Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

নিউজ বিএনএনের সেমিনারে বিশিষ্টজনরা : অনলাইন নীতিমালার নামে সরকারি ‘ভীতিমালা’ প্রতিরোধের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সরকারের প্রস্তাবিত অনলাইন নীতিমালা ইন্টারনেটভিত্তিক গণমাধ্যম বিকাশে প্রতিবন্ধক হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। নিউজ বিএনএন আয়োজিত সেমিনারে তারা বলেন, অনলাইন নীতিমালার নামে কোনো সরকারি ‘ভীতিমালা’ এ দেশের সাংবাদিক সমাজ ও জনগণ মানবে না। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এটা প্রতিরোধের জন্য তারা সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে অনলাইনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনলাইনভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম নিউজ বিএনএন ডটকম আয়োজিত ‘গণমাধ্যম বিকাশে অনলাইন সাংবাদিকতা : সঙ্কট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। নিউজবিএনএনের প্রধান উপদেষ্টা ভাষাসৈনিক ড. আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তৃতা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজ উল্লাহ, নতুন বার্তার সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদ, কলকাতার সাংবাদিক রক্তিম দাস, আরটিএনএনের সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, নিউজ এজেন্সি টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক জাহিদ ইকবাল প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউজবিএনএনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান। নিউজবিএনএনের কমিউনিকেশন এডিটর আবদুর রহিমের পরিচালনায় স্বাগত বক্তৃতা করেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ভাষাসৈনিক ড. আবদুল মতিন বলেন, অনলাইন গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার যে নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে, তা মানলে এ গণমাধ্যমটি চলতে পারবে না। মুক্ত সাংবাদিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারকে বলব, এ পথ থেকে সরে আসুন। গণবিরোধী অবস্থান আপনাদের জন্য শুভ হবে না। তরুণরা ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো স্বৈর-উদ্যোগ টেকে না। স্বৈরশক্তিও টিকতে পারে না। শুভপথে না ফিরলে আপনারাও টিকতে পারবেন না। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, আনলাইনে সম্ভাবনা বাংলাদেশে প্রচুর, তবে এর শেষ কোথায়, সেটা কল্পনাও করা যাবে না। তিনি বলেন, সরকার যে খসড়া দিয়েছে, তার পক্ষে আমি সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ মিডিয়ার ওপর সবাই এখন নির্ভরশীল। সরকার যেখানে প্রিন্ট মিডিয়ায় নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারেনি, সেখানে কুটিরশিল্প হিসেবে এ অনলাইনে নীতিমালা করার প্রশ্নই ওঠে না। এ নীতিমালার বেড়াজালে অনলাইন গণমাধ্যমকে আটকানোর চেষ্টা করছে। অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ করা—এটা আইনের কোনো লক্ষণ নয়। এটা স্বাধীন অধিকারের পরিপন্থী। এতে বাংলাদেশে সম্ভাবনার জানালা বন্ধ হয়ে যাবে।
বিশিষ্ট কলামিস্ট মাহফুজউল্লাহ বলেন, সারাবিশ্বে এ ধরনের পত্রিকার সংখ্যা দশ হাজরের বেশি। বাংলাদেশের সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার আছে, কিন্তু বাস্তবে এটা আমাদের দেশে খুবই সীমিত। ১৯৭২ সালে যারা সংবিধান প্রণয়ন করে, সেই সময় প্রযুক্তির এ অগ্রগতি কল্পনা করা হয়নি। আমারা যারা বয়সে প্রবীণ, তারচেয়ে তরুণসমাজ এ প্রযুক্তিতে বেশি অগ্রসর। এরশাদের সময়ে বাংলাদেশে একটা ইনফরমেশন পলিসি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন এটা সমালোচানর মুখে পড়েছিল।
‘নীতিমালার নামে অনলাইন গণমাধ্যম’ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, মানুষের মনের ভেতরে যে অসহায়ত্ব থাকে, যে ক্ষোভ থাকে, সেটাকে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
নতুন বার্তা’র সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমদ বলেন, অনলাইন নিউজ পড়ে তরুণরা বেশি করে প্রভাবিত হচ্ছে। দ্রুত নিউজ পেতে হলে অনলাইনের ধারে কাছের কেউ নেই। সামনের দিনগুলোতে এ অনলাইনের প্রভাব থেকে বের হওয়া খুব কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। অনলাইনের প্রভাবে বর্তমানে এখন প্রিন্ট মিডিয়া পড়ুয়া পাঠকের সংখ্যা এখন কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো তত্ক্ষণাত্ খবর পাওয়ার জন্য। কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্তমানে অনেক পাঠক আমাদের দেশের অনলাইনে প্রভাবিত হয়ে পড়ছে।
মূল প্রবন্ধে নিউজবিএনএনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন, ইন্টারনেট প্রযুক্তি তথ্যকে মানুষের কাছে অধিকতর সহজলভ্য করে তুলেছে। ইন্টারনেটকেন্দ্রিক অনলাইন মিডিয়া (অনলাইন ভার্সন) মুদ্রণ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। এক কথায় মুদ্রণ মাধ্যমকে এখন শাসন করতে শুরু করেছে অনলাইন মাধ্যম। সংবাদপত্রগুলোও মুদ্রণ সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইন সংস্করণকে বেশি গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছে। এতে অনলাইন কমিউনিটির আকার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। ব্লগ আর ফেসবুকের মাধ্যমে সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা লেখক-সাংবাদিক-প্রকাশক হয়ে উঠছেন।
কলকাতার সাংবাদিক রক্তিম দাস বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অনলাইন নিউজ এখনও উন্নতি করতে পারেনি। তাদের কোনো খবর পড়তে গেলে বাংলাদেশের অনলইন নিউজ পড়তে হয়। বাংলাদেশের অনলাইন শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি সারাবিশ্বের। এটা গোটা পৃথিবীর বাঙালির নির্ভরতার জায়গা। নিউজ বিএনএনের সিইও ফরিদ উদ্দীন বলেন, গণমাধ্যম বর্তমানে এক বিশাল সঙ্কটের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে। আমাদের এ আয়োজন আতাউস সামাদকে উত্সর্গ করা হলো।