Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

হরিপুর সীমান্ত : কাঁটাতার আটকাতে পারেনি দু’দেশের মানুষের রক্তের টান

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া আটকাতে পারেনি বাংলাদেশ-ভারতের লাখো মানুষের রক্তের টান। জিউকালীর পূজা উপলক্ষে উপজেলার কোঁচল এবং চাঁপাসার সীমান্তে অনানুষ্ঠানিকভাবে বেলা দেড়টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কাঁটাতারের এপার-ওপারে দাঁড়িয়ে দু’দেশের মানুষের স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়। ওপারে ছিল ভারতে নাড়গাঁও সীমান্ত। গতকাল গেট না খুললেও ভারতের দেয়া সীমান্ত কাঁটাতারের এপারে-ওপারে দাঁড়িয়ে একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন বহু মানুষ। আদান-প্রদান হয় নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রী।
বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ জিউকালীর পূজার মেলা উদযাপন করে। কোঁচল ও চাঁপাসার সীমান্তের ৩৪৫ ও ৩৪৬ নং পিলার এলাকায় সকালেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করে। দেখা না হওয়া পর্যন্ত দু’পারেই অপেক্ষা করতে থাকে দু’দেশের হাজার হাজার লোক।
রানীশংকৈল উপজেলার রসনপুর গ্রামের সাবিনা বেগম এবার দেখা করেছেন তার মেয়ে আদরীর সঙ্গে। আদরের ছোট মেয়ে থাকে ভারতে পানিদীঘি গ্রামে। ১৫ বছর আগে বিয়ে হয় ভারতের মালদা জেলার রতুয়া থানার আন্ধারু গ্রামে। বিয়ের পর এই প্রথম মেয়ের দেখা পেয়ে প্রথমে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তার মেয়ে ও জামাইকে কাপড় এবং মিষ্টি দিয়ে বেশ আনন্দ ভোগ করার কথা ব্যক্ত করেন।
ভারতের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা জয়পুরহাটের পূর্ণিমা জানান, ২০ বছর আগে আমার ছোট বোন পূর্ণিমার বিয়ে হয় ভারতের আলিয়াগঞ্জ গ্রামে। বিয়ের পর আর কথা হয়নি তার সঙ্গে কিন্তু আজ বোনের সঙ্গে কাঁটাতারের এপার থেকে কথা বলে ও মিষ্টি দিতে পেরে মনে বড় আনন্দ পেয়েছি। কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে ১৫ বছর পর পরেশ চন্দ্র তার মা ভারতী রানীকে মিষ্টি ও শাড়ি দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন। মিলনমেলায় ঘুরতে আসা অনেকেই ভাই-বোন, কেউবা বাবা-মা, কেউবা দাদা-দাদি, কেউবা নানা-নানি, কেউবা শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করেন।
সকাল থেকেই সীমান্তের কাঁটাতারের এপার-ওপারে কাছাকাছি হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় করতে থাকেন স্বজনদের সঙ্গে একটু দেখা করার আশায়। তবে দু’দেশের অনুমতি না থাকায় বিজিবি ও বিএসএফ কড়া প্রহরা ছিল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে লোকজন। শেষ পর্যন্ত বিজিবি-বিএসএফ ধরে রাখতে পারেনি হাজার হাজার মানুষের ঢল।
এ ব্যাপারে কোঁচল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রবিউল ইসলাম বলেন, মিলনমেলার দু’দেশের কোনো অনুমতি ছিল না। তবে অনেকে কাঁটাতারের এপার-ওপারে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে কথা বলেছেন ও খাদ্য বিনিময় করেছেন।