Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
 
আর্কাইভ: --
 

সোনারচর সরগরম হয়ে উঠেছে শুঁটকি শ্রমিকদের পদচারণায়

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
শুঁটকি শ্রমিকদের পদচারণায় সাগরকন্যাখ্যাত সোনারচর আবার সরগরম হয়ে উঠেছে। প্রাকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনারচরে ফের লেগেছে প্রাণের ছোঁয়া। দীর্ঘ সাত মাস পর ফিরে এসেছে শুঁটকির কারিগররা। এখানে বয়স্ক শ্রমিকদের সঙ্গে শিশুরাও এসেছে। হৃদয়ের টানে নয়, পেটের তাগিদেই এসেছে ওরা। এ চরের অধিকাংশই শিশু শ্রমিক। এদের বয়স ৭ থেকে ১৫ বছর। পাঁচ শতাধিক শিশু শ্রমিক এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। উপজেলার সোনারচর ওদের কর্মস্থল। বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রতি বছরই এরা এ চরে আসে। পরিবারের সব সদস্য মিলে রোজগার করে। পুরো পাঁচ মাস এখানে থেকে রোজগার করে আবার চলে যায় বাবা-মায়ের সঙ্গে। অভাবের সংসারে অর্থের জোগান দিতেই তারা এসেছে বিচ্ছিন্ন এ চরে। চিংড়ি মাছ কাটা ওদের কাজ। হরিণা, চাকাচালি, টাইগারসহ নানা জাতের চিংড়ি নিয়ে দিন কাটে ওদের। মাথা ছেঁড়া, বরফ দেয়া, শুকানো ও বাছাই করা, প্যাকেটসহ নানা কাজ নিয়ে দিন কখন যে কেটে যায় ওদের, তা হিসাব করার ফুরসত থাকে না কারও। সরেজমিনে জেলে এবং শিশু শ্রমিকদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে ওঠা সোনারচর পটুয়াখালীর সর্বশেষ দক্ষিণের মৌসুমি জনপদ। স্থায়ীভাবে এ চরে এখন পর্যন্ত কোনো জনবসতি গড়ে ওঠেনি। শুকনো মৌসুমে প্রায় ৫ মাসের জন্য কয়েক হাজার লোক প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে মাছ শিকার করতে এসে এখানে ঠাঁই গাড়ে। আহরিত মাছের একাংশ বরফজাত ও বাকিগুলো করা হয় শুঁটকি। চরের পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্ত ঘিরে গড়ে ওঠে অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী। মৌসুম শেষে বর্ষা আসার আগে শুঁটকি পল্লীর অস্থায়ী ডেরা গুটিয়ে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ফিরে যায় নিজভূমে। গলাচিপা উপজেলা সদর থেকে ট্রলারে প্রায় চার ঘণ্টা নদীপথে এ চরে পৌঁছতে হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া কেউ এ চরে যায় না। চারদিকে অথৈ জলরাশির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সোনারচরের একপ্রান্ত থেকে যতদূর দৃষ্টি যায় বনবিভাগের সৃষ্ট ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের শুধু সবুজের সমারোহ। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলে, শুঁটকি কারবারি এবং এদের সঙ্গে বেশকিছু শিশুরও আগমন ঘটে। শখ করে এদের কেউ এ দুর্গম চরে আসে না; আসে পেটের তাগিদ এবং বাবা-মা, ভাইবোনদের মুখের আহার জোগাতে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নান্দনিক দৃশ্য ওদের মনকে ছুঁতে পারে না। পেটের তাগিদ ও দারিদ্র্যের চিন্তাই সব সময় ওদের মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে। পড়াশোনা তো অনেক স্বপ্নের ব্যাপার; চিংড়ি মাছের মাথা বিচ্ছিন্ন করার চিন্তাই সব সময় মাথায় থাকে।
বেশি মাছের মাথা বিচ্ছিন্ন করতে পারলেই বেশি আয় হবে। বাবা-মা, ভাই-বোনদের মুখে আহার জুটবে। সারাদিন কাজ করে ওরা ৬০ থেকে ৭০ টাকা পায়। অথচ বয়স্ক শ্রমিকরা সমপরিমাণ কাজ করে আয় করে ওদের ৫ গুণ টাকা। আরও অনেক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সীমাহীন কষ্ট বুকে নিয়ে মজুরিবৈষম্যের এ নিয়মটি মেনে নিতে বাধ্য হয় ওরা। সোনারচরে কর্মরত ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর গ্রামের শিশু শ্রমিক হেলাল জানায়, তিন মৌসুম ধরে সে এ চরে আসছে। বাবা-মা, ভাই-বোন ছেড়ে এসে এ চরে থাকতে প্রথম দিকে বেশ কষ্ট হলেও এখন সয়ে গেছে। একই এলাকা থেকে আসা মৌসুমি নামের এক শিশু শ্রমিক জানায়, সে গ্রাম সম্পর্কীয় এক চাচার সঙ্গে এ চরে এসেছে। বাবা-মা মারা যাওয়ায় সে এ চরে কাজ করতে আসতে বাধ্য হয়েছে। চরমোন্তাজের মত্স্য ব্যবসায়ী সাথি জানান, প্রতি বছর এ সময় সোনারচরে শুঁটকি শ্রমিকরা ভিড় জামায়। এখানে রাবিশ মাছই বেশি থাকে। সোনারচরে সোহরাব প্যাদা, নান্নু মিয়ার শুঁটকি আড়ত সবচেয়ে বড়। এছাড়া চরমোন্তাজে জাদব সমাজপতি, আবসুদ সত্তার (সাদ্দাম) মফাজ্জেল হোসেন, মেঘনাথ সমাজপতি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।