ব্রাদার্সকে হারাল মুক্তিযোদ্ধা

স্পোর্টস রিপোর্টার « আগের সংবাদ
পরের সংবাদ» ২৩ নভেম্বর ২০১২, ১২:০৪ অপরাহ্ন

পেশাদার লিগে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে শিরোপা প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র। টাইসন সিলভার জোড়া গোলে গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা ২-০ গোলের ব্যবধানে পরাস্ত করে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্বল প্রতিপক্ষ আরামবাগের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছিল তারা। মুক্তিযোদ্ধার টানা দ্বিতীয় জয় হলেও চলতি এ আসরে ব্রাদার্সের এটা টানা দ্বিতীয় পরাজয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মোহামেডানের কাছে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ব্রাদার্সকে। পর পর দুই ম্যাচ হারের দায়ভার নিজ কাঁধে তুলে নিয়ে ব্রাদার্সের কোচ লাডি বাবা লোলা বলেন, ‘মনোসংযোগ হারানোর খেসারত হিসেবেই ম্যাচ হারতে হয়েছে। দুই অর্ধেই আমাদের দাপট ছিল। দুই গোল হজমের পর কৌশলে পরিবর্তন আনলেও ম্যাচে আর ফিরে আসতে পারিনি। গোলের পেছনে কারও একার দোষ নেই। এটা দলগত ইভেন্ট। সবার ভুলেই গোল হজম করতে হয়েছে। আর বিশেষ করে দলগতভাবে আমরা গোল করার মতো খেলতে পারিনি।’ অন্যদিকে জয় পেলেও সফরকারী দলের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক সন্তুষ্ট হতে পারেননি দলের পারফরম্যান্সে। বলেন, ‘প্রথম ২০ মিনিট আমরা গোছালো ফুটবল খেলতে পারিনি। এরপরই আমরা অবশ্য গুছিয়ে নিয়েছি। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারায় ম্যাচ জিতে গেছি। তবে এটি মোটেও ভালো ম্যাচ ছিল না। ভালো করতে হলে আরও উন্নতি করতে হবে। আমরা টাইটেল ফাইট দেবো।’ হোম ভেন্যুর সুবিধা নিতে পারলে অনেকদূর যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন মানিক। দলের জয়ের নায়ক টাইসন সিলভা জানান, ‘আমার একার কৃতিত্ব নেই এখানে। এটা টিম গেম। সবার সহযোগিতায় গোল করতে পেরেছি।’
গতকাল বিকাল পাঁচটায় শুরু হওয়া ম্যাচে একক আধিপত্য ছিল মানিক শিষ্যদের। ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা করে ফেলে লাডি বাবা লোলার শিষ্যদের। ধারাবাহিক আক্রমণের ফল পেতেও দেরি হয়নি। মাত্র ২৬ মিনিটেই এগিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা। দলের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড টাইসন সিলভার গোলে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে মুক্তিযোদ্ধা সমর্থকরা। ওজোরুম্বার থ্রু পাসে বল পেয়ে সিলভা ব্রাদার্সের গোলরক্ষক পিয়ারুজ্জামান পিরুকে ডস দিয়ে প্লেসিং শটে দলকে এগিয়ে নেন (১-০)। গোলরক্ষক পিরু অবশ্য গোল রুখতে এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সিলভাকে আটকাতে পারেননি তিনি। প্রথম গোল আদায়ের এক মিনিট আগেই শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল ব্রাদার্সের। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া জুয়েল রানার আচমকা জোরালো শট ক্রস পিচে লেগে ফিরে না এলে স্কোর লাইন ২-০ থাকতো। ৩২ মিনিটে গোপীবাগের দলটিকে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক পিরু। এবার তিনি ইউসুফের জোরালো শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন। দুই মিনিট আগে নিজ দক্ষতায় দলকে বিপদমুক্ত করলেও পরের গোলটি হজম করতে হয় পিরুর ভুলেই। এবারও গোলের নায়ক সেই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সিলভা। ডার্লিটনের বাড়ানো বল নিয়ে ব্রাদার্স শিবিরের দিকে এগিয়ে যান সিলভা। তাকে বাধা দিতে প্রস্তুত ছিলেন ব্রদার্সের ডিফেন্ডার আশরাফুল। কিন্তু সিলভাকে রুখতে ব্যর্থ হন তিনি। গোলরক্ষক পিরুও লাইন ছেড়ে এগিয়ে এলে আলতো টোকায় তার মাথার ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন সিলভা (২-০)। প্রথমার্ধে আর কোনো গোলের মুখ দেখেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নেয় গোপীবাগের দলটি। বেশ কয়েকবার তারা আঘাত হেনেছিল মুক্তির দুর্গে। কিন্তু কপালটা মন্দ তাদের। রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙতে পারলেও গোলরক্ষক জিয়াউর রহমানের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি ব্রাদার্স ইউনিয়নের ফরোয়ার্ডরা।
এ অর্ধে ব্রাদার্সের প্রায় তিনটি আক্রমণ নসাত্ করে দেন জিয়া। আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকাল ৫টায় আবাহনী-আরামবাগের মুখোমুখি হবে।

সাপ্তাহিকী


উপরে

X