Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বিচারের ঊর্ধ্বে রাখা যাবে না মার্কিন সেনাদের : আফগানিস্তান

বিবিসি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আফগান ও মার্কিন কর্মকর্তারা যখন নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তখন আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট সদস্যরা মার্কিন সেনাদের বিচারের ঊর্ধ্বে রাখার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। আফগান সংসদ সদস্য সালেহ মোহাম্মদ সালজুকি সে দেশে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিচারের ঊর্ধ্বে রাখার মার্কিন আবেদনকে অগ্রহণযোগ্য অভিহিত করে বলেছেন, ২০১৪ সালের পরও সে দেশে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ওয়াশিংটন-কাবুল কৌশলগত নিরাপত্তা চুক্তির লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, আফগান সরকার আমেরিকার এ ধরনের দাবি কখনই মেনে নেবে না এবং সংসদ সদস্যরাও তা মানবে না। আফগান পার্লামেন্টের এ সদস্য আরও বলেন, জনগণের দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের আরেকটি কারণ হচ্ছে, আমেরিকা আফগানিস্তানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে চায় কিন্তু আমরা মার্কিন এ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছি। মোহাম্মদ সালজুকি আফগানিস্তানে স্থায়ীভাবে বিদেশি সেনা বিশেষ করে মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিরোধিতা করে বলেন, আফগানিস্তান একটি স্বাধীন দেশ এবং এ দেশের রয়েছে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অপরাধযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
এ কারণে আফগান জনমনে এ আশঙ্কা জোরদার হয়েছে যে, আফগানিস্তানে বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি এবং তাদের বিচারের বাইরে রাখার চিন্তা-ভাবনা শুধু যে আফগানিস্তানের জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন তাই নয় বরং এর ফলে অপরাধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতেও বিদেশি বাহিনী উত্সাহিত হবে। এ কারণে আফগানিস্তানের জনগণ ২০১৪ সালের পরও সে দেশে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে। আমেরিকা যদিও জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তারা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে কিন্তু একই সঙ্গে তারা আফগানিস্তানে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য দেশটির সঙ্গে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষরেরও চেষ্টা চালাচ্ছে।
আফগানিস্তানে স্থায়ীভাবে মার্কিন সেনা ঘাঁটি স্থাপন এবং এসব বিদেশি সেনাদের বিচারের ঊর্ধ্বে রাখার বিষয়টি এখন আফগান জনগণের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু আফগান জনগণই নয় একই সঙ্গে রাশিয়াসহ এ অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও আফগানিস্তানের ব্যাপারে মার্কিন এ পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে।
রুশ কর্মকর্তারা বহুবার আফগানিস্তানের ব্যাপারে মার্কিন নীতির বিরোধিতা করে ২০১৪ সালের পর আমেরিকার অবস্থান কি হবে তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, আফগানিস্তানে ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা। ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনী আফগান জনগণের ওপর হত্যাকাণ্ড, তাদের ধর্মীয় ও নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি বা মূল্যবোধের অবমাননা করা, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ নানা অপকর্মে জড়িত রয়েছে। কিন্তু আফগান বিচার বিভাগ এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণে দখলদার শক্তি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ কারণে আফগানিস্তানে স্থায়ীভাবে মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণের সুযোগ দেয়া হলে এবং তাদের বিচারের ঊর্ধ্বে রাখা হলে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা নিয়ে আফগান জনগণ খুবই চিন্তিত।