Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

টেকনাফে ট্রলার জব্দ : ১৩ দিন সাগরে কাটিয়ে উপকূলে ফিরে এলেন ১৬৪ মালয়েশিয়াগামী

কক্সবাজার প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সাগরপথে অবৈধ উপায়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে ১৩ দিন পর ফিরে আসতে হলো মিয়ানমার নাগরিকসহ ১৬৪ বাংলাদেশীকে। মাঝপথে মাছধরার ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় শুক্রবার রাতে তারা টেকনাফ উপকূলের মহেশখালীয়া পাড়া ঘাটে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। ওই রাতেই বিজিবি ঘাট থেকে ৮শ’ লিটার ডিজেলসহ মালয়েশিয়াগামী ট্রলারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করে বিজিবি।
তবে বিজিবির টেকনাফের ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান ধারণা করছেন, পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ট্রলারটি শুক্রবার রাতে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু সাবরাং ইউপি সদস্য মো. ইউনুস সাংবাদিকদের জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে মালয়েশিয়া যাত্রায় ব্যর্থ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ঘাটে ভিড়ে। আগে থেকেই তাদের আত্মীয়-স্বজনরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, পুলিশ-বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ট্রলারটি ফেলে সবাই পালিয়ে গেছে।
ফিরে আসা টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ার মোহাম্মদ জামাল, টেকনাফ কুলালপাড়ার ফরিদ আলম, শীলবনিয়া পাড়ার নাগু মিয়া ও নাজিরপাড়ার নূর আলম সাংবাদিকদের জানান, ১১ নভেম্বর বিকালে মহেশখালী উপজেলার চ্যানেল দিয়ে ট্রলারটি ভাড়া করে সোয়াংখালী ও ইনানী সি-বিচ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকসহ ১৬৪ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে। একদিন পরই ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ৩ দিন সাগরে ভেসে ইঞ্জিনটি আবার সচল করা হয়। দু’দিন ট্রলার চালানোর পর মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের বাতি দেখে থাইল্যান্ডের পথ বেয়ে চালানো হয়। এ সময় যাত্রা পথেই ট্রলারের ইঞ্জিনে মোবিল শেষ হয়ে গেলে ট্রলারটির যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়।
তারা জানান, যাত্রা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মোবিলের বদলে খাবারের বাদাম তেল (সোয়াবিন) দিয়ে ফেরত আসার চেষ্টা করা হয়। আসার পথে সেন্টমার্টিনের অদূরে ১১ বাইন এলাকায় ইঞ্জিনটি আবারও বিকল হয়ে যায়। সে সময় মোবাইলে নেটওয়ার্ক পেয়ে উদ্ধারের জন্য আত্মীয়স্বজনদের খবর দেয়া হয়।
ফিরে আসা মালয়েশিয়া যাত্রীদের দাবি, সাগরে ৩নং সতর্ক সঙ্কেতের সময় সাগরের অবস্থা উত্তাল হয়ে ট্রলারটিকে সাগরের ৫০-৬০ বাইন এলাকায় নিয়ে যায়। টেকনাফ থেকে ট্রলার ভাড়া করে ওইদিনই সাগরে তাদের সন্ধানে লোকজন গেলেও মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় খোঁজ পায়নি।
টেকনাফ কুলালপাড়ার ফরিদ আলম জানান, শুক্রবার বিকালের দিকে মিয়ানমারের ময়দানি ঘোলা উপকূলের কাছাকাছি এসে অবস্থান নেয় ট্রলারটি। ওই সময় মিয়ানমারের নাগরিক যাত্রীদের মধ্যে ২০-২৫ জন একটি ট্রলারে তাদের দেশে চলে যায়।
শীলবনিয়া পাড়ার নাগু মিয়া ও নাজিরপাড়ার নূর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এভাবে আরও কয়েকদিন সাগরে ভাসমান থাকলে নিশ্চিত মৃত্যু হতো। আমরা সাগরের এমন স্থানে ছিলাম যেখানে কোনো দেশের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই, চারদিকে অথৈ সাগর।’
তারা জানান, ট্রলারটির মাঝি ছিলেন মিয়ানমারের নাগরিক ও বর্তমানে টেকনাফ ডেইল পাড়ায় অবস্থানকারী সৈয়দ আলম।
বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান জানান, শুক্রবার রাতেই টেকনাফ মহেশখালীয়া পাড়া সৈকত এলাকা থেকে ৮০০ লিটার ডিজেলসহ একটি বড় ট্রলার জব্দ করা হয়। তবে এটি ফেরত আসা ট্রলার কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, জব্দ করা ট্রলারটি মালয়েশিয়ার যাত্রী নিয়ে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছিল।