Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শান্তি কামনা বৌদ্ধদের রাজবন বিহারে শেষ হলো দু’দিনব্যাপী চীবরদান উত্সব

রাঙামাটি প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
দেশ ও জাতির শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে রাঙামাটির রাজবন বিহারে গতকাল শেষ হলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান কঠিন চীবরদান উত্সব। নিগার মাতা বিশাখা প্রবর্তিত রীতি অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে রাঙামাটি রাজবন বিহারে সর্ববৃহত্ পরিসরে ১৯৭৪ সাল থেকে এই চীবরদান অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। আড়াই হাজার বছর প্রাচীন রীতিতে রাজবন বিহারে এবার ছিল ৩৯তম কঠিন চীবরদান।
গতকাল দুপুরে পরম সাধক পুরুষ বনভন্তের পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে চীবর গ্রহণ করেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালঙ্কার মহাথেরো। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ভিক্ষুদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী চীবরদান অনুষ্ঠানের শুরু হয়। চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বেইন ঘর ও চরকায় সুতা কেটে চীবরদান অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। দু’দিনব্যাপী এ উত্সবে রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে পুণ্যার্থীর ঢল নামে। লাখো পুণ্যার্থীর মুখে সা-ধু সা-ধু ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজবন বিহার এলাকা। বিহার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মহামিলনমেলায়। উত্সবের আমেজ বিহার প্রাঙ্গণ থেকে ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নৌ ও সড়কপথে লাখ লাখ পুণ্যার্থী ও দর্শণার্থী দল বেঁধে রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করে। এছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকেও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসেন কিছু পুণ্যার্থী। উত্সবকে ঘিরে পুরো রাজবাড়ী এলাকায় বসেছিল মিলনমেলা। মেলায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব বয়সের পাহাড়ি-বাঙালি নারী-পুরুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, বিহার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান। চীবর উত্সর্গের পর মানবজাতির হিতার্থে সদ্ধর্ম দেশনা প্রদান করেন রাজবন বিহারের বর্তমান আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালঙ্কার মহাথেরো, শাসনরক্ষিত মহাথেরো, ভৃগু মহাথেরো ও ইন্দ্রগুপ্ত মহাথেরো।
এ বছর ১৩০টি বেইন ঘরে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রায় পাঁচ শতাধিক দায়ক-দায়িকা চীবর প্রস্তুতের কাজে অংশ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা থেকে রাজবন বিহারের বেইন ঘরে এসব দায়ক-দায়িকা চরকা ঘুরিয়ে তুলা থেকে সুতা বের করে পরে সুতা তুম, টিয়াকরনসহ বেইনের মাধ্যমে বুনন শেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চীবর (বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) প্রস্তুত করে। অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও কঠিন হওয়া সত্ত্বেও দায়ক-দায়িকারা এই চীবর প্রস্তুতের মাধ্যমে পুণ্য অর্জনের চেষ্টা করে। এ বছর কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।