Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

লক্ষ্মীপুরের গডফাদার আবু তাহেরের ভয়ে ৪ সাংবাদিক এলাকা ছাড়া

রফিকুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর থেকে ফিরে
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
লক্ষ্মীপুরের গডফাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা, পৌর মেয়র আবু তাহেরের হুমকি-ধমকিতে জেলায় কর্মরত ৪ সাংবাদিক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও এ নিয়ে আতঙ্কিত।
গতকাল এ প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, গত শুক্রবার বিকালে গণপূর্ত বিভাগের জমির ওপর পৌর কর্তৃপক্ষের দেয়া একটি সাইনবোর্ডের ছবি তুলতে যান দৈনিক প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি এমজে আলম। এ খবর পেয়ে গডফাদার আবু তাহের নিজেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। পরে তাকে ধরে নিয়ে আটক রেখে নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনার পর আবু তাহের শুক্রবার রাতে ঘটনা ধামা-চাপা দিতে ও হয়রানির উদ্দেশ্যে গডফাদার আবু তাহেরের অনুগত ক্যাডার বেলাল হোসেনকে দিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় নির্যাতিত দৈনিক প্রথম আলো জেলা প্রতিনিধি এমজে আলমসহ তার অপর সহকর্মী যুগান্তর ও এনটিভি জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, বিটিভির জেলা প্রতিনিধি মো. জহির উদ্দিন ও স্থানীয় সাপ্তাহিক দামামা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ার রহমান বাবুলকে আসামি করে এক সাজানো মামলা করেন। ঘটনার পর তাহের বাহিনীর হুমকিতে হামলা, নির্যাতন ও পুলিশি হয়রানির ভয়ে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক পরিবারের একাধিক সদস্য জানান, সরকারের শেষ মেয়াদে গডফাদার আবু তাহের তার পুরনো চেহারায় ফিরে গেছেন। তার হামলা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় তারা উত্কণ্ঠায় রয়েছেন বলে দাবি করেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দৈনিক লক্ষ্মীপুর নিউজের সম্পাদক এম আলাউদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার পর মিথ্যা মামলা জড়িয়ে ৪ সাংবাদিককে আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে লক্ষ্মীপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে আমিও ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গদফাদার পৌর মেয়র আবু তাহের ও তার ছেলে বিপ্লবের বিরুদ্ধে যুগান্তর, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় জায়গা দখল, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবু তাহের এই সাংবাদিকদের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দেন।
লক্ষ্মীপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমার সুযোগ নিয়ে লক্ষ্মীপুরে তাহের পরিবার আবারও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম আলোর সাংবাদিক এমজে আলমের ওপর হামলা হয়েছে। এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এদিকে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও প্রথম আলো সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার বিকালে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে লক্ষ্মীপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অবিলম্বে লক্ষ্মীপুরের গডফাদার আবু তাহের বিচার চেয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা চাঁদাবাজি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এ সভায় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন নিজামী, আবদুল মালেক, আব্বাছ হোসেন, হাবিবুর রহমান সবুজ, মাজহারুল আনোয়ার টিপু, জাহাঙ্গীর হোসেন লিটন প্রমুখ।