Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ধুনটে হাতুড়ে কবিরাজের আজব চিকিত্সা!

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বগুড়ার ধুনটে প্যারলাইসসি রোগীকে আজব চিকিত্সা দিচ্ছেন গ্রাম্য কবিরাজ। জানা গেছে, কবরের আয়তনে চার কোণে খুঁটির মতো মাটিতে গেড়েছে কলা গাছ। গাছের চার পাশে পুরনো নানা রঙের সুতি শাড়ি দিয়ে ঢাকা। একে কবিরাজের ভাষায় বলা হয় কাণ্ডারি। তারই ভেতর মাটিতে খড় ও কাঁথা বিছিয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইসিস) নারীকে শুইয়ে রেখে চলছে চিকিত্সা। উত্তর পাশে রোগীর মাথার কাছে মাটিতে পুঁতে রেখেছে লোহার তৈরি ত্রিশুল। দক্ষিণ পাশে বসেছে গ্রামের ৬-৭ জন মানুষ। তারা কবিরাজের বলা কথায় জারি গান করছে। গানের তালে নৃত্য করে ৫ কিশোরী চার পাশ ঘুরছে। এমন আজব চিকিত্সা দেখার জন্য এলাকার নারী-পুরুষের ছিল ভিড়। দুই মাসের মধ্যে রোগ নিরাময় হবে বলে চিকিত্সক ঘোষণা দিয়েছেন। বগুড়ার ধুনট সদরপাড়ায় রোগীর বাড়িতে আজব চিকিত্সার আয়োজন করা হয়েছে। ওই পাড়ার হাবিবুর রহমানের স্ত্রী আছফুল খাতুন। এক ছেলে ও এক মেয়েসন্তানের জননী। আছফুল খাতুন ৮-৯ মাস ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। তার দুটি পা অচল হয়ে পড়েছে। চলাফেরা করতে পারেন না। নানা স্থানে চিকিত্সা করানোর পর স্বামী-সন্তানরা যখন তার চিকিত্সার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তে এই চিকিত্সকের (কবিরাজ) আবির্ভাব। দূর সম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্র ধরে তিনি আছফুলের চিকিত্সা করতে চান। তার কথা মতোই তৈরি করা হয়েছে কাণ্ডারি। তার ভেতর শুইয়ে রেখে দিচ্ছেন আজব চিকিত্সা। দুই মাসের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ৪৫ দিনের চিকিত্সা চলছিল। কবিরাজ প্রতিদিন এশার নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চিকিত্সার সময় বেছে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সরেজমিন এই আজব চিকিত্সা দেখতে রোগীর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, যারা কবিরাজের সঙ্গে চিকিত্সা কাজে অংশ নিয়েছেন তাদের আগে থেকেই বলে দেয়া আছে কী করতে হবে। কবিরাজ কখনও আল্লাহর নামে, কখনও মা ফাতেমা নামে, আবার কখনও কালি মাতার নামে জারি গান করে চিকিত্সা করেন। চিকিত্সা কাজে ব্যবহারের জন্য কাণ্ডারির ভেতর রোগীর পাশে আগরবাতি, গোলাপজল, মোমবাতি ও কুলাতে রাখা কয়েক মুঠো চাল। কবিরাজের হাতে তালপাতার পাখা। কাণ্ডারির চারপাশ ঘুরে কবিরাজ গান ধরে, নেমে যাও নেমে যাও, নুলার বাও, ভাটির দিকে নেমে যাও...। মা ফাতেমার দোহাই লাগে নেমে যাও...। এমন সব নানা অশ্লীল কথা দিয়ে তৈরি গানের এক চরণ কবিরাজ বলে দেন। পাশে বসা পাঁচ দোহার বলে পরিচিত পুরুষ মানুষ সঙ্গে সঙ্গে ওই চরণগুলো গেয়ে যান। গানের তালে আঁখি খাতুন, রিক্তা, জান্নাতি ও সুমি খাতুন নৃত্য করে রোগীর চারপাশ ঘুরছে। সাত পাক শেষ হলে তন্ত্র-মন্ত্র পাঠ করে কবিরাজ রোগীর শরীরে ঝাড়ফুঁক দিয়ে পাখা দিয়ে বাতাস করেন। এভাবেই থেমে থেমে গভীর রাত পর্যন্ত চিকিত্সা চলে। চিকিত্সা কাজে চরম ব্যস্ততার মাঝেও কৌশলে কবিরাজ মসলিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়। তিনি জানান, বগুড়ার ধুনট উপজেলার গজিয়াবাড়ি গ্রামে তার বাড়ি। বাবা আবদুল গুনি মল্লিক। আজব কবিরাজ নিজেকে কৃষি শ্রমিক পরিচয় দেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে কবিরাজি চিকিত্সা করেন। তার চিকিত্সায় নুলা রোগে (প্যারালাইসিস) আক্রান্ত প্রায় ৩০০ রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ এলাকার মানুষ তাকে খুব একটা চিনেন না। তবে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোরসহ দক্ষিণাঞ্চলে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। একই গ্রামের আবদুল বারিক তার ওস্তাদ। তবে ওস্তাদ কোথায় থেকে কবিরাজি চিকত্সা শিখেছেন তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, এটা বিষ বাসড়ি নুলার বাও। ডাক্তার চিকিত্সা করেছে। তাই রোগ ভালো হতে একটু সময় লাগবে। ঝাড়-ফুঁকের পর যে ওষুধ দেয়া হবে তা নিয়মিত খেলে হয়তো রোগী চলনসই হয়ে উঠবেন, তবে একেবারেই যে ভালো হবেন এর কোনো গ্যারান্টি নেই।