Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

৬ বছরেও নির্মাণ হয়নি জামশা সেতু

সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
পরের সংবাদ»
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের সড়কব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জানা গেছে, ঢাকা থেকে সিঙ্গাইরের দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। অথচ রাস্তাঘাট ও ব্রিজগুলোর বেহাল অবস্থা। সিঙ্গাইর-নবাবগঞ্জ ভায়া জামশা সড়কে কালিগঙ্গা নদীর ওপর জামশা সেতুর নির্মাণকাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ সড়কে যাতায়াতকারী লাখ লাখ মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদী পার হচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে চারদলীয় জোট সরকার সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। সেই সুবাদে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুটির অবস্থান মানিকঞ্জের সিঙ্গাইর হলেও এর বাস্তবায়ন করছে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকার নবাবগঞ্জ এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ২০০৬ সালের ৮ নভেম্বর কার্যাদেশ পেয়ে ২০০৭ সালে ১৫ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু করেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শ্রাবণী কন্সট্রাকশন লিমিটেড। ২৪০.১২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৫.৫ মিটার (র্যালিংয়ের বাইরে ৬.৮ মিটার) প্রস্থ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ছয় কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৭ টাকা। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি সেতুটির পিলার স্থাপন করে কাজ বন্ধ করে সবকিছু গুছিয়ে সটকে পড়ে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ২০১১ সালের ৩ মে কার্যাদেশ পেয়ে ওই সালের ৯ মে সেতুটির বাকি নির্মাণকাজ শুরু করেন মেসার্স ইস্টল্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চার কোটি ৬৮ লাখ ১১ হাজার ৩৮৫.৮০ টাকা চুক্তিমূলে ২০১৩ সালের ৯ মে’র মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির নির্মাণকাজ চলছে ঢিলা তালে। সেতুটির নির্মাণ শেষ না হওয়ায় এ সড়কে যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঢাকা-নবাবগঞ্জ ও সিঙ্গাইর উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। দীর্ঘ ছয় বছরেও ঘোরেনি তাদের ভাগ্যের চাকা।
এলাকাবাসী জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও এখনও শেষ হচ্ছে না। এলাকাবাসী আরও জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আমাদের ঢাকা যেতে দুই ঘণ্টা সময় কম লাগবে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি নির্মাণস্থলে পারাপারের জন্য সরকারি ইজারাদার নিয়োগ করে থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এতে যাতায়াতকারীদের নদী পারাপার হতে ইজারাদারকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। সেতুটি নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. খলিলুর রহমান জানান, প্রায় দুই কোটি টাকার কাজ করলেও সামান্য বিল পেয়েছি মাত্র। তারপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সহকারী প্রকৌশলী সুশীল চন্দ্র সরকার জানান, ফান্ড না থাকায় ঠিকমত বিল দিতে পারছি না। তবে কাজ ঠিকই চলছে।
নবাবগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ জানান, ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম আবদুল মান্নান জানান, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর গত বছর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আমার জানামতে, কাজ ভালোভাবেই চলছে।