Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কর্মহীন হয়ে পড়ছে উলিপুরের ৫০ চরের মানুষ

আতিক রহমান, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
কুড়িগ্রামের উলিপুরে নদী তীরবর্তী ৪ ইউনিয়নের ৫০ চরের অধিকাংশ মানুষ কষ্টে আছেন। দুই দফা বন্যায় রোপা আমনসহ আবাদি ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে যথাযথ উদ্যোগ না নেয়ায় ফসলহারা চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কাজ না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা কাজের সন্ধানে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলে পাড়ি জমাচ্ছেন।
জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা, বেগমগঞ্জ, হাতিয়া, বুড়াবুড়িসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৫০টি চর রয়েছে। এসব চরের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তারা কৃষিকাজ ও দিনমজুরি করে সংসার চালান। চলতি বছর ২ দফা বন্যায় আমনসহ সব আবাদ শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে চরগুলোতে কোনো কাজ না থাকায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে একবেলা-আধাবেলা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সাহেবের আলগা ইউনিয়নের মেকুরের আলগা, জাহাজের আলগা, গেন্দার আলগা, মাঝের চর, বতুয়াতলী সুখের চর, বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মশালের চর, উত্তর বালাডোবা, বালাডোবার চর, দই খাওয়ার চর, মোল্লার চর, হাতিয়া ইউনিয়নের চরগুজিমারি, চর বাগুয়া, ফকিরের চর, চর মোহাম্মদপুরসহ অধিকাংশ চরে কাজ না থাকায় লোকজন কষ্টে আছেন। বর্তমানে ভিজিএফ, ভিজিডি এবং ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পসহ সব প্রকল্প বন্ধ থাকায় চরাঞ্চলে কাজের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নাইট কোচ স্ট্যান্ডে চরাঞ্চলের অভাবী মানুষদের বাংকা-কাচিসহ ধান কাটার উপকরণ নিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য ভিড় করতে দেখা যায়। মেকুরের আলগা চরের ইছিমন বেওয়া জানান, ‘মোর স্বামী নাই-ছাওয়াও নাই অ্যালা কামও নাই, খায়া না খায় বাচি আছং বাবা।’ বতুয়াতলীর সুখজান জানান তার ‘শোয়ামী (স্বামী) সপ্তাখানেক আগে কামোত গেইছে। এলা্ও আহে নাই। ঘরোত খাবার নাই্। ধার-দ্যানা করি ছাওয়া পোওয়া নিয়া কোনমতে চলচি।’ সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহজাহান জানান, পরপর দুই দফা বন্যায় চরের মানুষের অবস্থা কাহিল হয়েছে। জমিতে কোনো ফসল নাই। অধিকাংশ মানুষ ধারদেনা করে চলছে। অনেকে কাজের সন্ধানে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকায় চলে গেছেন।
হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, চরে কাজ না থাকায় অভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন অনেক লোক তার কাছে সাহায্যের জন্য আসেন কিন্তু তার কিছুই করার নাই। তিনি আরও জানান, বর্তমানে চরে কোনো প্রকল্প চালু না থাকায় অভাবী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দুই দফা বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ায় চরের মানুষের দুঃখকষ্ট বেড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আনিছুর রহমান বলেন, ঈদের আগে চরের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় বর্তমানে চরে কোনো প্রকল্প চালু নাই।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম কফিল জানান, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প, টিআর প্রকল্প দ্রুত চালু করা হবে। এতে চরের লোকের কর্মসংস্থান হবে।