সিপিডির সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা : টেকসই উন্নয়নে আঞ্চলিক সহায়তার বিকল্প নেই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে সব দেশের অর্থনীতি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্দার প্রভাবে প্রায় প্রতিটি দেশের রফতানি আয় কমেছে। তবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে এ মন্দার প্রভাব পড়েছে তুলনামূলক কম। এ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বাজার ক্রমেই বড় হচ্ছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে রফতানি ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে। টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘ভ্যালু চেইন ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক ডায়ালগে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।
সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। এতে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, নেপালের ইনস্টিটিউট ফর পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ড. দিলীরাজ খানাল, কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জেমি তারজি।
সভাপতির বক্তব্যে রেহমান সোবহান বলেন, ইরান প্রচুর তেল রফতানি করে। জাহাজে করে সমুদ্রপথে এ তেল আনতে হয়। অথচ ইরান থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আনা সম্ভব। এজন্য আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন।
রেহমান সোবহান আরও বলেন, সার্ক অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা অনেক। এদের অবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত শ্রমবাজার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রফতানি করা সম্ভব হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ সফল করা সম্ভব নয়।
সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, তুরস্কের বাজারে আমাদের তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ছিল। এ সময় দেশটি বাংলাদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে। এতে বাংলাদেশের রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা মুখে বললেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। তাই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা উচিত।
বাংলাদেশে চাল ও গম রফতানির প্রতিশ্রুতি পালন না করায় অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, বাজার দামে ভারত থেকে চাল কিনতে চাইলে দেশটি বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেয়।
অতিরিক্ত শর্ত মেনে নেয়ার পরও এখনও আমরা সেই চাল-গম পাইনি।
তিনি আরও বলেন, পাঁচ হাজার টন চাল ও গম আমদানি করতে চাইলে ভারতের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ভারতের অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেও এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এসব আলোচনা কোনো কাজেই আসেনি। এখন পর্যন্ত ভারত তাদের সেই প্রতিশ্রুত চাল ও গম দেয়নি।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যব্যাংক গঠন করা হবে বলেও জানান আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া এই অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। তাই এই অঞ্চলে খাদ্যব্যাংক গঠনের চিন্তা খুবই যৌক্তিক।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউ-এসকাপের নয়াদিল্লি অফিসের পরিচালক ড. নাগেশ কুমার। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন জরুরি। এক্ষেত্রে নীতিগত কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো মোকাবিলা করা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে নেপালের সঙ্গে রেলযোগাযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ চলছে। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারত হয়ে পাকিস্তান
এমনকি ইস্তাম্বুল পর্যন্ত রেলযোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। তবে এজন্য প্রয়োজন আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা।
উদ্বোধনী সেশন শেষে ইউ-এসকাপ প্রণীত ‘রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট : সাউথ অ্যান্ড সাউথ-ওয়েস্ট এশিয়া ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১২-১৩’ শীর্ষক প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। প্রতিবেদনটি প্রণয়নে সহায়তা করেছে সিপিডি, ভারতের ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (আইএইচডি), কেয়ার বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কার ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিস (আইপিএস) ও নেপালের ইনস্টিটিউট ফর পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিআরএডি)।

সাপ্তাহিকী


উপরে

X