Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পুলিশ আবারও মারমুখো সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ

নাছির উদ্দিন শোয়েব
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আবারও মারমুখো হয়ে উঠছে পুলিশ। তাণ্ডব বা বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখন বেপরোয়া। পুলিশ ও গোয়েন্দারা ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামছে। নানা অজুহাতে লোকজনকে গণহারে আটক করছে। আটকের পর অনেকেরও খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিরোধী জোটের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতেও বাধা দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশের যুদ্ধাংদেহী আচরণে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দফতর থেকে মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলার পুলিশ সুপারকে বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে কঠোর অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। বিরোধী জোটের মিছিল, মিটিং ও কর্মসূচি ঠেকাতে ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলাকালে এবং সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে বিরোধী জোট মাঠে নেমে যাতে শক্ত অবস্থান না নিতে পারে, সেজন্য তাদের শক্ত অবস্থানে থাকতে বলে দেয়া হয়েছে।
বিশেষ বার্তার পর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পুলিশ ব্যস্ত হয়ে পড়ছে রাজনীতিক কর্মসূচি ঠেকাতে। দলীয় মতাদর্শের এবং বিশেষ অঞ্চলের পুলিশ সদস্যরা এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। ফলে রুটিন ডিউটির চেয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই সময় ব্যয় করছে পুলিশ। সম্প্রতি বিভিন্ন অজুহাতে নিরীহ লোকজনকে আটক করে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠাচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদের নামে অনেককে রিমান্ডে এনে নির্মম নির্যাতন চালানো
হয়েছে বলেও অভিযোগ আসছে। সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরপরাধ প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছে না। অনেককে আটকের পর আইন অমান্য করে ২৪ ঘণ্টার বেশি এমনকি কয়েক সপ্তাহ ধরে গোপনে পুলিশ হেফাজতে রাখছে। এতে আটক ব্যক্তির স্বজনরা খোঁজখবর না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাচ্ছেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর পুলিশের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়ায় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তার এ ধরনের বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও আস্কারা পেয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবদুল জলিল বলেছেন, সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব প্রতিহত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা। গতকাল ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আখতারুজ্জামান বাবুর স্মরণসভায় আবদুল জলিল প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে পুলিশের সঙ্গে যুবলীগকে মাঠে থাকার আহ্বান যুবলীগের চেয়ারম্যান সরাসরি প্রত্যাখান করেছেন। এরপরও বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের এ নির্দেশনার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। মিছিল, মিটিং ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঠেকাতে প্রকাশ্যে পুলিশের সঙেঙ্গ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাঠে নামছেন। যেখানেই পুলিশের অভিযান, সেখানেই ছাত্রলীগ-যুবলীগকে মারমুখী অবস্থায় দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে আইন হাতে তুলে নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ছে লোকজনের ওপর।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকাণ্ডে এখন জনসাধারণের কাছে তারা মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বাহিনীর দলবাজ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পৈশাচিকতা ও বর্বরতা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসী, ক্যাডারদের নৃশংসতাকে হার মানাচ্ছেন কোনো কোনো পোশাকধারী কর্মকর্তা। সরকারি দল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সাবেক দুর্ধর্ষ ক্যাডারদের সমাবেশ ঘটেছে এসব বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে। তারা আইন-কানুন, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, সভ্যতা-ভব্যতা সবকিছুকে পদদলিত করে চলেছেন বেপরোয়াভাবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিষ্ঠুর কায়দায় দমনের পাশাপাশি চাঁদাবাজি, ডাকাতি, নির্যাতন, ঘুষ, ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এসব বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য। সাধারণ রাজনীতিচর্চার অপরাধে প্রকাশ্যে বুকের ওপর বুট দিয়ে দলিত করা ও বিনা উস্কানিতে নির্মমভাবে প্রহার করে খ্যাতনামা ব্যক্তিদের গুরুতর আহত করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর সর্বত্র চলছে কড়া গোয়েন্দা নজরদারি। বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, আবাসিক হোটেলসহ নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় সাদা পোশাকে বিভিন্ন সময় টহল দিচ্ছেন গোয়েন্দারা। রাজধানীতে অন্তত দেড় শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। এসব চেকপোস্টে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সাংবিধানিক অধিকার থেকে মানুষকে জবরদস্তিমূলকভাবে বঞ্চিত করা হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। দেশ পরিচালনাকারী ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা যদি মানবাধিকারকে বর্বর কায়দায় পদদলিত করেন, তাহলে হয়তো তারাও একদিন একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশবাহিনীর কিছু সদস্য প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য আইনের রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষকের কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের দেশে সব ধরনের অপরাধ বেড়ে ওঠার কারণ হিসেবে পুলিশের এসব জঘন্য কাজকে দায়ী করছেন কেউ কেউ। এরকম চলতে থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, এটা কারও জানা নেই। পুলিশের নৃশংসতা, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বাড়াবাড়ি এবং বেপরোয়া আচরণের বিষয়টি এখন আর আলোচনা-সমালোচনার পর্যায়ে নেই, উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি উত্সাহ প্রদর্শন, পৈশাচিক নির্যাতন-নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এখন যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কিছু পুলিশ সদস্যের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে এ বাহিনীতে থাকা সত্ ও ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তারা রীতিমত বিব্রত। নানা কারণে তারা কোণঠাসা অবস্থায় আছেন। অনেকে চাকরি হারানোর আতঙ্কেও আছেন।
এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের একজন অতিরিক্ত আইজি বলেন, পুলিশ কঠোর অবস্থানে—কথাটি সঠিক নয়, বরং পুলিশ এই মুহূর্তে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের কাছে হার মানছে। পুলিশ মার খাবে তা হতে পারে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগকে পুলিশের কাজে সহায়তার জন্য মন্ত্রী বলেছেন। এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।