Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে এমওইউ সই কাল

প্রবাস জীবন ডেস্ক
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বাংলাদেশী জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার বন্ধ দরজা খোলার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে কাল। বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে আগামীকাল ২৬ নভেম্বর মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এখন কুয়ালালামপুরে রয়েছেন। শুক্রবার তারা মালয়েশিয়ায় গেছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে সরকার টু সরকার (জি টু জি) পদ্ধতিতে বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সে দেশের সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবেন মন্ত্রী। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে মানব পাচার প্রতিরোধ এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন সংক্রান্ত আরও দু’টি এমওইউ সই হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী কর্মী পাঠানো এবং কর্মরত কর্মীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সে দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়া সফর শেষে মন্ত্রী আগামী ২৭ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন। ওই সফরে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামছুন নাহার, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
এদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানকার প্লান্টেশান (কৃষি), ফার্নিচার শিল্পসহ আরও বেশ কয়েকটি উত্পাদনশীল খাতে কর্মী সঙ্কট চলছে। যে কারণে দেশটির উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না। তাই তারা বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে চায়। কারণ, বাংলাদেশের শ্রমিকরা কাজে খুব ভালো। তারা নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে অতিরিক্ত সময় কাজ করেন। সাধারণত অন্য দেশের শ্রমিকরা এ ক্ষেত্রে গড়িমসি করে।
বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় ২০০৮ সাল থেকে জনশক্তি রফতানি বন্ধ আছে। দীর্ঘ কূটনৈতিক যোগাযোগের পর এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, জেলা কোটা অনুযায়ী নাম নিবন্ধন করতে হবে। কোনো জেলার নির্ধারিত কোটা পূরণ হতে যে ক’দিন লাগবে, ততদিন নিবন্ধন চলবে। কোটা পূরণ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই জেলার নিবন্ধন বন্ধ হয়ে যাবে। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর নাম নিবন্ধনকারীদের ফিরতি বার্তায় সাক্ষাত্কারের সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়া হবে।
বিএমইটির মহাপরিচালক (ডিজি) বেগম শামসুন্নাহার বলেন, সরকারি চাকরির মতো জেলা কোটার ভিত্তিতে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন আগ্রহীরা। আদমশুমারির গণনা অনুযায়ী যে জেলায় যত বেশি জনসংখ্যা সে জেলা থেকে তত বেশি লোক মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিএমইটির ডিজি আরও বলেন, নিবন্ধনের পর প্রার্থীকে একটি ফিরতি বার্তা পাঠানো হবে। তাতে বলা থাকবে কোনো কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) তার সাক্ষাত্কার হবে। সাক্ষাতের এই পর্বেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দক্ষতার কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর একটি ডেটাবেজ (তথ্যভাণ্ডার) করা হবে। এতে নাম ওঠার পর তাদের পাসপোর্ট করবে শ্রমিকরা।
বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, এবার কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম)। এছাড়া প্রশিক্ষণ ছাড়া এবার কোনো কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠাবে না সরকার। মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হলে তাকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
প্রশিক্ষণে মালয়েশিয়ার ভাষা, খাবার, সংস্কৃতি, আইন সম্পর্কে কর্মীদের ধারণা দেয়া হবে। এবার মালয়েশিয়া যেতে একজন কর্মীর সর্বোচ্চ খরচ পড়বে ৪০ হাজার টাকা। এর বাইরে প্রার্থীকে নিজ খরচে এমআরপি করতে হবে। দেশে ফেরার সময় নিয়োগ কর্তা তার বিমান ভাড়া দেবেন।
বিএমটিএর এসব পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে বেসরকারিভাবে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রা। বায়রা নেতারা হুমকি দিয়েছেন যে, তাদের সম্পৃক্ত করা না হলে অন্যান্য দেশে শ্রমিক পাঠানো তারা বন্ধ করে দেবেন।