Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শ্রমিকের টাকা সরকারদলীয় নেতাকর্মীর পকেটে

এএইচ সেলিম উল্লাহ, উখিয়া (কক্সবাজার)
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মসৃজন প্রকল্পের নামে চলছে ব্যাপক লুটপাট। কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজে খেটে খাওয়া লোকজনকে নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকের তালিকায় সরকার দলীয় লোকজনের নাম তুলে গরিবের টাকা নিয়ে যাচ্ছে আ’লীগ নেতাকর্মীরা। কর্মসৃজনের শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করার কথা থাকলেও মাত্র ২ দিন কাজ করে ৫ দিনের টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এসব অপকর্মে সহায়তা করে আসছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালনাকারী কতিপয় লোকজন। খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলম এসব অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে একাধিক শ্রমিক জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নের অনুুকূলে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রাণালয়। প্রতিজন শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমের বিনিময়ে গড়ে ১৭৫ টাকা মজুরিতে ৫ ইউনিয়নের ২ হাজার ৫৯২ জন কর্মক্ষম নারী-পুরুষ শ্রমিক কর্মসৃজন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ৭৮২ শ্রমিকের জন্য ৫৪ লাখ ৭৭৪ হাজার টাকা, জালিয়া পালং ইউনিয়নের ১০ প্রকল্পের বিপরীতে ৫০০ শ্রমিকের জন্য ৩৫ লাখ টাকা, পালংখালী ইউনিয়নের ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৬০ শ্রমিকের জন্য ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, রত্না পালং ইউনিয়নের ৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৫০ শ্রমিকের জন্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার ও হলদিয়া পালং ইউনিয়নের ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ৬০০ শ্রমিকের জন্য ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। একজন শ্রমিক দৈনিক ১৭৫ টাকা করে মজুরি পাবেন। কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করে তার প্রাপ্য টাকা উত্তোলন করার কথা রয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর থেকে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও প্রতি সপ্তাহে ৫ দিন কাজের মধ্যে ২ দিন কাজ করেছে বলে জালিয়া পালং ও রাজাপালংয়ের শ্রমিক আবু ছিদ্দিক, ফারুক আহামদ সাংবাদিকদের জানান। এ চিত্র রত্নাপালং, হলদিয়া, পালংখালী ইউনিয়নেও। নামেমাত্র মাস্টার রোল করে সরকার দলীয় লোকজনের নাম ব্যবহার করে কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা লোপাটের মহোত্সব চলছে। এদিকে এ ব্যাপারে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের দাবি, কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ সুন্দরভাবে চলছে।
গত দুদিন উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল খাল কাচা পাড়া থেকে পিনজি সড়ক, পিনজীরকুল ঘোনার পাড়া রাস্তা, কবরস্থান, উত্তর পুকুরিয়া কামারিয়ার বিল, দক্ষিণ পুকুরিয়া খাল কাচা ও চেংখোলা, পালংখালী ইউনিয়নের চাকমাপাড়া, ফারিরবিল, রহমতের বিল, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া, গুরাইয়ার দ্বীপ, হলদিয়া-পাতাবারী, নাপিতপাড়া, বউবাজার, রত্নাপালং ইউনিয়নের গয়ালমারা, ভালুকিয়া, মাতবরপাড়া, তেলীপাড়া ঘুরে শ্রমিক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রথম ২ দিন প্রকল্পগুলোতে বেশিরভাগ তালিকাভুক্ত শ্রমিকের অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু পরে ইউপি সদস্যরা সরকারি প্রকল্পের কাজ স্থগিত ঘোষণা করেছে মর্মে শ্রমিকদের আর কাজ করতে হবে না বলে তাড়িয়ে দেয়। শ্রমিকদের প্রথমে ২ দিনের টাকা দিলেও ব্যাংক থেকে বাকি টাকা দেয়া হয়নি এ পর্যন্ত।
এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুজিবুল হক আযাদ জানান, কোথাও কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে না। শুধু কাজ দেখিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়া হচ্ছে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লাখো টাকা।
উখিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীরা কাজ না করে লুটপাট করলে আমার কিছুই করার নেই। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আর কেউ কোনো অভিযোগও আমার কাছে করেনি এখন পর্যন্ত। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি যোগদান করেছেন। এ পর্যন্ত কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তিনি পাননি এবং পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে যোগ করেন তিনি।