Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

বন বিভাগের বাধায় আলীকদম-কুরুকপাতা পোয়ামুহুরী সড়ক নির্মাণ বন্ধ

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি আলীকদম-জানালী পাড়া-পোয়ামুহুরী সড়ক নির্মাণ। অথচ এই সড়কের কাজ কবে নাগাদ আবার শুরু হবে তা কেউ বলতে পারছে না। সড়কটি নির্মাণে এরই মধ্যে সরকার এলজিইডির মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। নির্মাণাধীন সড়কটির বাবুপাড়া পয়েন্ট থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে ৯টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ ও ৫ কিলোমিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু সড়ক নির্মাণ কাজ শুরুর পর বন বিভাগের বাধায় এলজিইডি সড়কটির নির্মাণ কাজে অগ্রসর হতে পারছে না। এলজিইডি সূত্র জানায়, আলীকদম-পোয়ামুহুরী সড়কটি ৪৩.৫০ কিলোমিটার লম্বা। সড়কটি তিন কিলোমিটার পর হতে সম্পূর্ণ অংশ মাতামুহুরীর পাশ ঘেঁষে গেছে। এ সড়কের কাজ বাস্তবায়নে প্রথমে সড়ক বিভাগ কাজ শুরু করলেও পরে তা এলজিইডিকে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে এলজিইডি প্রথম উদ্যোগ নেয়। প্রথম পর্যায়ে ৪৭৭ থেকে ৩৬৩০ মিটার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৬৫০ থেকে থেকে ৫৮৫০ মিটার চেইনেজ পর্যন্ত এইচবিবি দিয়ে সড়কের উন্নয়ন করা হয়। সড়ক বিভাগের তৈরি করা এলাইনমেন্ট মতে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা তৈরি সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, আলীকদম উপজেলার একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর বসতি জানালীপাড়া, কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকায়। নির্মাণাধীন সড়কের পোয়ামুহুরী অংশটি বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চল। তাই জনস্বার্থে এ সড়কের গুরুত্বও অপরিসীম। এলাকাবাসী জানান, পোয়ামুহুরীর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৪টি সেনা ক্যাম্প রয়েছে। উপজেলা সদর থেকে পোয়ামুহুরী পর্যন্ত সাড়ে ৪৩ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণ হলে উন্নয়নের পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলকে নিরাপত্তা বাহিনীর অনুকূলে আনতে সহায়ক হবে। সরেজমিন দেখা গেছে, জানালীপাড়া, কুরুকপাতা ও পোয়ামুহুরী এলাকায় গড়ে উঠেছে দুটি বাজার, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, কেয়াং ও স্কুলসহ নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন নির্বাচনের সময় সেখানে ভোট কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়ে থাকে। কিন্তু যোগাযোগ অনুকূলে না থাকায় সরকারি পরিসেবা ও উন্নয়ন সুযোগ সুবিধা থেকে ওই এলাকার তৃণমূল জনগোষ্ঠী বঞ্চিত হয়ে আসছে। তাই উপজেলা সদরের সঙ্গে জানালীপাড়া-পোয়ামুহুরী এলাকায় সড়ক নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের।
এলজিইডির একটি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ২৭ মে স্মারক নং-১৪৮০/৮-১২ মূলে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কর্তৃক চট্টগ্রাম বন সংরক্ষককে ‘আলীকদম-কুরুকপাতা-পোয়ামুহুরী সড়কের উন্নয়ন কাজে বন বিভাগের অনাপত্তির জন্য পত্র জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৭ জুলাই প্রধান বন সংরক্ষকের দফতর থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষককে জানানো হয় হয় যে, ‘সরকার প্রধানের অনুমতি ছাড়া এ রাস্তা নির্মাণ করা যাবে না এবং রাস্তাটি যাতে নির্মাণ করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য বলা হয়। তারপর থেকে রাস্তার কাজটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বন বিভাগ সড়ক নির্মাণকালে আপত্তি না তুললেও ২০০৮ সালের মাঝামাঝিতে সড়ক নির্মাণে বাধা প্রদান করে। বন বিভাগ দাবি করছে, এ সড়ক নির্মাণ হলে সংরক্ষিত মাতামুহুরী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়বে। বন বিভাগের এই দাবি এলাকার উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বন বিভাগের বাধায় সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকা মানে সরকারের এ বিপুল অংকের অর্থের অপচয়।