Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কেশবপুরের মির্জানগর হাম্মামখানার সংরক্ষণ চায় স্থানীয় মানুষ

জয়দেব চক্রবর্তী
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
সুদীর্ঘ ৩৬১ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যসমৃদ্ধ স্থাপত্য কেশবপুরের মির্জানগর হাম্মামখানা। এটি এখনও আকর্ষণ করে হাজারও মানুষকে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের যথাযথ উদ্যোগ না থাকায় দিন দিন ধ্বংসের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন ঐতিহ্যের এ নিদর্শনটি।
ইতিহাসের পাতা থেকে জানা গেছে, বাংলার সুবেদার শাহ সুজার শ্যালকপুত্র মির্জা সফসি খান ১৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে যশোর ফৌজদার নিযুক্ত হন। তার হাতেই পত্তন হয়েছিল এই হাম্মামখানাটি। যশোরের কেশবপুর উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর মিলনস্থলে ত্রিমোহিনী নামক স্থানে বাস করতেন মির্জা সফসি। তার নাম অনুসারে এলাকাটির নাম হয় মির্জানগর। ত্রিমোহিনী কেশবপুর রাস্তার পাশে মির্জানগরের নবাববাড়ি এখন ভগ্নস্তূপবিশেষ। এই হাম্মামখানা ঘিরে এখনও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে বহুকাহিনী ও ঘটনা। ঐতিহাসিক বাড়িটিকে ঘিরে এখনও নানা ঘটনা ও স্মৃতি মানুষের মুখে মুখে বয়ে বেড়ায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নুরলা খাঁ ফৌজদার নিযুক্ত হন। তিনি বুড়িভদ্রা নদীর দক্ষিণ পাড়ে কিল্লাবাড়ি স্থাপন করে সেখানে বসবাস করতেন। সুবিস্তৃত পরিখা খনন করে আট-দশ ফুট উঁচু প্রাচীর বেষ্টিত করে ওই স্থানটিকে মতিঝিল নামকরণ করেন। এর একাংশে বর্তকখানা, হাম্মামখানা (গোসল খানা) ও দুর্গের পূর্বদিকে সদর তোরণ নির্মাণ করেছিলেন। কামান দ্বারা দুর্গটি সুরক্ষিত ছিল। মির্জানগরের কামানের একটি যশোরের মনিহারের মোড়ে সংরক্ষিত আছে।
কিন্তু মির্জানগরে হাম্মামখানাটি ছাড়া বাদে আজ কিছুই অক্ষত নেই। চার কক্ষবিশিষ্ট এবং একটি কূপসমেত হাম্মামখানাটি মোগল স্থাপত্যশৈলীর অনুকরণে নির্মিত হয়। স্থাপনাটি চার গম্বুজবিশিষ্ট, এর পশ্চিম দিকে পরপর দু’টি কক্ষ। পূর্ব দিকের কক্ষ দু’টি উঁচু চৌবাচ্চা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পূর্ব পাশে দেয়াল বেষ্টনীর ভেতরে রয়েছে ৯ ফুট ব্যাসের পোড়ামাটির ইটের তৈরি নির্মিত সুগভীর কূপ, যে কূপ থেকে পানি টেনে তুলে এক ছাদের দু’টি চৌবাচ্চায় জমা করে রোদে গরম করে দেয়াল অভ্যন্তরে গ্রন্থিত পোড়ামাটির নলের মাধ্যমে স্নান কক্ষে সরবরাহ করা হতো। স্থাপনাটির দক্ষিণ পাশে একটি চৌবাচ্চা এবং সুড়ঙ্গ রয়েছে, যা তোষাখানা ছিল বলে ধারণা করা হয়। ১৯৯৬ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে।
দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটক ও অতিথিরা এখানে এলেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তারা ভ্রমণপিপাশা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকারিভাবে মির্জানগর হাম্মামখানাটি রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার দাবি এলাকার মানুষের।