Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

প্রেসিডেন্ট নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছেন : বারাদেই : ক্ষমতা বাড়াতে মুরসির নতুন ডিক্রি জারি : মিসরে গণবিক্ষোভ

এএফপি, বিবিসি
পরের সংবাদ»
মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি তার ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে নতুন একটি ডিক্রি জারি করেছেন। বিরোধীরা এ ডিক্রিকে ‘ক্যু’ হিসেবে অভিহিত করে গতকাল তারা গণবিক্ষোভ করে। তবে মুরসির সমর্থকরা বলছে, এ ডিক্রি মিসরের ঐতিহাসিক বিপ্লবকে সুরক্ষা দেয়ার জন্যই করা হয়েছে।
মিসরে বিপ্লবের সময় হত্যাকাণ্ড চালানো এবং বিপ্লব নস্যাতের চক্রান্ত করার অভিযোগে তিনি এ বিচারের নির্দেশ দেন। নতুন ডিক্রি অনুযায়ী কোনো বিচারিক প্রতিষ্ঠান দেশটির সংসদ বিলুপ্ত করতে পারবে না।
ডিক্রিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের জারি করা কোনো আদেশ, আইন কিংবা সিদ্ধান্তকে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না এবং মিসরের সাংবিধানিক পরিষদ নতুন যে সংবিধান প্রণয়ন করছে সেটি কোনো আদালত ভেঙে দিতে পারবে না। এছাড়া মুরসি তার ক্ষমতা বলে দেশটির প্রধান কৌঁসুলিকে বরখাস্ত করেছেন এবং হোসনি মোবারকবিরোধী অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের ফের বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। এ সম্পর্কে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইয়াসের আলি বলেন, ‘বিপ্লব রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট যে কোনো ঘোষণা দিতে কিংবা পদক্ষেপ নিতে পারবেন।’ প্রেসিডেন্টের এ মুখপাত্র টেলিভিশনে মুরসির নতুন ডিক্রি পড়ে শোনান।
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট যে সাংবিধানিক ডিক্রি, আইন কিংবা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন তা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে এবং তার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। ইয়াসের আলি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট মুসরি প্রসিকিউটর জেনারেল আবদেল মেগুইদ মাহমুদকে বরখাস্ত করেছেন এবং তালাত ইব্রাহিম আবদুল্লাহকে নতুন প্রসিকিউটর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে মোহাম্মদ মুরসি যে ডিক্রি জারি করেছেন তার কড়া সমালোচনা করেছেন মিসরের বিরোধী দলের নেতা মোহাম্মদ আল বারাদেই। এই ডিক্রি জারির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কার্যত নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছেন। এদিকে, গতকাল জুমার দিন এ ডিক্রির বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো ব্যাপক গণবিক্ষোভ পালন করে। বিক্ষোভে মুরসির ক্ষমতা বাড়াতে এ নতুন ফরমানকে ‘বৈধতার বিরুদ্ধে একটি ক্যু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিরোধী দলগুলো। তারা মিসরের ‘নতুন ফারাও’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আল বারাদেই এবং অন্য বিরোধী নেতারা বলেছেন, মুরসি ক্ষমতার যে বৈধতা তার বিপক্ষে কাজ করেছেন। প্রেসিডেন্টের
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। কয়েকদিন আগে গাজায় ইসরাইল এবং হামাসের মধ্যকার সংঘাত থামানোর জন্য মুরসি সে অঞ্চলে নিজের কর্তৃত্ব খানিকটা প্রতিষ্ঠিত করলেও তার এই নতুন ঘোষণা দেশের ভেতর নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করবে। প্রেসিডেন্ট মুরসি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিষ্কার করতে এবং বিগত হোসনি মোবারক জমানার কাঠামো ভেঙে দিতেই এই নতুন ডিক্রি জারি করা হয়েছে।