Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মতলব ফেরিঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ে ভারী হচ্ছে সওজ কর্মচারীদের পকেট

গিয়াসউদ্দিন মিলন, চাঁদপুর
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
চাঁদপুরের মতলব ফেরিঘাটে টোল আদায়ে অরাজক অবস্থা বিরাজ করছে। প্রতিদিনের কালেকশনের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে সওজ চাঁদপুরের কর্মকর্তা/কর্মচারীর পকেটে। বাকি যে পরিমাণ রাজস্ব খাতে জমা হচ্ছে তা ফেরির জ্বালানি, জনবল ও মেন্টেইন্যান্স খাতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। ফেরিঘাটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টোল আদায়ের পর কাউকেই রসিদ দেয়া হচ্ছে না। মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান, নসিমন ও সাইকেল থেকে আদায়কৃত টাকা রেজিস্টারভুক্ত করা হয় না।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ওই ফেরি পারাপারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আসে। অথচ সওজ চাঁদপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে ১৬ থেকে ২২ হাজার টাকা। সে হিসেবে গড়ে প্রতি মাসে সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে লুট হচ্ছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা। একই পরিমাণ টাকা মাসে সরকারি হিসেবে জমা হলেও ফেরির জ্বালানি, ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন এবং সার্ভিস চার্জ প্রায় সমপরিমাণ কিংবা আরও বেশি টাকা ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী গত ক’দিনে সরকার ওই ফেরি চালিয়ে এক টাকাও আয় দেখাতে পারেনি।
মতলব ঘাটে বর্তমানে দুটি ফেরি রয়েছে। দিনের প্রথম ভাগে একটি চালালে দ্বিতীয় ভাগে চালানো হয় অন্যটি। প্রতিদিন প্রায় ৯০ থেকে ১শ’ লিটার ডিজেল, প্রয়োজনীয় মবিল ব্যয় হয়। এতে প্রতিদিন শুধু জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৫ হাজার ৫শ’ থেকে ৬ হাজার টাকা।
এক মাসে ব্যয় হয় দেড় লাখ থেকে দু’লাখ টাকা। ১৮ জন স্টাফের বেতন বাবদ ব্যয় হয় প্রায় সোয়া দু’লাখ টাকা, মবিল ও সার্ভিসিংসহ প্রতি মাসে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।
বাস/ট্রাক/ট্যাঙ্ক লরি/ট্রাক্টরের নির্ধারিত ভাড়া ১৭০ টাকা হলেও ন্যূনতম ২শ’ টাকা করে আদায় করা হয়। ওভারলোড হলে এর পরিমাণ ২/৩ গুণ বেড়ে যায়। মিনিবাস/কোস্টার ওই ফেরিতে তেমন একটা পারাপার হয় না। মাঝে মধ্যে ২/১টি পার হলেও তাদের কাছ থেকে ৫৫ টাকার স্থলে ৭০ টাকা আদায় করা হয়। মাইক্রো/পিক-আপের ৪০ টাকা ভাড়া নির্ধারিত থাকলে আদায় করা হচ্ছে ৫০/৬০ টাকা করে। প্রাইভেট কার/জিপের ভাড়া ২৫ টাকার স্থলে আদায় হচ্ছে ৪০ টাকা হারে, সিএনজি অটোরিকশা থেকে ১৫ টাকার স্থলে ২০ টাকা, চালকসহ রিকশা ৫ টাকার স্থলে ১০ টাকা নেয়া হয়। মালবাহী রিকশা থেকে নেয়া হয় ২০ টাকা। সাইকেল থেকে ৫ টাকা হারেই নেয়া হচ্ছে।
ফেরির ভাড়া আত্মসাতের ঘটনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন সওজ চাঁদপুর অফিসের ওয়ার্ক অ্যাসিসট্যান্ট ও কর্মচারী ইউনিয়ন চাঁদপুর অঞ্চলের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন। মূল সহযোগী ওয়ার্ক অ্যাসিসট্যান্ট মো. বাবর আলী, মিজানুর রহমান, ফেরি খালাসী আজহার ও শফিকুল বাশার। এর মধ্যে আজহার ও শফিকুল বাশারের বিরুদ্ধে ভাড়া আদায়ে যাত্রী ও চালকের সঙ্গে অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একটি প্রাইভেট কারের চালক আবদুল মবিন জানান, তার কাছ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া নিয়েছেন। রসিদ চাইলে ‘লাগবে না’ বলে দেয়নি। একটি কভার্ডভ্যানের চালক বলেন, তার কাছে প্রথমে ৩শ’ টাকা দাবি করেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করে ২শ’ টাকা দিয়ে ৩০ টাকা ফেরত চান। অনেক বাকবিতণ্ডার পর তাকে ৩০ টাকা ফেরত দিয়ে ১৭০ টাকা ভাড়া রাখা হয়।
উল্লেখ্য, ফেরির টোল আদায়ের ইজারা নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ার পর গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে সওজ কর্তৃপক্ষ বিভাগীয়ভাবে নিজেরাই টোল আদায় করছে।
সওজ চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন বলেন, আগে কী হয়েছে তা’ নিয়ে কথা বলা দরকার নেই। তিনি আসার পর পরস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিনা তাই এখন দেখার বিষয়।