Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

কোকোর অর্থ নিয়ে বিতর্ক : দুদক সরকারের এজেন্ট হিসেবে চরিত্র হননে নেমেছে : ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নামে ‘পাচার করা’ অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যানের দেয়া তথ্যকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র বলে মনে করে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, দুদক সরকারের এজেন্ট হয়ে নাগরিকদের চরিত্র হননে নেমেছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সরকার দুদককে লেলিয়ে দিয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, সরকারের পাহাড়সম দুর্নীতি আড়াল করতেই আওয়ামী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কোকোর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
গতকাল সকালে এক বিএনপি কর্মীকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন সরকারের এজেন্টে পরিণত হয়েছে। তারা এখন সরকারের দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের চরিত্র হননের কাজে নেমেছে। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
দুর্নীতি দমন কমিশনকে একটি ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ সংস্থা আখ্যায়িত করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, জনগণের দৃষ্টি ‘অন্যদিকে’ সরিয়ে দিতে ‘সরকারের এজেন্ট’ হিসেবে দুদক বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।
‘হলমার্ক, ডেসনিটি, পুঁজিবাজারের লাখ লাখ-কোটি টাকা সরকারি দলের লোকজন বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। দুদক এখন পর্যন্ত সরকারি দলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও গঠন কিংবা তদন্ত করেনি। রেলের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্তকেই নির্দোষ বলে সনদপত্র দিয়েছে তারা। উপরন্তু বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মির্জা আলমগীর বলেন, বেগম জিয়া যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই জনসাধারণ তাকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানাচ্ছে। নেত্রী নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, জনগণ যদি তাকে আবার নির্বাচিত করে, তাহলে বাংলাদেশের চেহারা তথা দেশের উন্নয়ন করবেন ও রাজনীতির আমূল পরিবর্তন করবেন। এই আশার আলোর কথায় ভীত হয়ে সরকার এখন বিরোধী দলের নেতাদের চরিত্র হননের পথ বেছে নিয়েছে।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল হক মোল্লা ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল হক মোল্লাকে দেখতে যান মির্জা ফখরুল। তিনি চিকিত্সকদের কাছ থেকে তাদের চিকিত্সার খোঁজ-খবর নেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্বাচন কমিশনের চলমান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাদাভাবে সংলাপে যোগ না দেয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়াই বৈধ নয়। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি—সঠিকভাবে এ কমিশন গঠিত হয়নি। সেজন্য এ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করব কিনা, সে বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।
বিগত চারদলীয় জোট সরকার দেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র বানিয়েছিল—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন অভিযোগ সঠিক নয় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়। রমনা বটমূল, পল্টন ময়দান, যশোর, নারায়ণগঞ্জ ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বোমা হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগের আমলেই ঘটেছে। ওইসব হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজনই জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, বিএনপি বড় জঙ্গিদের চিহ্নিত করে তাদের বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করেছিল। তাই প্রধানমন্ত্রী যে কথা বলেছেন—তা সঠিক নয়, মিথ্যাচার।
পাহাড়সম দুর্নীতি আড়াল করতে এটা আ.লীগের চক্রান্ত—রফিকুল : পাহাড়সম দুর্নীতি আড়াল করতেই আওয়ামী লীগ কোকোর বিরুদ্ধে এসব মিথ্যাচার করছে অভিযোগ এনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল।
গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মতলব জাতীয়তাবাদী ফোরাম (ঢাকা) আয়োজিত ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।
ব্যারিস্টার রফিক বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন দেশের দুর্নীতি কমে এসেছিল। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে একের পর এক দুর্নীতিতে রেকর্ড করছে। সব দুর্নীতিতে আওয়ামী লীগের দলীয় লোক জড়িত।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আলমগীর সরকারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তৃতা করেন মতলব জাতীয়তাবাদী ফোরামের (ঢাকা) উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম চন্দন, হাফিজুর রহমান কবির, ফোরাম সাধারণ সম্পাদক এমএম মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।