আওয়ামীপন্থীদের বিজয় হবে।
আমীর-উল ইসলাম গ্রুপের সভা : এদিকে একই দিন পাল্টা সমাবেশ করেছেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম সমর্থিত আইনজীবীরা। ব্যারিস্টার আমীরের সভাপতিত্বে সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতি ভবনে আয়োজিত এ সভার প্রধান অতিথি সাহারা খাতুন বলেন, আইনজীবীরা সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে চেয়েছিলাম এবং থেকেছিও। তারপরও বাসেত মজুমদারের নেতৃত্বে আরেকটি সমন্বয় পরিষদের প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। একটি কমিটি থাকার পরও আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে—এটা ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, যখন সমন্বয় পরিষদ গঠন করা হয়, তখন এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। বর্তমানে তিনি এ পরিষদের আহ্বায়ক। আগামী সম্মেলনে তাকে আহ্বায়ক রাখার কথা ছিল। বার কাউন্সিল, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি বিভিন্ন বার সমিতির নির্বাচনে আমাদের বিভক্তির কারণে হেরেছি। এই বিভক্তি নিরসনের দায়িত্ব ছিল সিনিয়র আইনজীবীদের।
তিনি বলেন, আজ জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করতে আইনজীবীদের ঐক্য জরুরি। যুদ্ধাপরাধের বিচার শেষ পর্যায়ে; এ বিচার সম্পন্ন করতে আইনজীবীদের ভূমিকা রয়েছে। তাই আমাদের আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আশা করি সবাই একই পথে ফিরে আসবেন।
ব্যারিস্টার আমীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির মধ্যে এই দ্বিধাবিভক্তি আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা এই বিভক্তি ও দ্বন্দ্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। আমার প্রাণের স্পন্দন এই সংগঠন। কিন্তু আজ যে ঘটনাটি ঘটে গেল, এরচেয়ে লজ্জাজনক আমার জীবনে আর কিছু আসেনি। যেখানে আমি আহ্বায়ক হিসেবে একটি সভায় সভাপতিত্ব করছি, সেখানে আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
পরে সাহারা খাতুনকে আহ্বায়ক এবং সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মো. মোমতাজ উদ্দিন মেহেদীকে সদস্য সচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।
মোমতাজ উদ্দিন মেহেদীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির সহ-সভাপতি কেএম সাইফুদ্দিন, সৈয়দ রেজাউর রহমান, মো. মোস্তফা, মাহবুব আলী, আবদুল্লাহ আবু, সুব্রত চৌধুরী, মোল্লা আবু কাউসার, জাহিদুল বারী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।