Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মুসলিম বিশ্বের জন্য গভীর শোকের দিন

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আজ পবিত্র আশুরা। আরবি বছরের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ। মুসলিম বিশ্বের জন্য হৃদয়বিদারক ও গভীর শোকাবহ দিন আজ। হিজরি ৬১ সালের মহররমের আজকের দিনে কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহাপুরুষ, সাইয়্যেদুল মুরসালিন রাহমাতুল্লিল আল আমিন মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) দৌহিত্র ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদাতবরণ করেছিলেন। ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে এজিদ বাহিনীর হাতে ইমাম হোসেন (রা.) সপরিবারে সঙ্গী-সাথীসহ নির্মমভাবে শহীদ হন। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ক্ষমতালিপ্সু এজিদ বাহিনীর হাতে সপরিবারে ইমাম হোসেনের (রা.) নিহত হওয়ার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করে রেখেছে। মুসলিম বিশ্ব আজকের দিনটিকে গভীর শোকের দিন হিসেবে পালন করে আসছে।
এজিদ বাহিনীর হাতে ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদাতবরণের ঘটনা ছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে আরও অনেকতাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা মহররমের ১০ তারিখে ঘটেছিল। মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদমকে (আ.) এ দিনেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে এ দিনই দুনিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছিল। এ দিনেই হজরত নূহের (আ.) নৌকা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পেয়ে পাহাড়ে এসে থামে। ইতিহাসের এ দিনেই মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ভূমিষ্ঠ হন এবং তাঁকে যখন নমরূদের আগুনের কুণ্ডলিতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এ দিনেই তিনি সেখান থেকে অক্ষত অবস্থায় বের হয়ে আসেন। হজরত আইউব (আ.) এ দিনেই কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেছিলেন। এ দিনেই হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তিলাভ করেন। হজরত মুসা (আ.) লাঠি দিয়ে রাস্তা বানিয়ে নীলনদ পার হন আশুরার এ দিনেই।
ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনার কারণে বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা এ দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও মর্যাদার সঙ্গে পালন করে থাকেন। নফল রোজা রাখাসহ কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিবসটি পালন করেন। মসজিদে মসজিদে আলোচনা সভা, জিকির ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে। ইমাম হোসেনের (রা.) শাহাদাতকে স্মরণীয় করে রাখতে শিয়া সম্প্রদায় প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ তাজিয়া মিছিল বের করবে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপন করবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আজ সারাদেশে সরকারি ছুটি। এ উপলক্ষে রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এ উপলক্ষে পত্রিকা অফিস আজ বন্ধ থাকবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক তাত্পর্যময় শোকাবহ দিন। আমি এ দিনে কারবালার প্রান্তরে শাহাদাতবরণকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। তিনি বলেন, শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলাম সব সময় সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব প্রদান করে। সত্য ও ন্যায়ের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য হজরত ইমাম হোসেন (সা.) ও তার ঘনিষ্ঠরা এ দিনে কারবালায় শহীদ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগ মানব ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে আছে। পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে এবং অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরা মানবেতিহাসের একটি তাত্পর্যপূর্ণ দিন। বিভিন্ন কারণে এদিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম মহানবীর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবারবর্গ কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সব অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, ১০ মহররম সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য খুবই তাত্পর্যময় দিন। অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেনকে (রা.) অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কারবালা প্রান্তরের সেই লোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা আজও মানুষকে কাঁদায় এবং বেদনার্ত করে। সমাজ ও রাষ্ট্রে সত্য এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর আত্মত্যাগ বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তিনি বলেন, অন্যায়, অবিচার, অন্যায্য, অবৈধ অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়া প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। ইসলাম আমাদের সে শিক্ষাই দেয়। মহানবীও (সা.) অন্যায়কে প্রতিহত করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তাঁর উম্মত হিসেবে আমাদের কর্তব্য যে কোনো গণবিরোধী ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কৃত অনাচার আর অবৈধ ক্ষমতার দাপটে মানুষকে দমিয়ে রাখার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এছাড়া আরও বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়াসহ বিভিন্ন মহল।
কর্মসূচি : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে হিজরি নববর্ষ ও আশুরার গুরুত্ব তাত্পর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া এমপি। এছাড়া বাদ মাগরিব ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ওয়াজ করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গাউসুল আযম মসজিদের খতিব মাওলানা বায়তুল আমিন খানসহ বিশিষ্টজনরা।