Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সকাল-সন্ধ্যা একটি করে সাবান না খেলে চলে না!

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
মানুষের খাদ্য তালিকায় অনেক কিছুই আছে। ভাত, রুটি, সবজি, ডাল, ফলমূল আরও কত কী। কিন্তু কাপড় কাঁচা বা গায়ে মাখা সাবান কেউ নিয়মিত খান এমন আজব খবর কখনও শুনিনি। হ্যাঁ তেমনটিই বিগত ৩২ বছর ধরে চলে আসছে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার দত্তপুর গ্রামে। সাধারণ মানুষের পক্ষে যেখানে সাবান খাওয়া দূরে থাক সামান্য একটু ফেনা মুখে গেলেও বার বার মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করেন। মুখ পুড়তে শুরু করে। অথচ আবদুল করিম সাবান খান নিয়ম করে।
এই গ্রামের অপর ৮/১০ জন মানুষের মতোই দেখতে হলেও আবদুল করিমের খাদ্য তালিকায় রয়েছে সাবান। সাবান খাওয়ার জন্য আবদুল করিম এলাকার মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। তার খাদ্যের তালিকায় ভাত, রুটি, মাছ, মাংস, তরিতরকারির পাশাপাশি রেখেছেন সাবান, আর এই তালিকা একদিনের জন্য তৈরি করেননি। ৩২ বছর ধরেই খেয়ে চলেছেন সাবান! ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার দত্তপুর গ্রামের এই মানুষটির নাম আবদুল করিম। তার খাদ্যের তালিকায় প্রতিদিনের জন্য চাই সাত সাতটা সাবান! ভাবতেই অবাক লাগে, মানুষ যেখানে সাবানের ফেনা মুখে গেলেই কম করে হলেও ২/৩ বার মুখে পানি ঢেলে মুখ পরিষ্কার করে ফেলে আর আবদুল করিম সেখানে সেই সাবান খাচ্ছেন নিয়মিত। গোসল করার সময় সাবানের সেন্ট ভালো লাগায় তার সাবান খাওয়া শুরু হয়। প্রথম প্রথম গোসলের সময় সাবানের ফেনা খেতেন। তারপর একদিন নিজের ইচ্ছায় মনের উপর জোর করে তার সাবান খাওয়া। সাবান খেয়ে সেদিন ভালো লাগায় আর অন্য কোনো খাবার নয়। প্রতিদিন বেড়েই চলে তার সাবানের লিস্ট। আগে অর্ধেকটা সাবান হলেই চলে যেত, এখন লাগে সাতটা। প্রতিদিন সাত সাতটা সাবান। তবে সব সাবান তিনি খান না। আগে যে কোনো সাবান খেলেও একদিন লাইফবয় সাবান খাওয়ার পর তার ভালো লেগে যায়। তারপর থেকে ২২ টাকা মূল্যের লাইফবয় সাবানটি তার প্রিয় হয়ে যায়। এই সাবানটি তার সংগ্রহে থাকে ২/৩ ডজন। আবদুল করিমের কানুরামপুর বাসস্ট্যান্ডে ছোট্ট একটি খাবারের দোকান আছে। ওই দোকানে বসেই সাবান খান তিনি। তবে তিনি সাবান খান গোসল করার আগে। সাবান খাওয়ার এই দৃশ্য দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরেই করিম সাবান খান তা এলাকার সবাই জানে আর এর ফলে আবদুল করিম সবার কাছে অতি পরিচিত। পাশের চা বিক্রেতা নূরজাহান বলেন, ঘটনাটি নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। তবে তার এ ধরনের সাহসের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা উচিত। আবদুল করিমের ২ ছেলে আল-মামুন, আল-মাসুদ এবং এক মেয়ের নাম শাহানা। স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের বাবার বাড়ি জামালপুরে। বেশ কিছুদিন আবদুল করিম সেখানেই ছিলেন। এখন নিজ এলাকায় খাবারের একটি ছোট্ট দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।
আবদুল করিমের স্ত্রী আনোয়ারা বলেন, প্রথম প্রথম বিপদ হবে এই আশঙ্কায় সাবান না খাওয়ার জন্য বলতাম। ডাক্তারও তাকে সাবান খেতে নিষেধ করেছিল কিন্তু কার নিষেধ কে শোনে। উনি সাবান খাওয়া বন্ধ করেননি। আর এই সাবান খাওয়া যতদিন বাঁচবেন চালিয়ে যাবেন। এখন এটি তার সয়ে গেছে। আবদুল করিম বলেন, সাবান না খেলে ভালা লাগে না। পায়খানাও পরিষ্কার হয় না। মোট কথা শান্তি পাই না। সকাল-সন্ধ্যায় একটি করে লাইফবয় সাবানই চাই, না হলে একদম চলে না।