Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ধর্মঘট সাময়িক শিথিল : শেবাচিমে চারদিনে ৩৫ রোগীর মৃত্যু

বরিশাল অফিস
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাসের পরও পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সক ধর্মঘট। আজ সকাল ৮টায় চিকিত্সকদের কাজে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও দাবি আদায়ে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা মিছিল-মিটিংসহ নানা কর্মসূচি পালন করে ধর্মঘট শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বিকেলে স্বাচিপ ও বিএমএ নেতাদের সঙ্গে ইন্টার্নি চিকিত্সকদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত্ত নেয়া হয়। তবে আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা না হলে পুনরায় ধর্মঘটে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন চিকিত্সকরা। টানা চারদিনের ধর্মঘটে এ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৩৫ জন রোগী।
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপারের পাঠানো ফ্যাক্স বার্তার বরাত দিয়ে বৈঠকে অংশ নেয়া স্বাচিপ নেতা ও ইন্টার্নি ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, ডাক্তারের উপর হামলাকারী পুলিশ কনস্টেবল মো. মামুনের পাঁচ দিনের ছুটি বাতিল করে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ লাইনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের পরিচালকের দায়ের করা মামলার অগ্রগতির পাশাপাশি ক্যাম্পাসে দ্রুত পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাস পাওয়ার পর ধর্মঘট শিথিল করে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা না হলে পুনরায় ধর্মঘটে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন চিকিত্সক নেতারা।
এ ব্যাপারে বিএম’র সভাপতি ডা. ইসতিয়াক হোসেন আমার দেশকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের দ্বারা ডাক্তার লাঞ্ছিতের ঘটনা বেড়েছে। একের পর এক হামলার ঘটনায় কর্মরত চিকিত্সকদের ভাবিয়ে তুলছে। ক্যাম্পাসে কোনো পুলিশ ক্যাম্প না থাকায় সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে হামলাকারীরা। তিনি বলেন, ইন্টার্নি চিকিত্সকদের দাবির বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস পেয়েছি।
আগামী ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে চিকিত্সকরা ফের আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইন্টার্নি ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মেহেদী হাসান বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১৩ ডিসেম্বরের পর হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। ইন্টার্নি ডা. অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম নেতা রিপন কুমার রায় বলেন, বিএমএ ও স্বাচিপ নেতাদের অনুরোধের পর আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার না করে সাময়িক শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিদিন সকাল ৮টায় কাজে যোগ দিলেও ২ ঘণ্টা করে মিছিল-মিটিংসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। রোগীদের কথা বিবেচনা করে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পুনরায় ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে।
বৈঠকে বিএমএ’র সভাপতি ডা. ইসতিয়াক হোসেন, সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান চুন্নু, স্বাচিপ সভাপতি মো. কামরুল হাসান সেলিম, ইন্টার্নি চিকিত্সক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন কুমার রায়সহ ইন্টার্নি চিকিত্সকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে টানা চারদিনের ধর্মঘটে হাসপাতালে চিকিত্সা সেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। চিকিত্সা সেবা না পেয়ে অসংখ্য রোগী হাসপাতাল ছেড়ে ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে। আর্থিক সঙ্গতি না থাকার পরেও গত চারদিনে জীবন বাঁচাতে অনেকটা বাধ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ শতাধিক রোগী। এছাড়া ধর্মঘট চলাকালীন সময় গত চারদিনে ৩৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পলিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মুনসুর আলীর স্ত্রী পরিমন বেগম মারা যান। মায়ের মৃত্যুর জন্য চিকিত্সকদের অবহেলাকে দায়ী করে কর্তব্যরত তন্ময় বরুসহ একাধিক ইন্টার্নি চিকিত্সককে লাঞ্ছিত করে পুলিশ কনস্টেবল মামুনুর রশিদ ও তার স্বজনরা। এ ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্ম বিরতির ডাক দেয় ইন্টার্নি চিকিত্সকরা। ধর্মঘটের সময় অধিকাংশ নার্সও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।