Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সংসদের আগামী অধিবেশনে যোগ দেবে বিএনপি : মওদুদ : তত্ত্বাবধায়ক বিল আনলেই যাবে বিএনপি : আনোয়ার

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিএনপি জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে যোগ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি। তিনি গতকাল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে এ তথ্যটি জানিয়ে বলেন, সংসদে যোগ দিয়ে সংসদ বর্জনের যে রীতি চালু রয়েছে, তাতে পরিবর্তন আনতে চায় বিএনপি। তবে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য এম কে আনোয়ার।
বাংলাভিশনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, কেবল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল বিল আনলেই সংসদে যাবে বিএনপি।
কোন পদ্ধতিতে আগামী নির্বাচন হবে, তা নিয়ে দেশের প্রধান দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ চরমে। বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে গত বুধবার সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় বিরোধীদলীয় নেতা খাালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ ও কথা হয় স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের। স্পিকার এ সুযোগে বিরোধীদলীয় নেতাকে সংসদে ফেরার অনুরোধ জানান। এর জবাবে খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি বিবেচনা করে দেখবেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, স্পিকারের এ আহ্বান শুধু আনুষ্ঠাকিতা বৈ অন্য কিছু নয়। পরিবেশ সৃষ্টি না হলে সংসদে না ফেরার ব্যাপারে অনড় থাকবে বিএনপি। তবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল আনা হোক আর না হোক, বিএনপি পরের অধিবেশনেই সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর বিলটি আনা হলে সংসদের চলতি অধিবেশনেই যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন মওদুদ।
বর্তমানে চলছে সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন। আগামী ২৯ নভেম্বর শেষ হচ্ছে এই অধিবেশন। বিএনপিসহ বিরোধী জোট এ অধিবেশনেও যোগ দেয়নি। টানা ৮৩ দিন অনুপস্থিতির পর সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিল তারা। এর আগে গত বছরের ২৪ মার্চ বিএনপি সংসদে যোগ দিয়েছিল।
ফের এক-এগারো হলে আওয়ামী লীগ নিঃশেষ হয়ে যাবে —মওদুদ : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের চেষ্টা করলে বা দেশে ফের এক-এগারোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আওয়ামী লীগ নিঃশেষ হয়ে যাবে।
গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘তারেক রহমানের ওপর ১/১১ সময় হামলা, মামলা, নির্যাতন ও বর্তমান সরকার কর্তৃক হয়রানি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে যারা অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আছেন, তারা জানেন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে লাভ হবে না। তাই তাদের আহ্বান জানাব তাদের নেত্রীকে বোঝাতে। একদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চাইলে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ হয়ে যেতে হবে। আর এক-এগারোর মতো কোনো ঘটনার উদ্ভব হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—জনগণ নাকি আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে বিচার করবে। আমি বলতে চাই আপনি যদি সত্যিই এটা মনে করেন, তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এতেই প্রমাণ হবে, আপনার কথা কত সত্য!
মওদুদ বলেন, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ২৮ নভেম্বর চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। ধীরে ধীরে এ আন্দোলনকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে সরকার সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। সরকার নির্দলীয় ব্যবস্থার দাবি মানার ঘোষণা দিলে সরকারকে সহযোগিতা করব; আন্দোলনের আর প্রয়োজন থাকবে না।
বিএনপি নেতা বলেন, এই ইসির (নির্বাচন কমিশন) সঙ্গে বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোটের কোনো শরিক আলোচনায় যাবে না। এই ইসি গঠন করা হয়েছে দলীয় কায়দায়। আর তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জন্যই সংলাপ ডেকেছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে নির্বাচন কমিশনের কোনো ভূমিকা থাকে না। তাই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ হতে দেবে না। আগামী নির্বাচন যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়, তাহলে ইসির পুনর্গঠন করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার ফোরামের সভাপতি রেজাউল কবির রেজার সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তৃতা করেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।