Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

খালেদা জিয়াকে কটূক্তির প্রতিবাদে ছাত্রদলের সমাবেশ : টেন্ডারবাজি আর চাঁদাবাজি ছাত্রলীগের ট্রেডমার্ক - মওদুদ

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সারা দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতির সঙ্গে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা জড়িত। এ সংগঠনটির কর্মীরা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এরই মধ্যে তামার ছেলেতে পরিণত হয়েছে। টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি ছাত্রলীগের ট্রেডমার্ক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গতকাল বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার প্রতিবাদে ছাত্রদল এ সমাবেশের আয়োজন করে। এদিকে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবিধানিক অধিকার ফোরামের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে বর্তমানে আইনের শাসন হুমকির মুখে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, এ সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাট থেকে জনগণ মুক্তি চায়।
ছাত্রদলের সমাবেশে ব্যারিস্টার মওদুদ আরও বলেন, গত চার বছরে এ সরকারের অনেক কলঙ্কের মধ্যে একটি হলো শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা আর এই বিনষ্টের জন্যও ছাত্রলীগ দায়ী।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর এ সরকারকে চায় না। আগামী ২৮ নভেম্বর দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন, সেই আন্দোলনে ভ্যান গার্ডের দায়িত্ব পালন করতে হবে ছাত্রদলকে। সরকার যদি মনে করে, নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে না এনে নির্বাচন করবে তাহলে ভুল করবে। সেই নির্বাচন এ দেশের মাটিতে হতে দেয়া হবে না।
মওদুদ বলেন, আমরা আগেও বলেছি দুদক সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। ২৬ নভেম্বর ২০০৭ সালে কোকো জেলে বন্দি ছিল। একজন মানুষ জেলে থাকাকালে ব্যাংকের টাকা কিভাবে লেনদেন করতে পারে। আসলে এটা সরকারের একটি দুরভিসন্ধি। এসব করে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো যাবে না। নিজেদের দুর্নীতিকে আড়াল করতে অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তি করা যাবে না।
ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল কাদের জুয়েলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, এবিএম মোশারফ হোসেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল নাইটিংগেল মোড়, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন মোড় হয়ে প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এ সরকার বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে। এখন ওই বিভাগের ওপর প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হচ্ছে। এটা চলতে থাকলে মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ও গণতন্ত্র দুটো পথই রুদ্ধ হয়ে যাবে। আগামী দিনে সুবিচার নিয়ে আমরা আতঙ্কিত।
সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ মারগুব মোর্শেদের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অর্থনৈতিক সম্পাদক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, সাংবিধানিক অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব সুরঞ্জন ঘোষ, জাসাস সহসভাপতি বাবুল আহমেদ প্রমুখ।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের নামে সরকার খুনি-সন্ত্রাসীদের মুক্ত করে দিয়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পরাগ মণ্ডলকে অপহরণ করেছে যুবলীগ-ছাত্রলীগের লোকজন। কিন্তু এরপর তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমরা আশ্চর্য হবো না, পরাগমণ্ডলের অপহরণ ঘটনায় যারা গ্রেফতার হয়েছে, কিছুদিন পর তাদের জামিন হয়ে যাবে।
‘রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের নামে সরকার দ্বৈতনীতি অনুসরণ করছে’—অভিযোগ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাড়ে ৭ হাজার মামলা রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অথচ বিএনপির একটি মামলাও প্রত্যাহার করা হয়নি। গত চার বছরে রাষ্ট্রপতি ২১ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দণ্ড মওকুফ করে দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে সরকারের সুশাসনের নমুনা!
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তারা জনগণের কাছে বলেছিল ক্ষমতায় গেলে ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকারের বিচার করবে, শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। ক্ষমতা পেয়ে শেখ হাসিনা এসব ভুলে গেছেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই অবৈধ সরকারের ভুক্তভোগী। আমি আশা করব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এক-এগারোর কুশীলবদের বিচারের উদ্যোগ নেবেন।