Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

চট্টগ্রামে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুত্ নেই : গ্যাসের অভাবে দুটি বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
পরের সংবাদ»
চট্টগ্রামে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুত্ও পাওয়া যাচ্ছে না। নগরীতে বিদ্যুত্ উত্পাদন কমে এক-তৃতীয়াংশ হয়েছে। মোট সাড়ে পাঁচশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতার দুটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে আছে গ্যাসের অভাবে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত্ সরবরাহ কমার পাশাপাশি লোডশেডিং বেড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে।
চট্টগ্রাম পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রামের প্রধান দুটি বিদ্যুেকন্দ্রের উত্পাদন বন্ধ হয়ে আছে। এ দুটি বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ থাকায় প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কম উত্পাদন হচ্ছে।
চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার চট্টগ্রাম জোনের ৯টি বিদ্যুেকন্দ্রের ১ হাজার ১৪৫ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার বিপরীতে সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়েছে মাত্র ৪১০ মেগাওয়াট। এ কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত্ সরবরাহ কমে গেছে; একইসঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। চট্টগ্রামের রাউজানে ৩৬০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার বিদ্যুেকন্দ্রটির প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায় গত ৮ সেপ্টেম্বর। এর আগে ৮ আগস্ট বন্ধ হয় দ্বিতীয় ইউনিট। শিকলবাহায় ১৫০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার কেন্দ্রটি বন্ধ হয় ১৬ সেপ্টেম্বর। আর ৬০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে ২ জুলাই থেকে।
চট্টগ্রাম বিদ্যুেকন্দ্রের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বপন চক্রবর্তী বলেন, গ্যাস সরবরাহ নেই। তাই আমাদের সাড়ে ৫০০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতার কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এসব কেন্দ্র বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুত্ উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও কম বিদ্যুত্ যাচ্ছে।
এদিকে পিডিবির অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিনের বিদ্যুত্ উত্পাদনের রিডিং নেয়া হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর। তাই সংশ্লিষ্ট সূত্র গতকালের বিদ্যুত্ উত্পাদনের তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে। তবে সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের কাপ্তাই থেকে পাওয়া গেছে ১০০ মেগাওয়াট, দোহাজারী থেকে ৩৪ মেগাওয়াট এবং জুলধা রেন্টাল বিদ্যুেকন্দ্র থেকে পাওয়া গেছে ১০৮ মেগাওয়াট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পিডিবির হাটহাজারী কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুত্ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আরও তিনটি কেন্দ্রে ৭৭ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন কম হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম জোনের কেন্দ্রগুলো বিদ্যুত্ উত্পাদন চাহিদা ও লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও সরবরাহ করতে পারেনি। বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডে চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সার উত্পাদনের জন্য বিদ্যুত্ খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় এ সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে বিডিনিউজ জানায়, বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বুধবার সারাদেশে ব্যবহারযোগ্য চাহিদা ছিল ৪ হাজার ৮৭১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উত্পাদন হয়েছে ৪ হাজার ৫৮২ মেগাওয়াট।
সারাদেশে ৮২টি বিদ্যুেকন্দ্রের প্রকৃত উত্পাদন ক্ষমতা ৮ হাজার ২৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বুধবার গ্যাসের অভাবে উত্পাদন কমেছে ৯৬০ মেগাওয়াট। আর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উত্পাদন কম হয়েছে ১ হাজার ৫১৬ মেগাওয়াট।