Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

উত্পাদন খরচ উঠছে না : বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষীরা

বরিশাল অফিস
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
উত্পাদন খরচও না ওঠায় ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বরিশাল অঞ্চলের চাষীরা। ক্রমাগত সার, বীজ ও কৃষিপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ধানের দাম কম হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে চাষীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি কম লাভে বর্গা দিতেও লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় চলতি বোরো মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে বোরো উত্পাদনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কিত খোদ কৃষি বিভাগও। এ অবস্থা
অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত শস্য উত্পাদিত এলাকা নামে খ্যাত দক্ষিণাঞ্চলের খাদ্য সঙ্কট মেটাতে নির্ভর করতে হবে আমদানির ওপর।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ধান চাষ করায় লোনের টাকাও পরিশোধ করতে পারেননি অনেক কৃষক। ফলে সারা বছরই কষ্টে কেটেছে তাদের। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে লোকসানের ঘানিটানা এসব কৃষক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ধান চাষ থেকে।
বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ১১ জেলায় ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ ৪৭ হাজার ৫০৩ হেক্টর, যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ হাজার হেক্টরেরও কম। চলতি বছর কৃষি অঞ্চলের ১১ জেলার মধ্যে বরিশালে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬১ হাজার ৩৬৯ হেক্টর। এছাড়া ঝালকাঠিতে আট হাজার ৮৯৭ হেক্টর, পিরোজপুরে ১৯ হাজার ১৩৪, পটুয়াখালীতে তিন হাজার ৫৭৫, বরগুনায় ৬১৭, ভোলায় ৫৫ হাজার ৫২৭, ফরিদপুরে ৩৫ হাজার ২২৫, মাদারীপুরে ৪০ হাজার ৯৬৪, গোপালগঞ্জে ৭২ হাজার ৬৩৬, রাজবাড়ীতে ১৮ হাজার ৫২৪ এবং শরিয়তপুরে ৩১ হাজার ৪৩৫ হেক্টরে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি অধিদফতর থেকে জানা যায়, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার জমিতে ধানের বীজ তোলার জন্য প্রয়োজন ২১ হাজার ৭০৩ হেক্টর জমি। গত মাস থেকে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়। পুরো নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত বীজতলা তৈরির কাজ চলবে। কিন্তু কার্তিক মাস শেষ হয়ে গেলেও এখনও বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের তেমন আগ্রহ নেই। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলের ১১ জেলায় ২১ হাজার ৭০৩ হেক্টর বীজতলা জমির বিপরীতে প্রস্তুত হয়েছে মাত্র তিন হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মধ্য ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি বীজতলার জমি প্রস্তুত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও তাদের আশা বাস্তবে রূপ পাবে না বলে ধারণা অভিজ্ঞ মহলের।
উজিরপুরে পটিবাড়ী গ্রামের কৃষক প্রফুল্ল জানান, গত বছর তিনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ছয় বিঘা জমিতে ইরি ধান চাষ করেছেন। জমিতে পানি সেচ, সার ও কিটনাশকসহ সব মিলিয়ে যা খরচ হয়েছে, উত্পাদিত ফসলের মূল্য ছিল তার তিন ভাগের দুই ভাগ।
আগৈলঝাড়ার মো. মাহবুবুর রহমান মাহবুব নামে এক কৃষক জানান, ধান-চালের মূল্য কম থাকায় এলাকার অধিকাংশ কৃষক জমিতে ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ওই এলাকার কৃষক সুশান্ত জানান, একজন শ্রমিকের প্রতিদিনের মজুরি ২০০ টাকা। বীজ, সার ও কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে যে খরচ হয়, তাতে প্রতিমণ ধানের উত্পাদন খরচ দাঁড়ায় সাড়ে পাঁচশ’ থেকে ছয়শ’ টাকা। এক্ষেত্রে উত্পাদিত ধান বাজারে বিক্রি হচ্ছে চার থেকে সাড়ে চারশ’ টাকা। তাই লোকসান দিয়ে কেউই ধান চাষ করতে চাচ্ছেন না।
বরিশাল আঞ্চলিক কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, ধান-চালের বাজার কিছুটা কম থাকলেও তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা জমি প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন।