Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সব কাজেই নিজেকে জড়াতে চাই না

« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
ব্যবসায়ী বনে গেছেন বলে অভিনয়ে আর আগের মতো পাওয়া যায় না শারমীন শিলাকে। তবে তিনি বলেছেন, আবার নতুন নিয়মে কাজে ফিরবেন। শারমীন শিলার সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রকিব হোসেন
প্রথমেই একটু প্রাপ্তির গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই। আপনার অভিনয় জীবনের ভালো লাগার কিছু চরিত্রের কথা বলুন না।
এই তালিকাটা অনেক দীর্ঘ, তবে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ নাটকের কথা। এ নাটকে আমি ‘রিনা’ নামের একটি মেয়ের চরিত্রে কাজ করেছি। এ চরিত্রে কাজের জন্য আমি দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শকের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছি। আর শুধু দর্শকরাই নন, নাটকের অন্য শিল্পীরাও আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন। ওয়াহিদা মল্লিক জলি, ইন্তেখাব দিনার, তাহের শিপন (নির্মাতা), দিলারা জামান, চিত্রলেখা গুহ—সবাই বলেছেন, এ নাটকে আমি অসম্ভব ভালো অভিনয় করেছি। আমি পুরোপুরি রিনা হয়ে গিয়েছিলাম। মিমি আপা (আফসানা মিমি) বলেছিলেন, এ নাটকের সবচেয়ে ভালো চরিত্র ছিল রিনা। শিলা চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিষয়টি আমার জন্য অনেক আনন্দের ছিল। তা আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিয়েছে।
আপনার অভিনয়ের প্রথম দিকে তো নির্মাতারা শুধু শহুরে চরিত্রেই আপনাকে ডাকতেন। সব চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন কীভাবে?
অভিনয়ের শুরুতে কেন যে নির্মাতারা একজন শিল্পীকে বিভিন্ন চরিত্রের জন্য পারফেক্ট মনে করেন না, বুঝি না। আমার অভিনয়ের প্রথমদিকে অনেকেই বললেন, গ্রামের চরিত্রে আমাকে মানাবে না। এটা কেন হয় জানি না। আমাদের গ্রামের মানুষ কি দেখতে সুন্দর হয় না? তাদের ফিগার কি শহরের মানুষদের মতো নেই? এজন্য আমার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল যে, আমি নিজেকে ভেঙে সব ধরনের চরিত্রে কাজ করব। আমি তা পেরেছিও। আসলে ভেতরে জেদ থাকলে সবকিছু সম্ভব। তবে জেদটা ভালো কাজে লাগতে হবে।
এখন তো স্ক্রিপ্ট ছাড়াও কাজ হয়। কখনও কখনও নাটকের সেটেই শিল্পীকে স্ক্রিপ্ট দেয়া হয়। এ ধারার কাজ কীভাবে করেন?
স্ক্রিপ্ট ছাড়া কাজ করতে কষ্ট হয়। স্ক্রিপ্ট থাকলে কাজের লাইনআপটা পেয়ে যাই। কিন্তু স্ক্রিপ্ট ছাড়া নির্মাতারা যখন ডায়ালগ মুখে বলেন, তখন তা অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। এতে আমার সহশিল্পী ও আমার, দুজনেরই সমস্যা হয়। কারণ, আমার সহশিল্পী যদি আমাকে ঠিকমত ‘কিউ’ না দেয়, তাহলে আমি কিন্তু বলতে পারি না। স্ক্রিপ্ট ছাড়া কাজ করতে গেলে আমার কাছে অনেক প্রেশার লাগে যে, আমি বোধ হয় মাথায় নিতে পারছি না। আমার মনে হয়, কোনো কাজের আগে তার একটা স্ক্রিপ্ট থাকা উচিত। আর তা শিল্পীদের আগেই জানানো উচিত। স্ক্রিপ্ট ছাড়া কাজে একটি সিকোয়েন্সের আগে কী হলো, পরে কী হবে—তা আমরা জানতে পারছি না। অন্ধের মতো কাজটা করতে হয়।
এরই মধ্যে নতুন কী কাজ করলেন?
মঈন খান রুপীর একটি ধারাবাহিকের কাজ করেছি। নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। ধারাবাহিকটিতে আমি এমন একটি মেয়ের চরিত্রে কাজ করেছি, যার স্বামী ঘরজামাই। আমার চরিত্রটিও মজার। কাজ করে আরাম পেয়েছি।
এখন অভিনয় অনেক কম করেন। ব্যবসায়ী হতে গিয়ে নিজের শিল্পী সত্তাকে আগের চেয়ে ছোট করে ফেলছেন না?
কিছুটা হচ্ছে। তবে এখন আমি আমার প্রতিষ্ঠান ‘শিলা’স মেকওভার-এ বেশি সময় দিচ্ছি। ব্যবসাটা আরেকটু গোছানো হলেই আবার নাটকের কাজটা বাড়িয়ে দেব। অভিনয় কম করছি বলে তা আমাকেও একটু পোড়ায়। কিন্তু যখন যে কাজটা করি, তা ভালো করে করি বলেই অভিনয়ে এখন সময় কমে গেছে।
গেল ঈদের অনুষ্ঠানে তো আপনার কোনো নাটক প্রচার হয়নি।
কাজ করার সুযোগ করে উঠতে পারিনি। তাছাড়া অনেক দিন ধরেই তো কাজ করছি। এখন অনেক বেছে বেছে কাজ করতে চাই। সব কাজেই নিজেকে জড়াতে চাই না। আগে মাসে ২০-২৫ দিন শুটিং করতাম। এখন আর তা হবে না। ভাবছি, মাসে ৬/৭ দিন কাজ করব।
আচ্ছা, আপনি পার্লার ব্যবসায়ী। এ কাজে আপনার প্রশিক্ষণ কী?
আমি প্রশিক্ষণ নিয়েই কাজ শুরু করেছি। পার্লারে আসা বিশেষ বিশেষ কাজ আমিই করি। শিলা’স মেকওভারের এখন দুটি শাখা। একটি মোহাম্মদপুরে, অন্যটি উত্তরায়। কিছুদিন আগেও আমি একটি ওয়ার্কশপ করেছি। হল্যান্ড ও স্পেন থেকে দুটি বিশেষজ্ঞ টিম এসেছিল এ দেশে। আমি তাদের কাছ থেকে ত্বকের সৌন্দর্য বিষয়ক অনেক কিছু শিখেছি।
আপনার মেয়ে হৃদিকার খবর কী? ওকে তো আর অভিনয়ে দেখা যায় না।
হৃদিকা এখন সেভেনে পড়ে। আমি চাই এই সময়টা ও পড়াশোনা নিয়েই কাটাক। এ কারণে নতুন কোনো কাজে ওকে দিচ্ছি না। অভিনয়ের অনেক সময় পাওয়া যাবে। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি সে নাচটা করে।