Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে

কাজী জেবেল
পরের সংবাদ»
বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য পরিবহনে ট্রানজিট সুবিধা পাচ্ছে ভারত। এ সুবিধা দিতে সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে ব্যস্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। ক্ষমতার শেষ সময়ে ট্রানজিট সংশ্লিষ্ট সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করছে নৌ, রেল ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। শুধু তা-ই নয়, জনস্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতকে সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এসব প্রকল্পে ট্রানজিটের কথা উদ্দেশ্য (অবজেকটিভ) হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে নৌপথে ট্রানজিট দিতে আশুগঞ্জে আড়ইশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও রেলওয়ে, খাদ্য অধিদফতর ও সার কারখানার জমি অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে নৌ মন্ত্রণালয়। ভারতীয় মালবাহী ট্রাক-লরি চলাচলের সুবিধার্থে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে কাফকো-পতেঙ্গা পয়েন্টে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে টানেল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পে জনগণের স্বার্থের চেয়ে ভারতকে বেশি প্রাধান্য দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে। পিছিয়ে নেই রেলপথ মন্ত্রণালয়। ভারতের পণ্য পরিবহন সুযোগ করে দিতে কয়েকটি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন রেললাইন প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি না থাকলেও অনেকটা অগোচরে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করছে রেল মন্ত্রণালয়। সব মিলিয়ে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে নৌ, রেল ও সড়ক পথে মহাপ্রস্তুতি নিচ্ছে মহাজোট সরকার। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ট্রানজিট সুবিধা পেলে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের পণ্য সহজেই কম দূরত্বে পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পৌঁছবে। এতে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হবে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বাণিজ্য ও অর্থনীতি উন্নত হবে। বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা থেকে আগরতলার দূরত্ব ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার কমে আসবে। এখন কলকাতা থেকে গৌহাটি হয়ে আগরতলা যেতে ১ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। পাশাপাশি ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভারতীয় ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, লরি চলাচলের জন্য এখনও উপযোগী নয়। তাছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া ট্রানজিট দেয়া হলে ব্যবসায়িক ও ভৌগোলিক নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আমার দেশ-কে বলেন, আশুগঞ্জের নৌবন্দর শুধু ভারত ব্যবহার করবে তা নয়, আমাদের নিজস্ব জাহাজ এটি ব্যবহার করতে পারবে।
নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশ-কে বলেন, ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উচ্চমহল থেকে সিদ্ধান্তের বিষয়টি নৌ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নৌ-ট্রানজিটের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর (ফোকাল পয়েন্ট) আশুগঞ্জে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া কয়েকটি স্থলবন্দর নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সমস্যা ট্রানজিটের বড় অন্তরায় বলে জানান তিনি।
রেলওয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, রেলপথে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে ৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। ভারতের ব্রডগেজ লাইনের সঙ্গে বাংলাদেশের রেলপথ যুক্ত করতে বিরল-দিনাজপুর-পার্বতীপুরসহ এ অঞ্চলের মিটার গেজ লাইনের স্থলে ১৬০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ (ব্রডগেজ ও মিটারগেজ) লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। এজন্য ব্যয় হবে ৯০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের ৬০ ভাগ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ তৈরির বিষয়টি প্রকিয়াধীন রয়েছে। দেড়শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী-আমনুরা-রোহনপুরের সীমান্ত পর্যন্ত আরেকটি প্রকল্প চলছে। এ তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারতীয় পণ্যবাহী ওয়াগন সরাসরি বাংলাদেশে প্রবেশেধিকার পাবে। ভারতীয় যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম শহরের বাইরে দিয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের রুট চূড়ান্ত করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে এ রুটটি তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছে। এ রুটে ট্যানেল নির্মাণ করা হলে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের অনেক পথ ঘুরতে হবে। পক্ষান্তরে ভারতীয় পণ্যবাহী বাহন চট্টগ্রাম শহরের যানজট এড়িয়ে সহজেই প্রস্তাবিত ঢাকা ট্যাঙ্ক রোডে উঠতে পারবে।
জমির সঙ্কট সত্ত্বেও নৌবন্দর : নৌ-ট্রানজিট সুবিধা দিতে আশুগঞ্জে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে নৌ মন্ত্রণালয়। এ বন্দর ব্যবহার করে কলকাতার পণ্য আখাউড়া হয়ে সহজেই সেভেন-সিস্টারভুক্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে যেতে পারবে। প্রটোকলের অধীনে এ পথে প্রতি বছর ৩৫ হাজার টন খাদ্যপণ্য পরিবহনের জন্য বারবার তাগাদা দিয়ে আসছে ভারত। নৌ-ট্রানজিটের অধীনে এ পথ ব্যবহারের সুযোগ পেলে কম সময় ও খরচে পণ্য পরিবহন করতে পারবে ভারত। নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, নৌপথে ট্রানজিট দেয়ার জন্য সরকারের সম্মতি পাওয়া গেছে। কাগজ-কলমে সব প্রস্তুতি আছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাকি রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে ট্রানজিট ফি, ব্যাংক গ্যারান্টি, টোলসহ অন্যান্য বিষয় এখনও নির্ধারণ হয়নি বলে জানান তিনি।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির প্রাপ্যতা। এ বন্দর স্থাপনে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত ২৮ দশমিক ৭০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এ জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এ জমি দিতে রাজি নয় সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। এছাড়া বন্দর ব্যবহার করে মালামাল পরিবহনের উপযোগী রাস্তা নেই। আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৪৯ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা শোচনীয়। এর মধ্যে ৩০ কিলোমিটার রাস্তা এতই সরু যে বড় গাড়ি চলাচল উপযোগী নয়। রেলপথ এখন স্থাপিত হয়নি। এ অবস্থায় অবকাঠামোগত উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে নৌমন্ত্রণালয়। প্রকল্পের পরিচালক মহিদুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, জমি পাওয়া গেলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হলে ভারতীয় জাহাজ এ বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এরই মধ্যে ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় দুই দফায় ভারতীয় জাহাজ এ বন্দর ব্যবহার করেছে।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত ২৯ একর জমির মধ্যে ১৭ দশমিক ১৬ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন, ৩ দশমিক ১৯ একর আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানির, ৪ দশমিক ৫০ একর আশগঞ্জস্থ খাদ্য অধিদফতরের এবং ৩ দশমিক ৮৫ একর জমি রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জমি চেয়ে রেলওয়ে, সার কোম্পানি ও খাদ্য অধিদফতরে চিঠি দেয় বিআইডব্লিউটিএ। উন্নয়নমূলক প্রকল্প থাকায় আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি জমি দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। খাদ্য বিভাগ ও রেলওয়ে কোনো মতামত জানায়নি। খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে ৪ দশমিক ৫০ একর জমির স্থলে চাহিদার পার্শ্ববর্তী ১০৩ দাগের ৩ দশমিক ২৯ একর জমি বিআইডব্লিউটিএকে দেয়ার প্রস্তাব করে একটি প্রতিবেদন মহাপরিচালকের কাছে জমা দেয়া হয়েছিল। ওই রিপোর্টে বলা হয়, চাহিদা অনুযায়ী ৭নং দাগের জমি বন্দরের জন্য দেয়া হলে সাইলোর কেপিআইগুলোর নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তবে ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেননি মহাপরিচালক আহমেদ হোসেন খান। তিনি আমার দেশকে বলেন, বিআইডব্লিউটিএকে জমি দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরেজমিন প্রতিবেদন স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রায় ৪ একর জমি চেয়ে নৌমন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠি ৩১ অক্টোবর রেলওয়েতে পৌঁছেছে। এ চিঠির বিষয়ে এখনও কোনো জবাব দেয়নি। এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী আবু তাহের আমার দেশকে বলেন, রেলওয়ের ভূমি সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ভূমি নীতিমালার আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বিকল্প জমি নির্ধারণের জন্য সদস্য (অপারেশন) জিল্লুর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করেছে বিআইডব্লিউটিএ। ৮ নভেম্বর এ কমিটির সদস্যরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া নৌমন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্যের আরেক কমিটি গত ১৩ নভেম্বর একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে—রেলওয়ে, খাদ্য অধিদফতর, আশুগঞ্জ সার কোম্পানি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ; দ্বিতীয়টি হচ্ছে—সওজ’র ১০ দশমিক ৫০ একর জমি, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও আশুগঞ্জ সার কোম্পানির জমি নিয়ে বিকল্প স্থান এবং তৃতীয়টি হচ্ছে—মন্ত্রী-সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। নৌ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জমির সঙ্কট সত্ত্বেও ভারতকে ট্রানজিট দিতে এ বন্দর নির্মাণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
গোপনে ট্রানজিটের কাজ শেষ করছে রেলপথ মন্ত্রণালয় : অনেকটা গোপনে রেল ট্রানজিট দেয়ার প্রক্রিয়া শেষ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর কাজের ধীর গতিতে চলছে। অথচ ট্রানজিট সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিন প্রকল্পের একটি শতকরা ৯৭ ভাগ, একটি ৬০ ভাগ ও আরেকটি কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রোহনপুর-সিংহাবাদ (বাংলাদেশ-ভারত চেকপোস্ট) এবং রাধিকাপুর-বিরল (বাংলাদেশ-ভারত চেকপোস্ট) রেলপথের সংযোগের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছিল।
জানা গেছে, রেলপথে ট্রানজিট দেয়ার জন্য দিনাজপুরের পার্বতীপুর-কাঞ্চন-বিরল রুটে ডুয়েলগেজ লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের ডিপিপিতে স্পষ্টভাবে ট্রানজিট সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্রডগেজ রেললাইন। বাংলাদেশে মিটারগেজ রেললাইন। রাধিকাপুর (বাংলাদেশ-ভারত চেকপোস্ট) হয়ে ভারতের রেললাইনের সঙ্গে যুক্ত হতে বাংলাদেশ অংশে মিটারগেজ লাইনের জায়গায় ১৬০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ (মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় পথ ব্যবহারের সুবিধাসংবলিত) লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। এ রেলপথটি চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের পণ্য দিনাজপুরের বিরল হয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া যাবে; একই সঙ্গে নেপাল ও কলকতারা সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এ প্রকল্পের পরিচালক রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী কাজী রফিকুল ইসলাম আমার দেশ-কে বলেন, এ রুটের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি হবে। তিনি বলেন, ভারতে ব্রডগেজ লাইন এবং বাংলাদেশে ব্রডগেজ লাইন তৈরির ফলে ভারতীয় ওয়াগন সরাসরি বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। অপর একটি সূত্র জানায়, এ রুট ব্যবহার করে এশিয়ান হাইওয়েতে যুক্ত হবে ভারত।
রেল ট্রানজিটের আরেক প্রকল্প রাজশাহী-রোহনপুর সীমান্ত এবং আমানুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুট। এ প্রকল্পের আওতায় ৮৫ কিলোমিটার মেইন লাইন ও ৭ কিলোমিটার লুপ লাইন পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে। এখানেও ব্রডগেজ লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের অগ্রগতি ৯৭ ভাগ। এ রুট ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের পণ্যবাহী ওয়াগন সিংহাবাদ (বাংলাদেশ-ভারত চেকপোস্ট) হয়ে দিনাজপুরের রোহনপুরের মাধ্যমে বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে গন্তব্যে যেতে পারবে। এ প্রকল্পের পরিচালক রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শাজাহান আলী আমার দেশ-কে বলেন, ভবিষ্যতে এটি ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের আখাউড়া থেকে ভারতের আগরতলা পর্যন্ত আরেকটি রেলপথ তৈরি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভারতের অর্থায়নে এটি তৈরি হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকল্প দেখভাল করবে। শিগগিরই এ বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান।
জনস্বার্থ উপেক্ষা করে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ : জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতকে ট্রানজিটের সুবিধা দিতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারতীয় যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য শহরের বাইরে দিয়ে কর্ণফুলীর মোহনায় কাফকো-পতেঙ্গা পয়েন্টে (অ্যালাইনমেন্ট সি) নির্মাণ করা হবে এই টানেল। এর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৯ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার (৫ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা)। সংযোগ সড়কসহ টানেলের দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক শূন্য ৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে মূল টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার। প্রায় ১৫ মাস ধরে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে টানেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ।
সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম শহরের বাইরে অবস্থান হওয়ায় টানেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে শহরবাসীকে অনেকটা পথে ঘুরে যেতে হবে। এতে টানেল দিয়ে তুলনামূলক কম যানবাহন চলাচল করবে। তবে ট্রানজিটের ক্ষেত্রে টানেলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হলে সেখান থেকে ট্রানজিটের যানবাহন শহরের যানজট এড়িয়ে টানেল থেকে বের হয়ে চট্টগ্রামের কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ হয়ে প্রস্তাবিত কোস্টাল সড়ক দিয়ে সরাসরি ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডে উঠবে। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘অ্যালাইনমেন্ট এ’ বা পোর্ট কানেক্টিং রোড দিয়ে টানেলটি নির্মিত হলেই শহরবাসী বেশি উপকৃত হবেন এবং যান চলাচলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হবে। টানেলের অপর প্রস্তাবিত রুট ছিল অ্যালাইনমেন্ট বি বা এমএ আজিজ সড়কে। শহরের ভেতর হওয়ায় সে পয়েন্ট দিয়েও অ্যালাইনমেন্ট সি’র চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করবে।
টানেল ব্যবহারে আগামী ৫০ বছরের যান চলাচলের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এক্ষেত্রে টানেল উদ্বোধনের বছর (সম্ভাব্য ২০১৭ সাল) অ্যালাইনমেন্ট এ’র ক্ষেত্রে যান চলাচলের পরিমাণ হবে ২৭ হাজার ২৮৯, অ্যালাইনমেন্ট বি’র ক্ষেত্রে ২৪ হাজার ২৭৪ ও অ্যালাইনমেন্ট সি’র ক্ষেত্রে ১৭ হাজার ৩৭৪টি। আর ৫০ বছর পর ১৯৬৭ সালে এ তিন রুট দিয়ে যান চলাচলের পরিমাণ হবে যথাক্রমে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪০৮, ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬২ ও ১ লাখ ৬২ হাজার। এত কম যান চলাচলের পরও শুধু ট্রানজিটের লক্ষ্যকে সামনে রেখে অ্যালাইনমেন্ট সি চূড়ান্ত রুট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অ্যালাইনমেন্ট সি দিয়ে ট্রাক, কনটেইনার ট্রেইলার বেশি চলাচল করবে—যার অধিকাংশই ট্রানজিটের।
এ প্রসঙ্গে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকার কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এতে নদীর ওপারে গড়ে ওঠবে নতুন এক শহর এবং পাহাড় কেটে চট্টগ্রাম নগরীর যে সৌন্দর্যহানি করা হচ্ছে, তা বন্ধ হবে। এছাড়া আবাসন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি বলেন, ট্রানজিটের জন্য নয়, বরং সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান টাউন অ্যান্ড টু সিটি’ করার পরিকল্পনা থেকেই টানেলের রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে কর্ণফুলী নদীতে দুটি সেতু রয়েছে। এর একটি কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এবং অন্যটি কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতু। তবে কালুরঘাট সেতুটি একেবারে জরাজীর্ণ। বর্তমানে সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ রয়েছে এটি। ফেরি দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে গাড়িগুলোকে। এতে নদী পারাপারে সেতুটিতে প্রতিনিয়ত লেগে থাকে অসহনীয় যানজট। তাই শহরের ভেতর দিয়ে টানেল নির্মাণ করলে চট্টগ্রামবাসী বেশি লাভবান হতো।