Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ইমিগ্র্যান্টদের কাছে টানতে রিপাবলিকানদের নতুন সুর

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, নিউইয়র্ক
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
রাজনীতির লাভক্ষতির হিসাবের কাছে কীভাবে কট্টর নীতিবাগিশরাও সুর পাল্টে ফেলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর তা প্রমাণিত হয়েছে ইমিগ্রেশন ইস্যুতে রিপাবলিকানদের ভূমিকায়। ৬ নভেম্বরের আগে রিপাবলিকানদের ঘোষিত নীতি ছিল, ইমিগ্র্যান্টরা কাজ করার জন্য সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ পেতে পারে। তারা তাদের আয়ের ওপর কর দেবে এবং কাজ শেষ হলে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে। তারা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবে না, নাগরিকত্ব লাভের তো প্রশ্নই আসে না। কিন্তু নির্বাচনের পর ইমিগ্রেশন প্রশ্নে অতি রক্ষণশীল রিপাবলিকানরা ইমিগ্রেশন আইন সংস্কারের পক্ষে বলছেন, যাতে ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই এমন ইমিগ্র্যান্টদের নাগরিকত্ব লাভে কোনো বাধা না থাকে। ক’দিন আগেই তারা অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের আমেরিকানদের চাকরিতে হানাদানকারী, সব সুযোগ-সুবিধা হরণকারী ও অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছে, তাদের অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে গ্রেফতার ও ডিপোর্টেশন, কোনোভাবেই মার্জনা নয়। কিন্তু ৬ নভেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্টদের অবদান আবিষ্কার করলেন রিপাবলিকানরা। রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন ও লিন্ডসে গ্রাহাম, যারা উভয় দলের সম্মতিতে ইমিগ্রেশন আইনে সংস্কার প্রস্তাব সাহসিকতার সঙ্গে সমর্থন করেছিলেন, তারা বুশ প্রশাসনের শেষ দিকে এসে নীরব হয়ে যান। কিন্তু এখন তারা আবার এগিয়ে এসে সংস্কারের পক্ষে বলতে শুরু করেছেন, যেন গত ৫ বছরে কোনোকিছুই ঘটেনি।
রিপাবলিকানদের অবস্থান পাল্টানোর কারণ হচ্ছে গত নির্বাচনে ল্যাটিনোদের ভোট। যাদের অবৈধ বলতে রিপাবলিকানরা দ্বিধা করত না, তাদের মধ্য থেকে লাখ লাখ ভোটার পছন্দ করেছে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে এবং মিট রমনিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। জরিপগুলোতে ওবামার ক্ষেত্রে প্রতি তিনজন ল্যাটিনোর দু’জনই সমর্থন করেছে এবং নির্বাচনে তারা ওবামাকে ৭০ শতাংশের অধিক ভোট দিয়েছে। এশীয়-আমেরিকানরাও বিপুলভাবে ভোট দিয়েছে ওবামার পক্ষে। এ ফলাফলে রিপাবলিকানরা বলছে, ইমিগ্র্যান্টরা আসলে ততটা খারাপ নয়। ওবামা তার প্রথম মেয়াদে ৮ লাখ ৬১ হাজার তরুণকে বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দেয়া ছাড়া আর কিছুই করেননি। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্র্যান্টদের নিয়মিতকরণের ঘোষণা দিয়েছেন। তাছাড়া সামগ্রিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের ইমিগ্রেশন নীতি রিপালিকানদের চেয়ে উদার। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের বৈধতা দেয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার সদিচ্ছার কথা জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে তার অভিষেকের পরই কংগ্রেস কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল উত্থাপন করবে এবং তা আইনে পরিণত হবে। তার মতে, এটি দলীয় কোনো ইস্যু নয়। অতীতে সব সরকারই অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের বৈধতা দিয়েছে। বিশেষত তিনি অবৈধভাবে বসবাসকারী তরুণদের বৈধতা দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেছেন, যেসব তরুণ আমেরিকায় পড়াশোনা করেছে, আমেরিকার পতাকার প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে, তারা আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে যেতে আগ্রহী, উচ্চশিক্ষা নিয়ে আমেরিকার জন্য অবদান রাখতে আগ্রহী—তাদের ডিপোর্ট করার আশঙ্কার মধ্যে রাখা সঙ্গত নয়। তাদের আমেরিকার নাগরিকত্ব অর্জনের সব ধরনের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, এরই মধ্যে এ বিষয়ে কংগ্রেসম্যানদের মধ্যে আলোচানা শুরু হয়েছে। কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম পূর্ববর্তী রিফর্মগুলোর চেয়ে ব্যতিক্রমী কিছু নয়, বরং প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসম্যানরা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত সুরক্ষার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করছেন। যে কোনো মূল্যে সীমান্তকে নিরাপদ করতে তারা একমত হবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। ইমিগ্রেশনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ অধিক জড়িত। কারণ তারা পর্যাপ্ত সংখ্যক অতি দক্ষ শ্রমিক পেতে চান এবং এজন্য ওবামা জোর দিয়ে বলেছেন, ফিজিক্স বা কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী কেউ যদি আমেরিকায় থাকতে চায়, ব্যবসা করতে চায়, তাহলে এদেশে তাদের বসবাস কঠিন করে তোলা আমাদের উচিত নয়। আমাদের উচিত তাদের উত্সাহিত করা, যাতে তারা আমেরিকান সমাজে অবদান রাখতে পারে। ইমিগ্রেশন আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জন্য শিগগিরই আলাপ-আলোচনা ফের শুরু করবেন বলে আভাস দিয়েছেন নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক স্যুমার এবং রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ বলে ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হিসাবে দেখানো হয়। ইমিগ্রেশন ইস্যুতে দুই সিনেটরের মতৈক্যে উপনীত হওয়ার আগে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান জন বোয়েনারও অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের বৈধতা দেয়ার ব্যাপারে পুনর্নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ইমিগ্রেশন ইস্যুতে একটি ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ অনেক আগেই উচিত ছিল, যাতে ভবিষ্যতে ইমিগ্রেশন নিয়ে আর কোনো জটিলতার মুখোমুখি হতে না হয়। সিনেটর চাক স্যুমার ও লিন্ডসে গ্রাহাম ২০১০ সালে ইমিগ্রেশন আইন সংস্কারের লক্ষ্যে একটি ‘প্রতিশ্রুতিশীল কাঠামো’র প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি তথন সমর্থন লাভ করেনি। তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—ভুয়া সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড শনাক্ত করার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার, যাতে কেউ অবৈধভাবে কাজ করার সুযোগ না পায়, সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও ইমিগ্রেশন আইনের কঠোর প্রয়োগ, সাময়িকভাবে শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া সৃষ্টি এবং যারা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে তাদের বৈধতা দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি ও বাস্তবায়ন। চাক স্যুমার বলেন, অবৈধদের বৈধতা দিয়ে পর্যায়ক্রমে নাগরিকত্ব লাভের দিকে নেয়াই সঙ্গত। এর ফলে তাদের ইংরেজি শিখতে হবে, কাজ করতে হবে এবং কোনো অপরাধে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
লেখক : প্রধান সম্পাদক, নিউজমিডিয়াবিডি.কম