Amardesh
আজঃঢাকা, শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯, ৯ মহররম ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২.০০টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিক
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

ফসলের ক্ষতিতে উদ্বিগ্ন চাষীরা : রোগাক্রান্ত আমন ক্ষেত

স্টাফ রিপোর্টার
পরের সংবাদ»
দেশের বিভিন্ন স্থানে রোগ ও পোকার আক্রমণের শিকার আমনের ক্ষেত। কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষীরা। এতে চলতি মৌসুমে খরচ তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমন ধান পঁচারী ও খোলপচা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়েছে। পঁচারী রোগে আক্রান্ত ধান ক্ষেতে থোড় আসেনি, ধানও বের হয়নি। ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন কৃষক। ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে চাষীরা বালাইনাশক ও কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করেও রক্ষা পাচ্ছেন না। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির বেশকিছু রিপোর্ট আমাদের কাছে এসেছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকাশ করা হলো।
আমাদের সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি মিজানুর রহমান রাঙ্গা জানান, পর্যাপ্ত সার, সেচ ও যত্ন নেয়ার পরও পঁচারী রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি চাষীরা। ধান ক্ষেতে ৫-৬ ফুট পরপরই গোলাকার হয়ে আমন পচে গেছে। এসব ধান গাছে থোড় আসেনি, ধানও বের হয়নি। কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন কৃষক। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমন ধানের বেশিরভাগ জমির এমনি অবস্থা। ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। সরেজমিন উপজেলার ভরতখালী, শ্যামপুর, কুখাতাইড়, মান্দুরা, মুক্তিনগর, পদুম শহর, গাছাবাড়ী, দলদলিয়া, রামনগর, দুর্গাপুর, অনন্তপুর, বাটীসহ প্রত্যন্ত পল্লীতে দেখা গেছে, এবার আমন ধানের অনেক জমিতে এই পঁচারী রোগ ধরে নষ্ট হয়ে গেছে ধান গাছ। কৃষকরা জানান, আমন রোপণের পর দেড় মাসেও এ রোগের লক্ষণ ছিল না। ঠিক যখন থোড় আসার সময় তখন জমির মাঝে মাঝে লালচে বর্ণ ধারণ করে পচন ধরতে থাকে। এই পচন যে স্থানে ধরে তা চতুরদিক দিয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট গোলাকারের মতো হয়ে নষ্ট হয়। আক্তান্ত ধান গাছে থোড় আসে না। ধানের জমির এমন অবস্থা উপজেলার পশ্চিমবাটি গ্রামে বেশি। ওই গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী তার বাড়ির পেছনে আড়াই বিঘা জমিতে গুটি স্বর্ণা ধান লাগিয়েছেন। জমির অধিকাংশ স্থানের ধান ফুলে বের হয়ে পাকা শুরু হলেও পঁচারী ধরা প্রায় ২০টি স্থান ও আশপাশের ধান গাছ মরে যাচ্ছে। এমন আক্রান্ত স্থানের ধান গাছ কেটে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে বলে জানালেন ওই কৃষক। একই সমস্যার কথা জানালেন কৃষক আজিজার রহমান। পানির কারণে এমনটা হতে পারে মনে করে পর্যাপ্ত সেচ ও সার প্রয়োগ করেও কোনো ফল হয়নি বলে জানালেন একই এলাকার কৃষক আফছার আলী ও সাহারুল ইসলাম। এ ব্যাপারে কথা হলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, ধান গাছের এ রোগের নাম মিলিবাগ রোগ। প্রতিকূল আবহাওয়া ও খরার কারণে এক প্রকার পোকার আক্রমণে আমন ধান গাছের এমন রোগ হতে পারে বলে জানান তিনি।
জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, পিরোজপুরের জিয়ানগরে বিভিন্ন এলাকায় এ বছর আমন ক্ষেতে খোলপচা রোগের প্রাদুর্ভাব প্রভাব দেখা দিয়েছে। অপরদিকে তেমনি আবার পানির সঙ্কটের কারণে ভুগছেন কৃষকরা। দিন দিন ক্ষেতের পর ক্ষেত এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকরা আমন চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা জায়, চলতি মৌসুমে এ বছর ৬ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করছে। আর ধানের উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জিয়ানগরসহ আশপাশ এলাকায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনে রোদ আর রাতে কুয়াশা পড়ার কারণে কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়ায় আমন ক্ষেতে বিভিন্ন পোকা ও রোগবালাই দেখা দেয়ায় কৃষকরা ধান ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। উপজেলা কৃষিবিদ অমিতাব মণ্ডল জানান, উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে মাত্র এক হেক্টর জমিতে মাজরা ও খোলপচা রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তার চেয়ে বেশি সমস্যা হলো পানি। পানির অভাবের কারণে এ বছর এ উপজেলায় আমন ধান অনেক কম হবে বলে তিনি ধারণা করেন। অপরদিকে স্থানীয় কৃষক মো. আনোয়ার, আ. আলী শেখ জানান, ধান ক্ষেতগুলোতে আগাম খোলপচা রোগ ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ততই বাড়ছে। এ অবস্থায় ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে কৃষকরা মনে করেন। আবার অপরদিকে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে কৃষকরা বিপাকে দিন কাটাচ্ছেন।
পটিয়া (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি) জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের গুচ্ছায় পাতা মরা, পাতা লাল হওয়া, মাজরা পোকাসহ ধানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধানের আমন মৌসুমে উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় উফশী ও স্থানীয়ভাবে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এলাকায় আমন আবাদ করেছেন প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ কৃষক। উপজেলা জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের নাইখাইন এলাকায় দেখা গেছে, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ধানের পাতা মরা, পাতা লাল, মাজরা পোকায় আক্রান্ত হয়ে ধানের চারা মরে যাচ্ছে। এর মধ্যে উপজেলার বড় উঠান, জুলধা, শিকলবাহা, চরপাথরঘাটা, চরলক্ষ্যা, জিরি, কোলাগাঁও, কুসুমপুরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, বড়লিয়া, হাবিলাস দ্বীপ, জঙ্গলখাইন, পটিয়া পৌরসভা, ছনহরা, ভাটিখাইন, কচুয়াইন, খরনা, শোভনদী, হাইদগাঁও, কেলিশহর, ধলঘাট, দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের চারায় রোগ দেখা দিয়েছে। আমন ধানে রোগ দেখা দেয়ায় উপজেলার হাজার হাজার কৃষক পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছে। পটিয়া উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এলাকার কৃষকরা আমন চাষ করে সারা বছরের খাদ্যশস্য মজুত করে। এ বছর ধানে রোগ হওয়ার কারণে অন্য বছরের তুলনায় খাদ্য ঘাটতি অনেক বাড়তি হবে বলে মনে করেন।
উপসহকারী কৃষি অফিসার আশীষ কুমার দাস আমার দেশকে বলেন, ধানের জমিতে ভিটামিন ও সারের অভাবেও বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে পটাশিয়াম (লাল সার) পরিমাণে কম হলেও ধানের বিভিন্ন রোগবালাই হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।