Amardesh
আজঃঢাকা, রোববার ২৫ নভেম্বর ২০১২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ১০ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২ টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

উপজাতীয়দের হাতে বণ্যপ্রাণী সাবাড়

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
নওগাঁসহ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উপজাতিরা এখনও প্রতিনিয়ত শিকার করে হাজার হাজার পশু। বানর, বেজি, গুইসাপ, বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখি শিকার করা, সেগুলোর মাংস ভক্ষণ ও সেগুলো বেচাকেনাই তাদের পেশা।
হাতে তৈরি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তারা এসব শিকার ধরে। শিকারের হাতিয়ার হিসেবে তীর-ধনুক, বল্লম জাতীয় সনাতন অস্ত্র আবিষ্কার করেন। অবিশ্বাস্য হলেও এটিই সত্য যে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত ২৫ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনও আদিম কৃষ্টি, কালচার অনুসরণে তাদের জীবন অতিবাহিত করছে। সভ্যতার দ্রুত ক্রমবিকাশের ফলে মানুষ প্রযুক্তির চরম শিখরে অবস্থান করলেও উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় বসবাসরত ২৫টি আলাদা সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা ধরে রেখেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। সুযোগ ও সম্ভাবনা কমে গেলেও সীমিত পরিসরে হলেও তারা চেষ্টা করছেন নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখতে। যার ফলে এখনও তারা আদিম সংস্কৃতির অনুকরণে ছুটে বেড়ান বন-বাদাড়ে, জঙ্গলে। দলীয়ভাবে শিকারে গিয়ে যেসব জীবজন্তু ধরেন তা সম্মিলিতভাবে উপভোগ করেন। মেতে ওঠেন আনন্দে-উত্সবে। সম্প্রতি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরে দেখা মেলে একটি শিকারি দলের। কথা হয় শিকারিদের সঙ্গে। দলনেতা লগেন হাসদা (৫০) জানান, পত্নীতলা উপজেলার বাগুরিয়া ছালিগ্রাম গ্রামে তাদের বাড়ি। ভোর সকালে তারা ৩০ কিলোমিটার দূরে মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকায় শিকার ধরতে গিয়েছিলেন। ফিরতে দেরি হওয়ায় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। আলাপচারিতায় তিনি জানান, অগ্রহায়ণ-মাঘ মাসে হাতে তেমন কাজ না থাকায় তারা শিকারে বের হয়। এ সময় মাঠে ধান না থাকায় বন্য প্রাণীরা জঙ্গলে আশ্রয় নেয়ায় শিকারের জন্য সহজ হয়। শিকারে যাওয়ার আগে গ্রাম প্রধান পুরুষদের নিয়ে আলোচনায় বসেন এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করে শিকারের দিন ও এলাকা নির্ধারণ করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক তারা সপ্তাহে একদিন শিকারে বের হন। শিকার কাজের জন্য তারা বল্লম, লাঠি, তীর-ধনুক, কোদাল, খনি জাতীয় দেশীয় ও নিজস্ব তৈরি যন্ত্র ব্যবহার করে থাকেন বলে জানান। দলনেতা আরও জানান, বনবিড়াল, বেজি, খরগোশ, ইঁদুর, ডাহুক, পেঁচা, বক, রাতচোরা পাখি, উদ, কাঠবিড়াল ইত্যাদি জীবজন্তু ও বন্যপ্রাণী তারা শিকার করে থাকেন। কোন জায়গায় শিকার আছে তা বুঝতে পারলে তারা তিন দিকে ঘিরে ফেলেন এবং একদিকে নেট দিয়ে ঘিরে রাখেন। শিকারকে ধাওয়া করলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে নেটে আটকা পড়ে। এতে শিকার ধরা সহজ হয়। জীবজন্তু দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা তীর-ধনুক ও বল্লম ছুঁড়ে তাদের সহজেই ঘায়েল করেন। এলাকায় জঙ্গল ও বনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় আগের মতো আর শিকার পাওয়া যায় না বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে মজার বিষয় হলো তারা বেজি শিকার করতে পারলে লোমগুলো মোড়লের বাড়িতে জমা রাখেন। কারণ বেজির লোম দিয়ে তুলি তৈরি হওয়ায় প্রতি কেজি বেজির লোম ৪/৫ হাজার টাকায় রাজশাহী ও নাটোরের ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে নিয়ে যান। লোম বিক্রয়ের টাকা দিয়ে থালা-বাসন, হাঁড়ি-পাতিল, হেজাক লাইট ইত্যাদি ক্রয় করে মোড়লের বাড়িতে রাখা হয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে এগুলো ব্যবহার করা হয়। ৩/৪ দিনের জন্য শিকারে গেলে ধরা পড়া জীবজন্তুর মাংস বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয় বলেও তিনি জানান। শিকারি দলের সদস্য জহন মুরমু জানান, আগে তারা চান্দুবাবা বা ভগবানের নামে এ শিকারে বের হতো। বর্তমানে আদিবাসীরা অনেকেই সনাতন ধর্মের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় ও খ্রিষ্টীয় ধর্ম পালন করায় এখন আর শিকারে আদিবাসীরা তেমন একটা বের হয় না।