Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

তবু সুখী এনামুল

তোফায়েল আহমেদ রবিন
« আগের সংবাদ
তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে মোটেও বড় বলার উপায় নেই। থাকবে কি করে? মাত্র ১৪ টেস্ট আর ১০টি ওয়ানডে খেলা কোনো ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারকে কি আর বড় বলা যায়। তবে সময়ের হিসেবে দেশের সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যেই পড়েন তিনি। ২০০৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। নয় বছর পার করার পর সময়ের সঙ্গে ম্যাচ সংখ্যাকে একটু বেমানানই মনে হয়। যদিও এখনও তার সামনে পড়ে আছে দীর্ঘ ক্যারিয়ার। তারপরও অল্পসংখ্যক ম্যাচ খেলেই তিনি হয়ে আছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। তিনি এনামুল হক জুনিয়র; বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক।
এনামুল হক জুনিয়র শুধু প্রথম টেস্ট জয়ের নায়কই নয়, অনেক প্রথমের সঙ্গেই বাংলাদেশের মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। নামের সঙ্গে সিনিয়র বা জুনিয়র লেখার প্রচলন তো এক অর্থে বাংলাদেশের মানুষ প্রথম দেখল এনামুল হক জুনিয়রের অভিষেকের পর। এ বিষয়টিকে তেমন বড় করে দেখার কারণ নেই। অনেকে একে খোঁড়া যুক্তিও বলতে পারেন। তবে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট নেয়া, টেস্টে প্রথম সিরিজ সেরার পুরস্কার কিংবা প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাংলাদেশী কোনো বলারের প্রথম ৩০০ উইকেট লাভ, এই তিনটিকে অনেক বড় অর্জনই বলা যায়। এই কীর্তিগুলো গড়ার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বেশি না খেলেও বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি পরিচিত এনামুল হক জুনিয়র নামটি। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ও সিরিজ জয়ের পাশাপাশি ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়েও ভূমিকা রেখেছিলেন এনামুল। কিন্তু সেই সিরিজেই সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন এনামুল। আর শেষ ওয়ানডে খেলেছেন একই বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তারপর দল থেকে কীভাবে বাদ পড়লেন, সেটি এনামুলের নিজের কাছেই আজও অজানা।
এবার ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজের আগে এনামুলের নামটি উচ্চারিত হচ্ছিল খুব ভালোভাবেই। দলে বাঁহাতি স্পিনারের ছড়াছড়ি। তারা পারফর্মও করছেন। তারপরও এনামুলের নামটি আলোচনায় আসার মূল কারণ তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। গেইল-স্যামিদের বিপক্ষে সিরিজের আগে জাতীয় লিগের যে দুটি রাউন্ডকে বাংলাদেশের প্রস্তুতির ক্ষেত্র হিসেবে ধরা হয়েছিল, সেই দুই রাউন্ডেই ৫ উইকেট করে রয়েছে এনামুলের। তার আগে ঢাকায় খেলে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ হাই পারফরম্যান্স দলের বিপক্ষেও অসাধারণ খেলেছিলেন। ভালো করেছিলেন ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরেও। এত ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা প্রাপ্যই বলা যায়। তার ওপর তিনি পরীক্ষিত স্পিনার। কিন্তু এনামুলের কপাল পুড়েছে নির্বাচকদের টিম কম্বিনেশনে তিনি না থাকায়। ক্যারিবীয় দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের আধিক্য থাকায় একজন ডানহাতি অফ স্পিনার নেয়ার চিন্তা ছিল নির্বাচকদের। তাই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে দলে সুযোগ পেয়েছেন সোহাগ গাজী। এই দু’জনের সঙ্গে রয়েছেন সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ভালো করা ইলিয়াস সানিও। তাই ১৪ সদস্যের দলে এনামুল উপেক্ষিতই থেকে গেছেন।
ভালো করার পরও দলে সুযোগ না পাওয়াটা যে কোনো ক্রিকেটারের মধ্যেই হতাশা তৈরি করার কথা। ব্যতিক্রম নন এনামুল। তবে কখনোই হতাশা তাকে পেয়ে বসে না, ‘আসলে হতাশা যে কাজ করে না তা নয়, আমিও হতাশ হই। প্রথম দু-তিনদিন খুব খারাপ লাগে। পরে ভাবী পড়ে থেকে কি লাভ।’ তাই নতুন লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করি।’ এনামুল এরই মধ্যে নেমে পড়েছেন তার নতুন মিশনে। এখন তার বর্তমান লক্ষ্য জাতীয় লিগের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর মর্যাদাটা ধরে রাখা। এরই মধ্যে প্রথম দুই রাউন্ডের মতো তৃতীয় রাউন্ডেও পাঁচ উইকেট পেয়েছেন সিলেটের এই তরুণ। পাশাপাশি জাতীয় দলের জন্যও নিজেকে তৈরি রাখছেন সব সময়। যাতে যে কোনো মুহূর্তে দলে ডাক পেলে ভালো করতে পারেন। নির্বাচকদের কাছ থেকে যে তিনি সে আশ্বাসই পেয়েছেন। ‘আকরাম ভাই ফোন দিয়েছিলেন, বলেছেন হতাশ না হতে, সামনে সুযোগ আসবে’— বলছিলেন এনামুল। প্রধান নির্বাচকের কাছ থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পর এনামুল হয়তো আরও উজাড় করে দেবেন নিজেকে।
২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে যখন এনামুলের অভিষেক তখন তিনি কেবলই একজন কিশোর। কৈশোর অবস্থাতেই সব চেয়ে কম বয়সে টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচে ১০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান এনামুল। কৈশোর পেরিয়ে এখন যৌবনে থাকা এনামুলের চেহারায় আগের সেই মায়াবী শিশুসুলভ ভাবটি এখনও কাটেনি। তবে বোলিংয়ে আগের থেকে অনেক পরিণত হওয়ার কথা জানালেন এনামুল। প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক এনামুল আর এখনকার এনামুলের মাঝে পার্থক্য করতে গিয়ে এনামুল এক কথায় বললেন, ‘এখন আমি আগের থেকে অনেক বেশি ম্যাচিউরড।’ যেখানেই খেলছেন ভালো পারফর্ম করছেন। এর পেছনে কোন জিনিসটি কাজ করছে? এনামুল বলেন, ‘আসলে আমি এখন ভালো রিদমে আছি। মাঝে কিছুটা সময় রিদমটা হরিয়ে ফেলেছিলাম। এখন সেটা আবার ফিরে পেয়েছি।’ ভালো রিদমে আছেন, নিয়মিত সাফল্য পাচ্ছেন বলেই জাতীয় দলে ডাক না পেলেও নিজেকে সুখি মনে করেন এনামুল।