Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

স্বাভাবিক হচ্ছে গাজার জীবনযাত্রা : এহুদ বারাকের হুশিয়ারি : অস্ত্রবিরতির শর্ত ভঙ্গ হলে আবারও হামলা

রয়টার্স, বিবিসি
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় পর গাজা সীমান্তে মোতায়েন বাহিনী প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরাইল। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসছে। আট দিন টানা লড়াইয়ের পর ইসরাইল-গাজা উভয়পক্ষই নিজ নিজ পক্ষের বিজয় ঘোষণা করেছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে ইসরাইল। ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ট্যাঙ্ক ও সামরিক বুলডোজারগুলো লরিতে উঠিয়ে ইউক্যালিপটাস বনের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পের দিকে রওনা হয় ইসরাইলি বাহিনী। এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক হুমকি দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করা হলে আবারও হামলা চালানো হবে।
২০০৯ সালে গাজা অভিযানের সময়ও তারা একই পথ দিয়ে গাজায় গিয়েছিল। তিন সপ্তাহের ওই লড়াইয়ে ১ হাজার ৪শ’ মানুষ নিহত হয়েছিল, যার মধ্যে ইসরাইলি ছিল মাত্র ১৩ জন। এবারের আট দিনের লড়াইয়ে ১৬০ ফিলিস্তিনির বিপরীতে নিহত ইসরাইলির সংখ্যা ৬ জন। এ পরিসংখ্যানের কারণেই নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করেছে হামাস। আগের লড়াইয়ে নিহত ১৩ ইসরাইলির ৪ জন আবার নিজ পক্ষের গুলিতেই নিহত হয়েছিল। এবার নিহত ৬ ইসরাইলির সবাই হামাসের রকেট হামলার শিকার।
‘সিংহের গুহা থেকে আমরা বিজয় ঘোষণা করছি’—বলেন হামাসের সামরিক শাখা আল কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা। ১৪ নভেম্বর ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের নিখুঁত নিশানায় হামাসের সামরিক শাখা প্রধান নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে লড়াইটি শুরু হয়েছিল। গাজা থেকে রকেট হামলা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে বলে জানায় ইসরাইল।
ইসরাইল দাবি করে, অক্টোবরের শেষদিক থেকে নভেম্বরের প্রথম কয়েক দিন পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলে সাত শতাধিক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে ও প্রচার-প্রচারণায়ও ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব ও ইসরাইল অধিকৃত জেরুজালেমে দূরপাল্লার রকেট নিক্ষেপ করে ‘খেলা’ নিজের দিকে নিয়ে গেছে হামাস। ইসরাইলি স্থল অভিযান শুরু না হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও হামাসের এই আপাত বিজয়ে উল্লাস করছে গাজাবাসীও। ইসরাইল জানিয়েছে, এই আটদিনে গাজা থেকে পনেরশ’ রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও এগুলোর ৮৪ শতাংশ আকাশেই ধ্বংস করেছে ইসরাইল। তবুও বাকি রকেটগুলোতেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিপরীতে সমান সংখ্যক হামলা চালিয়ে গাজার ৩০ জন সিনিয়র সামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এছাড়াও তারা রকেট, রকেট ছোড়ার যন্ত্রপাতিসহ অস্ত্র গুদামও ধ্বংস করেছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে হামাসের পরাজয়ের ‘কাগুজে দলিল’ বলে দাবি করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক। মিসরের মধ্যস্থতায় আয়োজিত যুদ্ধবিরতি, ‘নয় মাসও টিকতে পারে, নয় সপ্তাহ টিকতে পারে’ মন্তব্য করে বারাক বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙা হলে কী করতে হবে তা আমাদের জানা আছে।’