Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সাক্ষাত্কারে পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক : জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে

« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আমার দেশ : বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আহসান মনসুর : আমি বলব অর্থনৈতিক অবস্থা মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা একটু কমে এসেছে। টাকার ওপর চাপটাও কমেছে। সব দিক বিবেচনা করলে বলা যায়—অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপনের পথে রয়েছে। বহির্বাণিজ্যে যে বড় একটা ঘাটতি ছিল, সেটাও কমে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ব্যয়টাও কমে আসছে। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আমার দেশ : এ আশঙ্কার কারণ কি?
আহসান মনসুর : আমরা যে ধরনের বিনিয়োগ করেছিলাম তা হয়নি। আমাদের বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল জিডিপির ২৯ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে তা জিডিপির ২৫ শতাংশের কম। কাজেই বিনিয়োগে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। যার কারণে আমরা মনে করি না জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে।
আমার দেশ : দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক
অবস্থায় ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা
কতটা যৌক্তিক?
আহসান মনসুর : বাংলাদেশে প্রতি ১০ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ হারে বাড়ছে। তারুণ্যনির্ভর উন্নয়নশীল দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হার বড় ধরনের উন্নয়ন হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ভারতে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ২০ বছরে চীনের জাতীয় আয় বেড়েছে ১০ গুন। একইরকম সুবিধা থাকলে আমরা কেন পারব না। তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেই হবে না। এ লক্ষ্যে কাজও করতে হবে। পিআরএসপিতে কোনো লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও কাজ হয়েছে বলেই সাড়ে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
আমার দেশ : মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ব্যাপারে আপনার আশাবাদ কতটুকু?
আহসান মনসুর : মধ্যম আয়ের দেশ নিয়ে আমার তেমন কোনো সন্দেহ নেই। একটা সময়ে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। সাড়ে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে আগামী ১০ বছরে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে আমরা যেতে পারব। তবে এটা সম্মানজনক হবে না। আর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ভালো মানের মধ্যম আয়ে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে ৬ শতাংশের ঘর থেকে আমরা বের হতে পারছি না। এ থেকে বের হতে চাইলে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে, অবকাঠামো, শ্রমের দক্ষতা এবং নগরায়নের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
আমার দেশ : প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসছে না কেন?
আহসান মনসুর : সরকারি বিনিয়োগের দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা দেখব পদ্মা সেতু হচ্ছে না। অথচ গত বছর কাজ শুরু হলে এ বছর পদ্মা সেতুতে প্রায় একশ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়ে যেত। ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। সরকারি খাতে বিনিয়োগ না বাড়ায় অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন হচ্ছে না। ফলে থমকে আছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। পাশাপাশি রয়েছে জমির সমস্যা। বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ রয়েছে—এমন জমি পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও রয়েছে। উদ্যোক্তারাও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত। এ অস্থিরতা বাড়বে—এমনটাই ধরে নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তারা।
আমার দেশ : ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অস্থিরতাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
আহসান মনসুর : অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ রাজনৈতিক কারণে লোপ পেয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক ঋণ দেয়া হয়েছে। এর ফলে আমাদের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়েছে। শেয়ারবাজারেও রাজনৈতিক অপরিণামদর্শিতা ছিল। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব কাজে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে ব্যবহার করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান চালু করাই সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।
আমার দেশ : আমাদের অর্থনীতির জন্য বর্তমানে কি ঝুঁকি রয়েছে?
আহসান মনসুর : অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জমি ও আবাসন খাত। সাম্প্রতিক সময়ে জমি ও বাড়ির দাম অনেক বেশি বেড়েছে। ফটকাবাজির মাধ্যমে জমির দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে এ খাতে বিনিয়োগ লাভজনক হচ্ছে না। এর ফলে বড় ধরনের মূল্যধস হতে পারে। এ অবস্থায় যারা জমি কিনে বসে আছেন, তাদের লাভ তো হবেই না; এমনকি আসল নিয়েও টান পড়তে পারে। যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জমি কিনেছেন, তারা অনেকেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারেন। বাড়তি মূল্য সংশোধন হলে ব্যাংকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমনকি ব্যক্তিখাতও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব অর্থনীতিতে পাঁচ বছর ধরে চলতে পারে।
আমার দেশ : অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে জরুরি পদক্ষেপ কি হতে পারে?
আহসান মনসুর : ব্যাংকিং খাতে বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকে শৃঙ্খলার অভাব অবিলম্বে দূর করতে হবে। সেটা করতে গেলে ব্যাংকিং বিভাগ বাতিল করে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকেও সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে যেন হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা না ঘটে।