Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

হারের মুখে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার
পরের সংবাদ»
খুলনা টেস্টে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় পড়লেও শেষ দিনের শেষ সেশনে সাকিব-নাসিরের ব্যাটিং নৈপুণ্যে সেই শঙ্কা প্রায় কাটিয়ে উঠেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা কাটলেও কাটছে না পরাজয়ের শঙ্কা। তাদের হাতে আছে মাত্র চার উইকেট। ম্যাচের যা অবস্থা তাতে আরেকটি পরাজয় টাইগারদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিক দেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেটে ২২৬। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে এখনও ৩৫ রানে পিছিয়ে আছে দলটি।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের গড়া ৩৮৭ রানের জবাবে গতকাল ৯ উইকেটে ৬৪৮ রানে প্রথম ইনিংস ষোঘণা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ পাহাড় পরিমাণ সংগ্রহ দাঁড় করানোয় প্রথম ইনিংস শেষে ২৬১ রানের লিড পায় তারা। আগের দিন করা চার উইকেটে ৫৬৪ রান নিয়ে গতকাল দিনের খেলা শুরু করে ক্যারিবীয়রা। দলীয় স্কোরে আর ৮৪ রান জমা পড়তেই আরও পাঁচটি উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। সাকিব ঘূর্ণিতে নামের প্রতি সুবিচার না করেই উইকেট ছাড়তে হয় উইন্ডিজ দলের টেইল এন্ডারদের। আগের দিন ১০৯ রান নিয়ে অপরাজিত থাকা শিবনারায়ণ চন্দরপল গতকাল ১৫০ রান নিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন। এর আগে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ছিলেন তিনি। ২৮২ বলে গড়া চন্দরপলের গতকালের ইনিংসটিতে ১২টি চার ও একটি ছক্কার মার রয়েছে।
বল হাতে চমক দেখিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা স্পিনার সাকিব আল হাসান। আগের দিন কোনো উইকেট নিতে না পারলেও গতকাল গুনে গুনে চারটি উইকেট নেন তিনি। এজন্য ৫২ ওভার বল করে ১৫১ রান দিতে হয়েছে তাকে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বাংলাদেশী বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে একশ’ উইকেটের (১০২) মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব। এর আগে প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে একশ’ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন মোহাম্মদ রফিক। ৩৩ ম্যাচ খেলে একশ’টি উইকেট নেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অলরাউন্ডার। এছাড়া আগের দিন দুই উইকেট নেয়া অফস্পিনার সোহাগ গাজী গতকাল আরও একটি উইকেট নেন। দুই উইকেট নেন রুবেল হোসেন।
প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ২৬১ রানে পিছিয়ে থেকে গতকাল মধ্যাহ্ন বিরতির পর পরই দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতেই দলীয় রানের খাতা খোলার আগেই স্বাগতিকদের হতাশায় ভাসিয়ে দেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান নাজিমউদ্দিন চৌধুরী। ফিডেল অ্যাডওয়ার্ডসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে উইকেট ছাড়া হন তিনি। দলের রান তখন মাত্র এক। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম ইকবাল ও শাহরিয়ার নাফিস ৪৮ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে ভালো অবস্থানের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস চালালেও তা পূর্ণ হতে দেননি উইন্ডিজ পেসার টিনো বেস্ট। তার ইনসুইং ধরনের একটি বল খেলতে গিয়ে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল। উইকেট ছাড়ার আগে ৩৩ বলে চারটি চারের সাহায্যে ২৮ রান করে যান বাংলাদেশ দলের এ ড্যাশিং ব্যাটসম্যান।
এরপর শুরু হয় টাইগারদের ধারাবাহিক উইকেট পতন। দলীয় ৫১ রানে উইকেট ছাড়া হন ঢাকা টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান নাঈম ইসলাম (২)। ঘাতক টিনো বেস্ট। দলীয় স্কোরে আর ১১ রান জমা পড়তেই উইকেট ছাড়া হন শাহরিয়ার নাফিস (২১)। ঘাতক ওই বেস্টই। তার একটি শর্টবল খেলতে গিয়ে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা উইন্ডিজ অধিনায়ক ড্যারেন সামির হাতে সহজ ক্যাচ দেন নাফিস। টিনো বেস্ট ঝড়ে মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনআপ। স্বাগতিকদের ইনিংসে পঞ্চম আঘাতটি হানেন ভিরাস্বামী পেরমল। তার একটি ঘূর্ণিবল ব্যাটে সংযোগ ঘটাতে উইকেট থেকে বের হয়ে আসেন অধিনায়ক মুশফিক (১০)। কিন্তু বল ব্যাটের ডাকে সাড়া না দিয়ে সরাসরি মিডল স্ট্যাম্পে আঘাত হানলে সাজঘরের পথ ধরতে হয় তাকে। ৮২ রানে ৫ উইকেট।
মনে হচ্ছিলো গতকালই বাকি উইকেটগুলো হারিয়ে ফেলবে বাংলাদেশ। মাঠ ছাড়তে হবে ইনিংস পরাজয় নিয়ে। দলের এমন বিপর্যয়ের মুখে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় সাকিব-নাসির জুটি। ১৪৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে ইনিংস পরাজয়ের সম্ভাবনার হাত থেকে উদ্ধার করেন তারা। বড় একটি পার্টনারশিপ গড়ার পথে নিজ নিজ অর্ধশতক পূর্ণ করেন সাকিব-নাসির। সেঞ্চুরির খুব কাছে চলে আসেন সাকিব। কিন্তু দিনের শেষ ওভারে পেরমলের বলকে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মিড-অফে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার টিনো বেস্টের হাতে তালুবন্দি হন বাংলাদেশ দলের এ ব্যাটসম্যান। এর মধ্য দিয়ে স্বাগতিক দলের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। মলিন সাকিব। মলিন বাংলাদেশ শিবির। দিনের শেষ বলে এমন একজন সেট ব্যাটসম্যান হারানোয় ম্যাচ থেকে আরও ছিককে পড়ল টাইগাররা।
উইন্ডিজ পেসার টিনো বেস্ট ২৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। দুটি উইকেট নেন স্পিনার ভিরাস্বামী পেরমল। আজ ম্যাচের শেষ দিন। জয় নয়, স্বাগতিকদের লক্ষ্য থাকবে ‘ড্র’। কিন্তু মাত্র চার উইকেটের পুঁজি নিয়ে এ কঠিন কাজটি কী পারবে বাংলাদেশ—সে প্রশ্ন দলের টেইল এন্ডারদের কাছে। টেইল এন্ডার আবুল হাসান যেন প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও লম্বা একটি ইনিংস খেলেন—এমন প্রত্যাশাই সবার।

স্কোরকার্ড : বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
দ্বিতীয় টেস্ট (চতুর্থ দিন)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস - ৩৮৭/১০
তৃতীয় দিন শেষে ও.ইন্ডিজ ছিল ৫৬৪/৪ (চন্দরপল ১০৯* ও রামদিন ৪*)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস—
রান বল ৪ ৬
চন্দরপল অপরাজিত ১৫০ ২৮২ ১২ ১
রামদিন ক মুশফিক ব সাকিব ৩১ ৯৩ ২ ০
সামি ক মাহমুদুল্লাহ ব সাকিব ০ ৩ ০ ০
পেরমল ক সোহাগ ব সাকিব ১৩ ১৫ ১ ১
নারাইন ক নাফিস ব সাকিব ০ ১ ০ ০
অ্যাডওয়ার্ডস ক সাকিব ব সোহাগ ২ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত ২৭
মোট (৯ উইকেট ২০০.৩ ওভারে) ৬৪৮
উইকেট পতন : ৫-৬২১, ৬-৬২১, ৭-৬৩৯, ৮-৬৩৯ ও ৯-৬৪৮।
বোলিং : সোহাগ গাজী ৫৭.৩-৪-১৬৭-৩, আবুল হাসান ২৪-০-১১৩-০, রুবেল হোসেন ৩১-৮-৮৬-২, নাঈম ইসলাম ১৪-১-৪৩-০, সাকিব ৫২-১১-১৫১-৪ ও মাহমুদুল্লাহ ১০-০-৪২-০ ও নাসির হোসেন ১২-১-২৯-০।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস :
রান বল ৪ ৬
তামিম ব বেস্ট ২৮ ৩৩ ৪ ০
নাজিমউদ্দিন এলবিডব্লিউ অ্যাডওয়ার্ডস ০ ১ ০ ০
নাফিস ক সামি ব বেস্ট ২১ ৩০ ৪ ০
নাঈম ইসলাম ব বেস্ট ২ ৩ ০ ০
সাকিব ক বেস্ট ব পেরমল ৯৭ ১১৭ ১০ ১
মুশফিক ব পেরমল ১০ ২১ ২ ০
নাসির হোসেন অপরাজিত ৬৪ ১৩৩ ৮ ০
অতিরিক্ত ৪
মোট (৬ উইকেট ৫৬.১ ওভারে) ২২৬
উইকেট পতন : ১-১, ২-৪৯, ৩-৫১, ৪-৬২, ৫-৮২ ও ৬-২২৬।
বোলিং : এডওয়ার্স ১১-০-৬৫-১, নারাইন ৯-০-৪৮-০, পেরমল ১৬.১-২-৫১-২, বেস্ট ৮-০-২৬-৩, গেইল ৪-০-১৫-০ ও সামি ৮-৩-১৯-০
* বাংলাদেশ এখনো ৩৫ রানে পিছিয়ে। হাতে ৪ উইকেট