Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

উন্নয়ন হচ্ছে না মৌলভীবাজার বিসিকের

শাহ্ অলিদুর রহমান, মৌলভীবাজার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার পর ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে সামান্য হলেও সফলতা দেখালেও বড় ধরনের কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। তবে নানা অব্যবস্থাপনায় পড়ে এখন আর আগের মতো সামনে এগুতে পারছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় লোকজনের অজ্ঞতা কাটাতে পারলে এখানের বিসিক শিল্পনগরী আশাতীত সফলতা অর্জন করতে পারবে।
স্থানীয় লোকজনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, বিনিযোগে উত্সাহ দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই ১৯৮৭ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুমড়া এলাকায় বিসিক শিল্প নগরীর যাত্রা শুরু হয়। জমি নেয়া হয়, ১৪ দশমিক ৫৯ একর। শুরুতে ৮ হাজার ২শ’ টাকা শতক মূল্যে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। এ পর্যন্ত ১০১টি প্লটের মধ্যে ৯৩টি প্লট বরাদ্দ হয়েছে। যা ৬২টি শিল্প ইউনিটের আওতায়। এছাড়া ফুড, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন পর্যায়ে উত্পাদনরত অবস্থায় আছে ৩০টি শিল্প ইউনিট। এদিকে উত্পাদনে আসতে না পারায় ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে রুগ্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে নতুনভাবে আরও ২৩টি প্লট নির্মাণাধীনের অপেক্ষায় আছে। মৌলভীবাজার বিসিকের যাত্রার প্রায় দুই দশক। এখানের লোকজনের নানা অজ্ঞতার কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠান তেমন একটা গড়ে উঠতে পারেনি।
জানা যায়, বিসিকের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের উত্সাহী মনোভাবের ফলে ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে বিগত ক’বছরে মোটামুটি সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে। এদিকে বিসিক শিল্পনগরী চালুর পর থেকেই ড্রেনেজ সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা গেছে। সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য আশপাশের ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ছে। এতে করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সেই সঙ্গে গুমড়া এলাকার কৃষকরা বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বিসিক শিল্পনগরীতে উত্পাদনের সঙ্গে জড়িতরা বিভিন্ন অভিযোগে জানান, বিদ্যুত্ বিভ্রাট, লোডশেডিং, বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব এখন প্রায় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিসিকের পানিতে প্রচুর পরিমাণ আয়রনযুক্ত। এই পানি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী।
মৌলভীবাজার বিসিক ভূমি বরাদ্দ কমিটির সদস্য, বকসী ইকবাল আহমদ বিসিকের অগ্রযাত্রার উন্নয়নমূলক দিক তুলে ধরে জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি নতুন উদ্যোক্তাদের মাইনসেট ঠিক করতে পারলে মৌলভীবাজার বিসিক কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারবে।
এদিকে আলফী মুড়ি ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক, আবদুল হান্নানের বক্তব্য হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সঙ্কট, শ্রমিক সঙ্কট এবং উত্পাদিত পণ্যের বাজারজাত সমস্যা তাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
মৌলভীবাজার বিসিক শিল্প নগরীর, উপ-ব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম সরকারের উদ্যোগী ভূমিকায় বিসিকের অগ্রগতি হলেও তিনি বলছেন, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাটিতে অজ্ঞতার কারণেই পর্যাপ্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারছে না।