Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

এফবিসিসিআই নির্বাচন আজ : ভোটযুদ্ধে মুখোমুখি আকরাম উদ্দিন প্যানেল ও আনিসুল হকের গণতান্ত্রিক পরিষদ

রিজাউল করিম
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
আজ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ২০১২-১৪ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে এ ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে দুইটি প্যালেন ও একটি স্বতন্ত্র গ্রুপ। প্যানেল দু’টির একটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের প্যানেল। এর প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল হচ্ছে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক সমর্থিত গণতান্ত্রিক পরিষদ। এছাড়া ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের ব্যানারে স্বতন্ত্র গ্রুপ হিসেবে ৩ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
পরিচালনা পর্ষদের এ নির্বাচনে ৬৩ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ১৫ জন করে মোট ৩০ জন পরিচালক নির্বাচন করা হবে। ফেডারেশনে এবার চেম্বার গ্রুপের ৩৯০ জন এবং অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ১৬১১ জন মিলে মোট ২০০১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এফবিসিসিআই নির্বাচনী বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সম্পন্নে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচনী বোর্ড। ভোটারদের ভোট প্রদানে ফেডারেশন ভবনের সপ্তম তলার বোর্ডরুমকে চেম্বার গ্রুপের ভোট কক্ষ এবং সম্মেলন কক্ষকে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ভোট কক্ষ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালন করছেন এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আলী আশরাফ এমপি। নির্বাচন বোর্ডের দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন আবু বক্কর সিদ্দিক দীলিপ ও অপরজন কেএমএন মানজুরুল হক। আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এএম আমিন উদ্দিন। দুইজন মেম্বার যথাক্রমে মির্জা আবু মনসুর ও চৌধুরী মুকিম উদ্দিন কেজে আলী। আজ সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং তা চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। তবে এ সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন না হলে এবং ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে সাড়ে ৪টার মধ্যে পৌঁছলে ভোটগ্রহণ প্রয়োজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে বলে নির্বাচনী বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। আজ রাতের মধ্যেই নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা হবে। আগামী ২৬ নভেম্বর সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদের নির্বাচন হবে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৯ নভেম্বর।
সূত্র মতে, দেশের ব্যবসায়ীদের পার্লামেন্ট হিসেবে পরিচিত এফবিসিসিআই নির্বাচনে জয়ের প্রশ্নে দুই প্যানেলই আশাবাদী। তবে সরকারের সবুজ সঙ্কেত পেয়ে আকরাম উদ্দিনের প্যানেল নিজেদের এক ভাগ এগিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা ভোটারদের কাছে টানতে নিজেদের সরকার সমর্থিত প্যানেল হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তাছাড়া ফেডারেশনের গতিশীলতায় আকরাম উদ্দিনের নেতৃত্বের বিকল্প নেই বলেও ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন তারা।
জানা গেছে, এরই মধ্যে সরকারের উচ্চমহল থেকে বলা হয়েছে, পরিচালক নির্বাচনে যাই হোক এফবিসিসিআই’র সভাপতি পদে আকরাম উদ্দিনকে দেখতে চায় সরকার। আর সেজন্য আকরাম উদ্দিন প্যানেলের পক্ষে চালানো হয়েছে জোর প্রচারণা। অনেক ভোটার সরকারের সমর্থনকে ইতিবাচক নিয়ে আকরাম উদ্দিনের প্যানেলে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। প্যানেল প্রার্থীদের ধারণা, সভাপতি পদে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার কারণে আগামীতে এফবিসিসিআই’র সভাপতির আসনে আকরাম উদ্দিন বসবেন। তবে আকরাম উদ্দিন প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল গণতান্ত্রিক পরিষদ সদস্যদের থেকে জানা গেছে, পরিচালক নির্বাচনে গণতান্ত্রিক পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তারা শেষ মুহূর্তে সভাপতি পদেও প্রার্থী দেবেন।
নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ২টি প্যানেল হচ্ছে, কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ও আনিসুল হক সমর্থিত চেম্বার গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা দেওয়ান সুলতান আহমেদ ও আবু আলম চৌধুরীর গণতান্ত্রিক পরিষদ। প্যানেলের নেতারা পৃথক পৃথকভাবে তাদের প্যানেল পরিচিতির মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ প্যানেল তার নির্বাচনী ইশতেহারে আধুনিক ও যুগোপযোগী এফবিসিসিআই প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারসহ মোট ২১টি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। এই প্যানেলে মূল স্লোগান হচ্ছে ‘আলোকিত আগামীর পথে একসাথে’। আর ইশতেহারের অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে অসম্পন্ন অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করা, এসএমই খাতে সমস্যা সমাধান করা, সরাসরি নির্বাচন বিধান তৈরি করা, সচিবালয়ে অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বার নেতাদের নামে প্রবেশ পাস ইস্যু করা, সুদের হার ও সার্ভিস চার্জ কমিয়ে আনা, বিদেশে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানো, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা, একটি শক্তিশালী গবেষণা সেল গঠন করা।
কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ প্যানেলে চেম্বার গ্রুপে রয়েছেন নরসিংদীর প্রবীর কুমার সাহা, বগুড়ার আলহাজ মমতাজ উদ্দিন, ফেনীর একেএম সাহিদ রেজা, লালমনিরহাটের সিরাজুল হক, ভৈরবের আলহাজ বজলুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আবদুল ওয়াহেদ, জামালপুরের রেজাউল করিম, মাদারীপুরের জালালউদ্দিন আহমেদ ইয়ামিন, সুনামগঞ্জের নুরুল হুদা মুকুট, নেত্রকোনার নাগিবুল ইসলাম দীপু, চিটাগাং উইমেন চেম্বারের মনোয়ারা হাকিম আলী, কুরিয়ার বিজয় কুমার কেজরীওয়াল, ময়মনসিংহের আমিনুল হক, টাঙ্গাইলের আবুল কাশেম আহমেদ ও রাজবাড়ীর নজিবর রহমান। এরা প্রত্যেকেই পরিচালক পদের প্রার্থী। এর পাশাপাশি ১৫ জন রয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের। এরা হলেন মীর নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ, আলহাজ হারুন-উর-রশীদ, কেএম আকতারুজ্জামান, এমএ মোমেন, আলহাজ খন্দকার রুহুল আমিন, হেলাল উদ্দিন, আক্তারুজ্জামান মঞ্জু, আবদুর রাজ্জাক, শফিকুল ইসলাম ভরসা, আবু মোতালেব, আমিন হেলালী, আবু নাসের, শাহেদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন ও এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন।
অন্যদিকে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনিসুল হক সমর্থিত গণতান্ত্রিক পরিষদের নির্বাচনী অঙ্গীকার হচ্ছে, পরবর্তী নির্বাচনে সভাপতি ও সহ-সভাপতির পদে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাসহ ১০টি বিষয়। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধান করা, শেয়ারবাজারকে চাঙ্গা করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য জেলা পর্যায়ে ঋণের সুদের হার সীমিত রাখা।
গণতান্ত্রিক পরিষদের অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন আবু আলম চৌধুরী। প্যানেলে অন্য সদস্য হচ্ছে, বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের মুনতাকিম আশরাফ, বাংলাদেশ ইনডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ পেট ফ্লেক্স ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ সুইং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের আবদুল হক, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশনের শোয়েব চৌধুরী, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাফকাত হায়দার, বাংলাদেশ জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকরাচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক অ্যাসোসিয়েশনের আক্কাস মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির এসএ কাদের কিরণ, বাংলাদেশ মেটালওয়্যার অ্যান্ড ওয়্যারনেইলস মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আলহাজ নিজাম উদ্দিন, বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মিজানুর রহমান বাবুল ও প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের রাব্বানী জব্বার।
চেম্বার গ্রুপের প্রার্থী : কুমিল্লা চেম্বারের মাসুদ পারভেজ খান, মানিকগঞ্জের তাবারাকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটু, বরিশালের নিজাম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তানজিল আহমেদ, পটুয়াখালীর গোলাম মোস্তফা তালুকদার, গাজীপুরের আনোয়ার সাদাত সরকার, পঞ্চগড়ের ইকবাল কায়সার মিন্টু, ঝিনাইদহের মীর নাসির উদ্দিন, কুমিল্লার ইখতেহার খান, জয়পুরহাটের আমিনুল বারী, মুন্সীগঞ্জের কোহিনুর ইসলাম, গাইবান্ধার শাহজাদা আনোয়ারুল কাদির, নড়াইলের হাসানুজ্জামান, সিরাজগঞ্জের সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা, শেরপুরের মাসুদ ও ফরিদপুরের মাহবুবুর রহমান খান।