Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের পরাজয় নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ধস

বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বাড়াতে গিয়ে উল্টো ফল পেয়েছেন দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দখলদার ইসরাইলে আলাদা দুটি জনমত জরিপ থেকে এ ফলাফল বেরিয়ে এসেছে। গাজা যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কারণে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইহুদিবাদীদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন।
দৈনিক আশ-শারকুল আওসাত লিখেছে, ইসরাইলের টিভি চ্যানেল-টু পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা গেছে, গাজায় হামলা শুরুর প্রথম দিকে ইসরাইলের ৮২ শতাংশ মানুষ নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিচ্ছিল, কিন্তু এখন তা ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ‘ব্যালান্স পলিটিক্স’ সংস্থার একটি জরিপ প্রতিবেদন ছেপেছে ইসরাইলি দৈনিক মায়ারিভ। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ইসরাইলের ৬০ শতাংশ মানুষ গাজা যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ভূমিকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা যুদ্ধবিরতিরও বিরোধিতা করেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী মাত্র পাঁচ শতাংশ ইহুদিবাদী বলেছে, তারা যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বেশিরভাগই জানিয়েছে, যুদ্ধে ইসরাইল কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। ওই দুই জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ ইহুদিবাদী মনে করে-গাজা যুদ্ধে হামাস বিজয়ী হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, আগামী জানুয়ারির আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় হামলা শুরু করেছিলেন এবং হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ফলাফল হয়েছে উল্টো। ইরানের স্পিকার ড. আলি লারিজানি বলেছেন, গাজা যুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামীদের বিজয় ইসরাইলের জন্য ভয়াবহ সুনামির সমতুল্য। লেবাননের বৈরুতে পৌঁছে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। লারিজানি আরও বলেন, গাজার ঘটনা প্রমাণ করেছে ফিলিস্তিন ও লেবাননের প্রতিরোধ সংগ্রাম কৌশলগত শক্তি। গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিজয় গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে তিনি জানান। লারিজানি বলেন, দখলদার ইসরাইল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে গাজায় হামলা করেছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনা ইসরাইলের মর্যাদার জন্য এক ভয়াবহ সুনামি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনিদের বিজয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান। ড. লারিজানি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ফিলিস্তিনিরা দ্রুত তাদের পূর্ণ অধিকার ফিরে পাবে।’
এদিকে লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, ইসরাইল সরকার আট দিনের গাজা যুদ্ধে তার লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ যুদ্ধে বিজয়ের জন্য তিনি ফিলিস্তিনের সব প্রতিরোধ যোদ্ধাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শুক্রবার এক টেলিভিশন ভাষণে হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, ‘আবারও তলোয়ারের ওপর রক্তের বিজয় হলো।’ গত ১৪ নভেম্বর থেকে ইসরাইল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালাতে শুরু করে এবং আট দিন সে আগ্রাসন অব্যাহত ছিল। এতে অন্তত ১৬০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ ও এক হাজার ২০০ জন আহত হয়েছে।
যুদ্ধ প্রসঙ্গে নাসরুল্লাহ বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবারের যুদ্ধে বড় কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন সামান্য কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে। কিন্তু তাও তিনি অর্জন করতে পারেননি।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলের সেনারা শুক্রবার গাজা-ইসরাইল সীমান্তের কাছে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন।
মিসরের মধ্যস্থতায় বুধবার সন্ধ্যা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরাইলের হাতে গাজার ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনা এটিই প্রথম। গাজার ইসলামপন্থী দল হামাসের এক মুখপাত্র এ ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করেছেন এবং কায়রোর কাছে এ ব্যাপারে নালিশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন।
ওদিকে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, ওই ঘটনা সম্পর্কিত প্রতিবেদনগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকজন চিকিত্সক সূত্রে বলা হয়েছে, আনোয়ার কেইহ (২৩) নামের ওই ফিলিস্তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গাজা সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা বেষ্টনীর দিকে অগ্রসর হওয়ার পর তিনি ইসরাইলি সেনাদের আক্রমণের শিকার হন। ওই এলাকাটিতে গাজাবাসীদের প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ রেখেছে ইসরাইল।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আনোয়ারের এক আত্মীয় রয়টার্সকে জানান, বেষ্টনীর ওপর হামাসের পতাকা টাঙানোর চেষ্টা করার সময় ইসরাইলি সেনাদের ছোড়া গুলি আনোয়ারের মাথায় লাগে। তবে এর আগে ইসরাইলের সেনারা তিনবার ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলেও জানান তিনি। হামাসের মুখপাত্র শমি আবু জুহরি ঘটনাটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার জন্য মিসরের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’
ওদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্রও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, গাজার নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ইসরাইলে প্রবেশের চেষ্টাও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।
মিসরের মধ্যস্থতায় গত বুধবার যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর দু’পক্ষের মধ্যে ৮ দিনের তুমুল লড়াই শেষ হয়। এ লড়াইয়ে নিহত হয় ১৩৬ জন ফিলিস্তিনি এবং ৬ ইসরাইলি।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তানুযায়ী ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনি দু’পক্ষই সহিংসতা অবসানে রাজি হয়েছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় পর বৃহস্পতিবার থেকে গাজা সীমান্তে মোতায়েন বাহিনী প্রত্যাহারও শুরু করে ইসরাইল।
ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ট্যাঙ্ক ও সামরিক বুলডোজারগুলো লরিতে তুলে ইউক্যালিপটাস বনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পের দিকে রওনা হয় ইসরাইলি বাহিনী। শনিবারের মধ্যে সেনা প্রত্যাহর সম্পন্ন হওয়ার কথা। ১৪ নভেম্বর ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের নিখুঁত নিশানায় হামাসের সামরিক শাখার প্রধান নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে দু’পক্ষের লড়াই শুরু হয়েছিল। গাজা থেকে রকেট হামলা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে বলে জানায় ইসরাইল।
ইসরাইল দাবি করে, অক্টোবরের শেষদিক থেকে নভেম্বরের প্রথম কয়েকদিন পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলের ভূমিতে ৭ শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।