Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

আবাহনীর কষ্টার্জিত জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
কাগজে-কলমে আবাহনীর চেয়ে কয়েকগুণ নিচের সারির দল আরামবাগ ক্রীড়াসংঘ। শক্তির বিচারে দু’দলের মধ্যে তফাতটা যোজন-যোজন। এমন ম্যাচে পেশাদার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা সহজ একটা জয় তুলে নেবে তা কল্পনা করা মোটেও আকাশকুসুম ভাবনা নয়। কিন্তু এমন সহজ ম্যাচে বেশ কঠিন জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আরদেশি পুর্নিমাতের শিষ্যদের। ২-১ গোলের জয়। তাও আবার প্রতিপক্ষের এক ফুটবলার নিজেদের জালে একবার বল ঠেলে দেয়ায় পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার উত্সব করতে পেরেছে আকাশি-হলুদ শিবির। ম্যাচের ১৯ মিনিটে আবাহনী প্রথম যে গোল উত্সবটা করেছিল, তার উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন আরামবাগের ডিফেন্ডার মনিরুজ্জামান। ওয়ালী ফয়ছালের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন এ ডিফেন্ডার। দলের হয়ে অপর গোলটি করেন ইয়কো সামনিক। আর ব্যবধান ঘোচানো একমাত্র গোলটি আসে আরামবাগের ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড ইদ্রিসের পা থেকে। ম্যাচের ব্যবধানটা আরও দীর্ঘ করতে পারত আবাহনী। কিন্তু তাদের বেশ কয়েকটি আক্রমণ আরামবাগের গোলরক্ষক মিটুল নসাত্ করে দেন। একটি পেনাল্টি মিসের ব্যর্থতাও আছে আবাহনীর। কাল শুধু হারই নয়, আরামবাগের ঝুলিতে জমা হয়েছে লালকার্ডের লজ্জা। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র মিনিট দুয়েক আগে দলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড জুয়েলকে লালকার্ডের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। চলতি এ আসরে আবাহনী টানা দ্বিতীয় জয় উত্সবে মাতলেও আরামবাগ শিবিরে ঠিক উল্টোচিত্র। তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল। আর আকাশী-হলুদ শিবির ফেনী সকারের বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয়ে লিগ শুরু করেছিল। নিজেদের চেয়ে খর্বশক্তির দল আরামবাগের বিপক্ষে এমন জয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন দলের ইরানি কোচ আরদেশি পুর্নিমাত। বলেন, ‘জাতীয় দলের অধিকাংশ ফুটবলারই আমার দলে। তারা লম্বা একটা জার্নি করে আসায় এখনও ফিটনেস ফিরে পায়নি। তারা ক্লান্ত। আরও কয়েকটা দিন সময় লাগবে। তবে এমন ম্যাচে ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারত।’
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই ক্লাবপাড়ার দলটিকে আক্রমণের কোণঠাসা করে ফেলে আবাহনী। ম্যাচের ১৩ মিনিটেই দলের ক্যামেরুন থেকে উড়ে আসা ফরোয়ার্ড ইয়কো সামনিকের সঙ্গে বল দেয়া নেয়া করে ডানপ্রান্ত দিয়ে চমত্কার মাইনাসে গোলমুখে বল ফেলেছিলেন আবদুল বাতেন কোমল। কিন্তু বলে কানেক্ট করতে ব্যর্থ হন দলের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সিলভা। ৬ মিনিট পরেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা গোল উত্সবে মেতে ওঠেন। আরামবাগের ডিফেন্ডার মনিরুজ্জামানের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী (১-০)। বামপ্রান্ত দিয়ে ওয়ালি ফয়ছালের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন এ ডিফেন্ডার। ২৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় আকাশি-হলুদ শিবির। ডানপ্রান্ত দিয়ে আউদু ইব্রাহিমের ক্রসে দুর্দান্ত সাইডভলিতে বল জালে পাঠান ইয়কো সামনিক (২-০)। দুই মিনিট পরেই ব্যবধান ঘুচিয়ে আনে আরামবাগ। আবাহনীর গোলরক্ষক সোহেল প্রতিপক্ষ দলের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড মরিসকে অন দ্য বল ফাউল করলে রেফারি জসীম উদ্দিন পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে গোল করেন দলের ঘানাইয়ান ফরোয়ার্ড ইদ্রিস কাসেরি (২-১)। দ্বিতীয়ার্ধে বল মাঠে গড়ানোর মাত্র ৯ মিনিটের মধ্যেই পেনাল্টি পেয়ে যায় আবাহনী। কিন্তু গোলের গ্রাফটা ওপরে টেনে তুলতে পারেননি সিলভা। তার স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিটুল। নিজেদের বক্সের ভেতরে মোরসালিন আবাহনীর তৌহিদকে রাফ ট্যাকল করায় রেফারি জসীম উদ্দিন পেনাল্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্পটকিক মিস করার পরের মিনিটেই আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল আবাহনী। ইব্রাহিমের কর্নার কিক থেকে দারুণ এক হেড নিয়েছিলেন সিলভা। কিন্তু গোললাইনে দাঁড়ানো মোরসালিন দক্ষতার সঙ্গে বল প্রতিহত করে দলকে বিপদমুক্ত করেন। ৭৮ মিনিটে আবাহনী সমর্থকদের আরও একবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে হয়। এবার ইয়কো সামনিকের ব্যাকভলি আরামবাগের গোলরক্ষক মিটুল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলেও বল সাইডপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার এক মিনিট আগে আরামবাগের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড জুয়েলকে লালকার্ডের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। আবাহনীর ফরোয়ার্ড সিলভাকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এর আগেও একটি হলুদ কার্ড থাকায় লালকার্ডের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।