Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আশুলিয়ায় গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮ জনের মৃত্যু

সাভার প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তোবা গ্রুপের তাজরিন ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি গার্মেন্টে গতকাল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী অন্তত ৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন—মরিয়ম (২৫), শারমীন (২০), জুলেখা (২৫), আবদুল কাদের (২৫), আয়শা বেগম (২৮) ও মারুফ (২২)। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক কর্মী। অগ্নিদগ্ধ নারী শ্রমিকদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে ২০-২৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, বাকিদের স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নেভানোর অভিযানে অংশ নেয়। তবে পানির সঙ্কটের কারণে আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হয়েছে। আশপাশে কোনো জলাশয় না থাকায় পানি সংগ্রহ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ৫টি ফ্লোরে থাকা মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। রেডক্রিসেন্ট এবং সেনা সদস্যরা উদ্ধার তত্পরতায় অংশ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় লাগা আগুন রাত পৌনে ১২টায় নিয়ন্ত্রণে আসে।
কারখানাটির সহকারী ব্যবস্থাপক শাফায়াত জামিল জানান, সন্ধ্যায় নিচতলায় সুতার গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর শ্রমিকরা আতঙ্কে উপরের বিভিন্ন তলায় আশ্রয় নেয়। উপরেও আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকলে বহু শ্রমিক প্রাণ বাঁচাতে লাফ দেয় এবং আহত হয়।
দমকল বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার আবু মো. নঈম শহীদুল্লাহ তদারক করেন। আগুন নিচতলা থেকে অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাত্ক্ষণিকভাবে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আগুন লাগার পর কারখানাটির ৮তলা ভবনের ভেতরে দুই থেকে তিন হাজার শ্রমিক আটকা পড়েন। নিচের ফ্লোরগুলোর অনেকেই দ্রুত বের হয়ে আসতে পারলেও উপরের ফ্লোরগুলোতে শ্রমিকরা আটকা পড়েন। প্রাণে বাঁচতে অনেকে ভবন থেকে লাফ দিয়ে আহত হন। ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় সহস্রাধিক শ্রমিক দীর্ঘক্ষণ আটকে ছিল। উপরের ফ্লোরগুলোতে আটকা পড়া অনেক শ্রমিক তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছে তাদের উদ্ধার করার জন্য টেলিফোনে আকুতি জানাচ্ছিলেন। কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ শামসুর রহমান জানান, নিচতলায় সুতার গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পরে তা সারা ফ্যাক্টরিতে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে আগুন আতঙ্কে পার্শ্ববর্তী সোহাগ গাজীর মালিকানাধীন চারতলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, কেন বারবার মিল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটছে, এত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, তার কারণ খতিয়ে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দ্রুত সুচিকিত্সার জোর দাবি জানান।