Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ভূমি অফিসের যোগসাজশে বেহাত হচ্ছে পাঁচ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ভূমি অফিসের যোগসাজশে বেহাত হয়ে যাচ্ছে পাঁচ কোটি টাকা দামের ২৫ একর খাস জমি। বর্তমানে র্যাবে কর্মরত বিজিবির এক সদস্য বড় অংকের ঘুষের বিনিময়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি), সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা তথাকথিত নিলামের নামে সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের ওই জমি অবৈধভাবে রেকর্ড করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
স্থানীয় জনগণ ও ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজলাধীন ৫৯নং (সাবেক ৬২) রাঙ্গামাটিয়া মৌজায় স্থানীয়ভাবে বিল/খাল হিসেবে পরিচিত ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ৪টি পৃথক দাগের (এসএ ৫৪১৯, ৫৪৪৮, ৫৪৫১ ও ৫৫১২) ২৪ একর ৩৬ শতাংশ জমি তার দাদা নিলামে ক্রয় করেছে এ সংক্রান্ত ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে স্থানীয় আড়ুয়াডিহি গ্রামের বাসিন্দা র্যাব সদস্য অলিউজ্জামান ওরফে অলি আহম্মেদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলী প্রিন্স, সেটেলমেন্ট শাহজাহান মিয়া ও তহশিলদার আজাদ মিয়াকে বড় অংকের ঘুষ দিয়ে তার বাবা উকিল শেখের নামে রেকর্ড করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
ধান সেচসহ বিলে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ খালটি ব্যক্তি মালিকায় চলে যাচ্ছে জানতে পেরে স্থানীয় জনগণ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি রেকর্ড অধিদফতরে আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে ভুমি মন্ত্রণালয় (স্মারক৩১.০০.০০০.০৩৬.৬৮.০০৩.১২-৯৩; তাং ২৪/৭/১২ ইং) সরকারি খাস জমি যথাযথভাবে রেকর্ড করার জন্য জেলা প্রশাসক বাগেরহাটকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে উকিল শেখের নামে জমিটি রেকর্ড করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মাস দু’য়েক আগে স্থানীয় জনগণ ৪০১/১৯৬৫-৬৬ নম্বর ভুয়া নামজারি বাতিল করে সরকারি জমি যথাযথভাবে রেকর্ড করার জন্য এসি ল্যান্ডের কাছে আবেদন করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা যেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব, কিন্তু উল্টো তারা সেই সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় তুলে দিচ্ছেন। ভূমি অফিসের লোকজনের এই অপকর্মে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার জন্য তারা চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসীর চাপের ফলে সেটেলমেন্ট অফিসার শাহজাহানের পরামর্শে অলি আহম্মেদ নামজারির মামলা স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে খুলনা জোনাল অফিসে স্থানান্তর করিয়েছে। অথচ এ নামজারির মামলাটি উপজেলার ভূমি অফিসেই নিষ্পত্তিযোগ্য। জোনাল অফিস থেকে বড় অংকের ঘুষের বিনিময়ে তারা মামলার রায় নিজেদের পক্ষে নিয়ে যাবেন বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আলী প্রিন্স আমার দেশকে নিজে ঘুষ লেনদেনের কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই সরকারি সম্পত্তি স্থিতি রক্ষার জন্য তিনি সব ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করছেন। সরকারি এই সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডের পেছনে তার অফিসের কেউ ঘুষ লেনদের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি অবহিত নন বলে উল্লেখ করেন। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, বিজিবির একজন সাধারণ সদস্য অলিউজ্জামান সীমান্ত এলাকায় চাকরির সুবাদে চোরাচালানিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছে। খুলনা ও রাজশাহী শহরে একাধিক বাড়ি ও অনেক জমি কিনেছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওপর মহলকে ম্যানেজ করে সে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে বলে জানা গেছে।