Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য ২০১২ ‘ভয়ঙ্কর বছর’ : গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জাতিসংঘের

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ১০০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সংঘাত, অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহের ঝুঁকি ও সাংবাদিক নিহতের ঘটনার বিবেচনায় ২০১২ সালকে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য ‘ভয়ঙ্কর বছর’ হিসেবে গণ্য করছে জাতিসংঘ। এ কারণে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
ইউএন নিউজ সেন্টার জানায়, সাংবাদিক নিহতের পরিসংখ্যান দিয়ে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা বলেন, ‘এ বছর এখন পর্যন্ত একশ’র বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ইউনেস্কো সাংবাদিক হত্যার রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে ২০১২ সাল
গণমাধ্যমের জন্য অন্যতম ভয়ঙ্কর বছর হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর আমরা এখনও নভেম্বর মাসে আছি।’
বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইউনেস্কো আয়োজিত ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সাজা থেকে অব্যাহতি’ বিষয়ক জাতিসংঘ আন্তঃসংস্থার দ্বিতীয় বৈঠকের এক বার্তায় এ তথ্য দেন বোকোভা।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন দেশের সরকার, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছে। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ বর্তমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে নতুন জাতিসংঘ কৌশল নির্ধারণ করে গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের শাস্তি দিতে কার্যকর ব্যবস্থাও গ্রহণ করবেন।
এ বছর নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে সিরিয়ার সংঘাতে মারা গেছেন ৩২ জন এবং সোমালিয়ায় ১৮ জন। তবে বোকোভা বলেন, এর মধ্যে বেশিরভাগই যুদ্ধবিষয়ক প্রতিবেদক না; বরং তারা স্থানীয় সংবাদদাতা যারা মাদক পাচার ও অবৈধ কাঠপাচারের সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন।
বোকোভা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের এ দুষ্টচক্র ভাংতে হবে যা সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করে, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য নাগরিকদের কথা বলতে বাধা দেয়।’
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদার ও বিশ্বজুড়ে সাজা থেকে অব্যাহতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন বোকোভা। একইসঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের মধ্যে সর্বোচ্চ অনুশীলন, বিনিময় ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে অংশীদারিত্ব সৃষ্টির জন্যও উত্সাহ দেন।
যোগাযোগ ও তথ্যবিষয়ক জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পিটার লনস্কি-টিফেন্থাল বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলার সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া পড়ে সমাজে। বাকরুদ্ধ হওয়ার হুমকির মুখে পড়ে সমাজের নাগরিকরা।’
পিটার বলেন, ‘শুধু হত্যা বা শারীরিক আক্রমণ নয়; অপহরণ, নির্যাতন, বেআইনি গ্রেফতার ও অযৌক্তিক আটকসহ এসব হামলার শিকার মানুষদের ব্যক্তিগত ভোগান্তির বাইরেও সমাজে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাজের নাগরিকদের মতো প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করে দেয়। তারা সাংবাদিকদের কণ্ঠকে আরও স্পষ্ট করে বললে আমাদের সবার কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘শুধু গত সপ্তাহেই গাজা ও দক্ষিণ ইসরাইল থেকে আমরা উদ্বেগজনক খবর পেয়েছি, সংঘাতের সময় সাংবাদিক ও তাদের কার্যালয়গুলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আমরা এ ধরনের হামলার নিন্দা জানাই এবং সাংবাদিকদের বেসামরিক মর্যাদা ও নিজ দায়িত্ব পালনে তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সব পক্ষকে অনুরোধ জানাই।’
২০১৩-১৪ মেয়াদের জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সাজা থেকে অব্যাহতি বিষয়ে নতুন জাতিসংঘ কৌশলকে শুধু সাংবাদিকরা নয়, বরং ব্লগার ও নয়া গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষা আইন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের পরিবর্তনশীল পরিবেশকে বিবেচনায় নিতে হবে বলে জানান তিনি।
এবারের বৈঠক আয়োজনে সহযোগিতা করেছে ‘হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস’, মাদক ও অপরাধ বিষয়ক জাতিসংঘ কার্যালয় এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি। ইউনেস্কো আয়োজিত জাতিসংঘ আন্তঃসংস্থার বৈঠক গতকাল শেষ হয়েছে।