Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ফটিকছড়িতে চিকিত্সাসেবা বঞ্চিত রোগীরা

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ফটিকছড়ি পৌর সদরের একমাত্র সরকারি ২০ শয্যা হাসপাতালটি শত সমস্যার মাঝেও চিকিত্সাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। উদ্বোধনের এক বছর পার হলেও এখনও পরিপূর্ণভাবে ২০ শয্যা হাসপাতাল হিসেবে গড়ে উঠেনি এটি। ফলে ফটিকছড়ি সদরের লোকজন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটি গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন তৈয়ব চৌধুরী। হাসপাতালটি পরিদর্শনে দেখা যায়, ৮ জন চিকিত্সকের পরিবর্তে রয়েছে ৪ জন। ওয়ার্ড বয় দিয়ে চলছে ফার্মাসিস্ট সেন্টার। নাইটগার্ড ও টিকিট কাউন্টারে দু’জনের দায়িত্ব পালন করেন অসিম কুমার। তাকেও নিয়োগ করা হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যানের অর্থায়নে। অসিমের মতো ওয়ার্ড বয়, আয়া, এমএলএসএস হিসেবে কাজ করেন ফারুকি, রেজাইল করিম ও রিনা। তাদের সবাইকে উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের অর্থায়নে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু তারা তিন মাস ধরে বেতন পান না। তারা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব নাকি বেতন দিতে অপারগতা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সিভিল সার্জনের অনুরোধে আমি চার মাস পর্যন্ত বেতন প্রদানের কথা বলেছিলাম। তারপরও আমি এক বছর পর্যন্ত তাদের বেতন প্রদান করেছি। বিদ্যুত্ না থাকলে মোমবাতির আলোয় একমাত্র ভরসা হাসপাতালটির। সরকারিভাবে একটি জেনারেটর প্রদান করা হলেও তা ব্যবহারের প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় এটিও ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুর রহমান। অন্যদিকে হাসপাতালের রোগীদের জন্য সরকারিভাবে কোনো ধরনের খাবারের বরাদ্দ নেই। ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হাসপাতালের এক রোগী বলেন, চা-বাগানে চাকরি করি, অসুস্থ হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আমার গ্রামের বাড়ি পাবনায়, এখানে আমাকে দেখভাল করার কেউ নেই। সহকর্মীরা এখানে নিয়ে এসে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। হাসপাতালে খাবার না থাকায় খাবার পেতে খুব কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালে হাতেগোনা কয়েক ধরনের ওষুধ ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ নেই। তাই গরিব রোগীরা সরকারি ওষুধ পেতেও বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে কর্মরত ডা. সাইদুল ইসলাম (রাসেল) জানান, প্রয়োজনীয় চিকিত্সকের অভাব থাকায় আমাদের একটানা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
অপর চিকিত্সক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, অপরিপূর্ণভাবে হাসপাতালটি চালু করা হয়েছে। এখানে প্রায় প্রতিটি বিভাগে লোকবলের অভাব। এরপরও আমরা যথাসাধ্য চিকিত্সাসেবা প্রদান করে যাচ্ছি। ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালটিতে শুধু ভবন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি। এটি এখনও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বরাদ্দ দিয়ে চলছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালটির দুরবস্থার কথা বারবার উপজেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।