Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : শিবির সন্দেহে ৩ মেধাবী ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে দিল প্রক্টর

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিউত্সাহী প্রক্টরের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন মেধাবী ছাত্র শিবিরকর্মী সন্দেহে এখন কারাগারে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ক’জন ছাত্র বৃহস্পতিবার বিকালে ক্যাম্পাসে একটি স্টলে বসা ছিল। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ওমর ফারুক ও সহকারী প্রক্টর উত্পল কুমার প্রধান ওই ছাত্রদের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তারা জড়িত কিনা জানতে চান।
ছাত্ররা বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে সেখান থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আসিফ, সাকিব ও কামরুল ইসলাম এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের অপু সরোয়ারকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি কক্ষে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে রাত ১০টা পর্যন্ত বেদম মারপিট করা হয় তাদের। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিন ছাত্রকে সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। গতকাল সকালে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রক্টর ওমর ফারুক বলেন, ওই ছাত্ররা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত। তাদের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের চেকবই পাওয়া গেছে। বিভিন্ন নামে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠন গড়ে তুলেছে। এটি একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ ক’জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রের সঙ্গে কথা বলে ভিন্নচিত্র পাওয়া গেছে। সম্প্রতি গ্রেফতার করা ছাত্ররা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটি ভর্তিগাইড বের করেছে। এছাড়াও বিগত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তারা। এসবই কাল হয়েছে ওই ছাত্রদের জন্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের ব্যক্তিগত রোষানলে পড়ে মেধাবী তিন ছাত্রকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ফলে তাদের শিক্ষাজীবন নষ্ট হয়ে গেল।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানান, গত ১৩ অক্টোবর যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিতে শহরে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে ওই তিন ছাত্র জড়িত ছিল। তখন তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে জিহাদি লিফলেট বিতরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টোরিয়াল বডি বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। গ্রেফতার করা ছাত্রদের মধ্যে আসিফ সাকিবের বাড়ি চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার স্টেশন রোডে, কামরুল ইমলামের বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়ার দরবাসা গ্রামে আর অপু সরোয়ারের বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার বীরবাঁধবেড় গ্রামে। এ ঘটনায় সাধারণ ছাত্রদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।