Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শেবাচিমে তিনদিনের ধর্মঘটে ২০ রোগীর মৃত্যু, হাসপাতাল ছেড়েছেন পাঁচ শতাধিক : আরও জোরালো আন্দোলনের হুমকি ডাক্তারদের

এনবি পলাশ বরিশাল
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
তৃতীয় দিনের মতো বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সক ধর্মঘট চলছে। টানা তিনদিনের ধর্মঘটে চিকিত্সার অভাবে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিকিত্সা সেবা না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি গেছেন ৫ শতাধিক রোগী। আর্থিক দৈন্যতার কারণে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়েও দুস্থ ও অসহায় রোগীরা এ হাসপাতালেই চিকিত্সার আশায় পড়ে আছেন।
এদিকে দাবি পূরণ না হলে আজ শনিবার থেকে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্নি চিকিত্সকরা। তবে হাসপাতালের এ সঙ্কট নিরসনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন রোগীসহ সচেতন মহল। চিকিত্সকের উপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার থেকে ইন্টার্নি চিকিত্সকদের কর্মবিরতি শুরু হয়। আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে ওইদিন সকাল থেকে শেবাচিম হাসপাতালে জরুরি চিকিত্সা সেবা ছাড়া সব ধরনের চিকিত্সা সেবা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ও উপ-পরিচালকের কার্যালয় গিয়ে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছে না রোগীদের স্বজনরা।
এদিকে ধর্মঘট চলাকালীন গত তিনদিনে এ হাসপাতালে কমপক্ষে ২০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দিনমজুর গিয়াস উদ্দীন মিয়ার স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৯) স্ট্রোকে আকান্ত হয়ে শেবাচিমে ভর্তি হন। কর্তব্যরত চিকিত্সকরা কোনো রকম দেখেই তাকে ঢাকা নেয়ার পরামর্শ দেন। আর্থিক অসঙ্গতির কারণে তাকে ঢাকা নেয়া সম্ভব না হওয়ায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্বজনরা অভিযোগ করেন, ভর্তির পর একবার মাত্র ডাক্তার তাকে দেখেছেন। রোগীর মুমূর্ষু অবস্থায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো ডাক্তার পাওয়া যায়নি। মাজেদার মতো অনেক রোগী চিকিত্সকের অবহেলায় মারা যাচ্ছেন বলে অভিযোগ মৃত রোগীর স্বজনদের।
গত তিনদিনে এ হাসপাতাল থেকে ৫ শতাধিক রোগী নাম কেটে অন্যত্র চলে গেছেন। এছাড়া প্রায় অর্ধশত রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে দুস্থ ও অসহায় রোগী চিকিত্সা সেবা না পেয়েও এ হাসপাতালেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী জানান, শুধু ডাক্তারই নয়, প্রয়োজনের সময় হাসপাতালের নার্সদেরও ডেকে পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, হামলাকারীদের গ্রেফতার ও ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ৩৮ ব্যাচের ইন্টার্নি চিকিত্সকরা। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় হাসপাতাল ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। মানববন্ধনে ইন্টার্নি ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদি হাসান, ডা. রিপন কুমার রায়, ডা. এসভি নাজমুস সাকিব সুচক, ডা. ইরফানুল আলম, ডা. সাদিয়া ফালগুনী, ডা. মুসলিমা আক্তার প্রিয়া বক্তৃতা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯ নভেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ পলিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মুনসুর আলীর স্ত্রী পরিমন বেগম। হাসপাতালের ৪র্থ তলায় মেডিসিন ইউনিট-৩ এ চিকিত্সাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে পরিমন বেগমের মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর জন্য ইন্টার্নি চিকিত্সকদের অবহেলাকে দায়ী করে কর্তব্যরত তন্ময় বরুসহ একাধিক ইন্টার্নি চিকিত্সকে লাঞ্ছিত করে পুলিশ কনস্টেবল মামুনুর রশিদ ও তার স্বজনরা। এ ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে অনির্দিষ্ট কর্মবিরতির ডাক দেন ইন্টার্নি চিকিত্সকরা।