Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ধসে বহু হতাহত : ৮ লাশ উদ্ধার, পুলিশ ফাঁড়ি ও ঠিকাদার অফিসে আগুন, রাবার বুলেট টিয়ারশেল, উদ্ধারে সেনাবাহিনী

চট্টগ্রাম ব্যুরো
পরের সংবাদ»
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন একটি ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে বহু লোক হতাহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে ৮ জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ হতাহতের কোনো সংখ্যা জানাতে পারেনি। গার্ডারের নিচে অনেকেই চাপা পড়ে আছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আহতদের নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারকে শত কোটি টাকার এ কাজটি দেয়া হয়েছিল। গতকালের মর্মান্তিক দুর্ঘটনাসহ এ ফ্লাইওভারে এ নিয়ে তিনবার দুর্ঘটনা ঘটল।
দুর্ঘটনার পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা দেখে জনমনে ধারণা জন্মে যে বহু লোক নিহত হয়েছে এবং লাশ সরিয়ে ফেলা হতে পারে বলে এ অবস্থায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে প্রতিরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর রাবার বুলেট ছুড়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ ও সাংবাদিকদের ১০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। জনতা চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও উপ-কমিশনারের গাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছে।
রাত পৌনে দশটায় পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। জনতার বাধার মুখে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার তত্পরতায় অংশ নিতে পারছে না। তাই ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছে এবং কতজন হতাহত হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। রাত সাড়ে ৯টায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত জনতাকে সরিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর বহদ্দারহাট খাজা রোডের মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়ে ঠিকাদারের সাইট অফিস ও নির্মাণসামগ্রী পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া লাশ গুম করে ফেলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে লোকজন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বিক্ষুব্ধ জনতাকে সামলাতে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ ও বিজিবি।
একপর্যায়ে পুলিশ লোকজনকে সরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় ঘটনাস্থলের চারপাশের সড়ক বন্ধ করে দিলে লাশ গুম করার আশঙ্কায় লোকজন আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পুলিশ জনতার ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যেও বিক্ষুব্ধ মানুষ এ ঘটনায় সিডিএ চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুস সালামের পদত্যাগ এবং তাকে গ্রেফতারের দাবিতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তারা বহদ্দারহাট পুলিশবক্স এবং সিডিএ চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন ওয়েল ফুড নামের মিষ্টির দোকানে হামলা করে। এছাড়া কয়েকটি যানবাহনও ভাংচুর করা হয়।
এটি ফ্লাইভারটির তৃতীয় দুর্ঘটনা। এর আগে গত বুধবার বহদ্দারহাট এলাকায় ফ্লাইওভারের একটি লোহার পাত পড়ে একটি প্রইভেট কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একজন আহত হন। গত ২৯ জুন একইভাবে একটি গার্ডার ভেঙে পড়ে আহত হয়েছিলেন এক রিকশাচালক। ওই সময়ও সিডিএ চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি উঠেছিল। তবে সিডিএ চেয়ারম্যান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সে সময় ঘটনটি ধামাচাপা দেন। ওই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, ১০৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ দলীয় বিবেচনায় দেয়া হয় অযোগ্য আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারকে। আর এ কারণেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে; ঘটছে প্রাণহানি। গত ১৪ অক্টোবর খোদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম রাঙ্গুনিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে ফ্লাইওভার নির্মাণ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমি শুনেছি ফ্লাইওভারের কাজ অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে। এটাও এক ধরনের দুর্নীতি। মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরও রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষমতাধর হওয়ায় সিডিএ চেয়ারম্যান বহাল তবিয়তে থেকে গেছেন। এদিকে এ ঘটনায় সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ব্যাপক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে সিডিএর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন।
শুরু থেকেই বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আগামী ডিসেম্বরের মাধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত শেষ হয়েছে মাত্র ৮৭ শতাংশ। কয়েক দিন আগে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাজা রোডের মুখে বহদ্দার পুকুরপাড়ে প্রতিদিনের মতো গতকালও অস্থায়ী বাজার বসেছিল। এজন্য সেখানে প্রচুর ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। এছাড়া অনেক পথচারী পায়ে হেঁটে ওই এলাকা অতিক্রম করছিলেন। এ অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের তিনটি গার্ডার একই সময়ে ভেঙে পড়ে। এসময় গার্ডারের নিচে থাকা লোকজন চাপা পড়েন। মুহূর্তেই ওই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাপা পড়া মানুষের আর্তনাদ। স্থানীয়রা ছুটে এসেও ভারী ও বিশালাকার গার্ডার নড়াতে না পেরে অসহায়ের মতো ছোটাছুটি শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গেলেও বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়ে ঘটনাস্থলে যথাসময়ে পৌঁছতে পারেননি। স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ঠিকাদারের সাইট অফিস ও মালামাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর সিডিএর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। রাতে তাদের কয়েকজনের বাসায় ফোন করে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ঠিকাদারের নিয়োজিত লোকজনও ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তবে সিডিএর সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ২৯ জুন গার্ডার ধসে পড়ার পর প্রকল্প পরিচালক হাবিবুর রহমানকে সরিয়ে দেয়া এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কেন জানি না, চেয়ারম্যান সাহেব প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি। সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সিডিএ চেয়ারম্যানের বিচার দাবি করেছেন।
এ ঘটনার পর সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। এদিকে প্রধান প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাপান সফরে রয়েছেন।
এদিকে ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএর নির্মাণাধীন এ ফ্লাইওভারে এ নিয়ে তিন বার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় নগরবাসীর মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এত টাকা ব্যয়ে কি মরণফাঁদ তৈরি হচ্ছে? কেননা, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই যেটি ভেঙে পড়ে, নির্মিত হওয়ার পর কী অবস্থা দাঁড়াবে তা নিয়ে ব্যাপক শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং অনিয়মের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা অভিযোগ করেন, ফ্লাইওভার নির্মাণকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তাদের ফ্লাইওভার নির্মাণে অনিয়মের কারণে কর্মরত এক ইঞ্জিনিয়ার এরই মধ্যে পদত্যাগ করে চলে গেছেন। এ সময় তারা এ ধরনের ফ্লাইওভার করার চেয়ে না করা ভালো বলে মন্তব্য করেন। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে জনমনে বিশেষ করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ প্রকল্পে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইঞ্জিনিয়ার প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি স্থাপনা নির্মাণে যে ধরনের নির্মাণসামগ্রী এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করার কথা, এখানে তার তুলনায় খুবই কম ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া এখানে যারা নমুনা পরীক্ষা করে তারাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লোক বলে জানান তিনি। এ কারণে কেমিক্যালের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করলেও তারা কখনও কিছুই বলে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ফ্লাইওভারের উচ্চতা আট মিটার বা ২৬ ফুটের মতো। ফ্লাইওভারের একটি পিলারের থেকে অপর পিলারের দূরত্ব ১৩০ ফুটের মতো। গার্ডারের দৈর্ঘ্য ১৩৮ ফুট। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে সর্বমোট ২৪টি পিলার রয়েছে। একটি গার্ডার তৈরি করতে খরচ হয় ১৪ লাখ টাকা। ফ্লাইওভারের ওপরে সেন্টারিং করে বিশালাকারের আরসিসি গার্ডারগুলো জমানো হচ্ছে। গার্ডারটি ওপর থেকে নিচে পড়া বেশ অস্বাভাবিক একটি ব্যাপার বলে মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, মারাত্মক রকমের অবহেলার কারণে গার্ডারটি ভেঙে পড়েছে।
উল্লেখ্য, সিডিএর তত্ত্বাবধানে ১০৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এক দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফ্লাইওভারের প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারসহ পাঁচটি ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আগামী ডিসেম্বরে ফ্লাইওভারটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ ফ্লাইওভার নির্মাণের কার্যাদেশ পায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা কাজটি না করে পারিশা এন্টারপ্রাইজ ও মীর আক্তার এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই নির্মাণকাজ করছে।
বিএনপি নেতাদের নিন্দা : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেকমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, গোলাম আকবর খোন্দকার, আসলাম চৌধুরী, ডা. শাহাদাত হোসেন, মনোয়ারা বেগম মনি পৃথক পৃথক বিবৃতিতে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে প্রাণহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, কিছুদিন আগেও ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনা হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চট্টগ্রাম সফরকালে ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু তারপরও সিডিএ এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। নেতারা বলেন, ফ্লাইওভার দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা সরকারের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ। নেতারা বিবৃতিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তপূর্বক ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কীভাবে ফ্লাইওভার নির্মাণের কার্যাদেশ পেল এবং তাদের পূর্ব যোগ্যতা রয়েছে কিনা তা জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানান। দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।