Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

অধিকার-এর জাতীয় অ্যাডভোকেসি সভায় ১২ বছরের তথ্য : সীমান্তে হত্যা ৯৬৬ নির্যাতন ৭৫৪ এবং ১০৩১ জনকে অপহরণ করেছে বিএসএফ

প্রতিবাদ করার যোগ্যতা নেই সরকার ও বিরোধী দলের - মাহমুদুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার
পরের সংবাদ»
মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক জাতীয় অ্যাডভোকেসি সভায় উত্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ বছর ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ৯৬৬ জন বাংলাদেশীকে হত্যা, ৭৫৪ জনকে নির্যাতন এবং ১০৩২ জনকে অপহরণ করেছে। শুধু এ বছর অক্টোবর পর্যন্ত বিএসএফ হত্যা করেছে ৩৩ জনকে। এ সময়ে বিএসএফ ২২ বাংলাদেশীকে গুলি ও নির্যাতন করে আহত করেছে আর অপহরণ করেছে ৫৮ জনকে। অর্থাত্ ভারত প্রতিনিয়ত সীমান্তের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে হত্যা ও নির্যাতনের নীতি বহাল রেখেছে। গতকাল রাজধানী স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সভায় এসব তথ্য উত্থাপন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তাক্ত সীমান্ত। বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত ভয়ঙ্করভাবে মাববাধিকার লঙ্ঘন করছে। তবু এ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার যোগ্যতা নেই সরকার ও বিরোধী দলের। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং শিক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং বিএপির সহ-সভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে নিজের ওপর বিএসএফ কর্তৃক নৃশংস নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন হাবিবুর রহমান হাবু। আর বিএসএফের গুলিতে নিহত স্বজনের করুণ কাহিনী তুলে ধরেন শফিকুল ইসলাম। এতে সভপতিত্ব করেন অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব) আ ল ম ফজলুর রহমান, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত আশাফ্উদ্দৌলাহ্ এবং দৈনিক সমকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান। অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএসএফ প্রতিনিয়ত সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করছে। সীমান্তে আর হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হবে না— ভারতের শীর্ষ মহল থেকে এমন প্রতিশ্রুতি বারবার দেয়া সত্ত্বেও অবস্থার কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে না; বরং আমরা এর উল্টো চিত্রই দেখতে পাই। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের জন্য সব সরকারই দায়ী। কোনো সরকারই এর দায় এড়াতে পারবে না। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সত্যিই একটি রক্তাক্ত প্রান্তর। এটাকে শান্তির সীমান্ত হিসেবে পরিণত করতে হলে ঐকমত্য প্রয়োজন। শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক না হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবু নানা কারণে দু’দেশের মধ্যে আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এসব কারণের অন্যতম। বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এটা অত্যন্ত দুঃখের এবং উত্কণ্ঠার বিষয়। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সঙ্কটের সমাধান হবে না।
মাহমুদুর রহমান বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে অঘোষিত যুদ্ধ চলছে—কিন্তু তারা বন্ধুরাষ্ট্র। কারণ বন্ধু না বললে ভারত বিরোধী হয়ে যায়। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড হয়নি। তবে কি পাকিস্তান ভারতের বড় বন্ধু ছিল! বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমরা ভারতের কৃতজ্ঞতার গল্প শুনছি। এ কৃতজ্ঞতার ভারে বাংলাদেশ নতজানু। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক এবং কৌশলগতভাবে ভারত যে ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছে, এ বিষয়টি কখনও সামনে আনা হয় না। তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে আমাদের ঐক্যবন্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। তরুণরাই পারে ঐক্যবদ্ধভাবে এ আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে।
আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন, অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি কারও কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। তিনি বলেন, ভারত এখন ত্রিপুরা সীমন্তে জিরো পয়েন্টে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে। কয়েক বছর পর এটাকেই তারা তাদের সীমানা হিসেবে দাবি করবে। ফলে বাংলাদেশ কয়েক হাজার একর ভূমি হারাবে। তাই এ ব্যাপারে এখনই আমাদের সজাগ হতে হবে।
আবু সাঈদ খান বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তাক্ত সীমান্ত। ধর্মনিরপেক্ষ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের কাছে এমন আচরণ আশা করা যায় না।
আশাফ্উদ্দৌলাহ্ বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত যেভাবে মানুষ হত্যা করছে, তা কোনো বন্ধুত্বের নিদর্শন নয়। এটা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না।